শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৯ এম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯

হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট ৯ শিশুর মৃত্যু হলো।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ১৭ মার্চ নেত্রকোনা সদর থেকে আনা ৩ মাস বয়সী আদিবা নামের এক শিশুকে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকাল ৮টার দিকে হামের লক্ষণ, নিউমোনিয়া, তীব্র অপুষ্টি ও হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতায় তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া গত ১৮ মার্চ ত্রিশাল থেকে ৮ মাস বয়সী আরেক শিশুকে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি করা হয়। বুধবার ওই শিশুটিও সন্দেহভাজন হাম, জন্মগত হৃদরোগ, বৃদ্ধি ব্যর্থতা এবং হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতায় মারা যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৬ শিশু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ১৭ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩২৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে আরও ২৬ শিশু।

হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে, তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা:

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না হলে জটিলতা বাড়তে পারে। অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, চোখ লাল হওয়া, শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা পুলিশ

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্য, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পূজার প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

অষ্টগ্রামে পীরের বাড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা শরিফের তিনতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
অষ্টগ্রামে পীরের বাড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা শরিফের তিনতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অষ্টগ্রাম উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ব অষ্টগ্রাম পীরের বাড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা শরিফের তিনতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পীরের বাড়ি দরবার শরিফের গদিনশীন পীর আলহাজ ফজলুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবিত্র আল-কোরআনের কাব্যিক অনুবাদক আলহাজ মোহাম্মদ তৈয়ব আলী ও আলহাজ শাফিউদ্দিন সরদার।

এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় মুরুব্বি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

সাদ্দাম হত্যা মামলা নিয়ে ময়মনসিংহে তীব্র সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
সাদ্দাম হত্যা মামলা নিয়ে ময়মনসিংহে তীব্র সমালোচনা

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া উত্তরপাড়ায় সাদ্দাম হোসেন হত্যা মামলায় আসামি করার ধরন নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার তথ্য না থাকা সত্ত্বেও রাফেল নামে এক ব্যক্তিকে মামলার ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলার আসামির সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আকুয়া উত্তরপাড়ায় নিজ ঘরে সাদ্দাম হোসেন খুন হন। এ ঘটনায় পরে তাঁর মা আছমা খাতুন (৫৬) বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৭ অক্টোবর রুজু হয়; মামলা নম্বর ৩৬।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় সাদ্দামের সঙ্গে একই ঘরে ছিলেন অন্তর নামের এক ব্যক্তি। তাদের দাবি, ঘটনার পর এলাকাবাসী অন্তরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সে সময় অন্তর একাই সাদ্দামকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন এমন দাবিও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

তবে হত্যা মামলায় শেষ পর্যন্ত পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাফেলকে আসামি করা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তি কিংবা মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে রাফেলের এমন কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের তথ্য তারা জানেন না।

মামলার এজাহারে বাদী আছমা খাতুন অভিযোগ করেন, রাফেল অপরাপর আসামিদের দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ লাগাতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের সূত্র ধরেই রাফেলকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, পূর্ববিরোধের অভিযোগ থাকলেই কি একজন ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় আসামি করা যায়? তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দেওয়া অভিযোগের ধরন ও আসামির সংখ্যা একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। কখনো নয়জন, কখনো ছয়জন এবং সর্বশেষ পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগ দেওয়া হয় বলে তাঁরা দাবি করেন। এরপর পুলিশ নিয়মিত মামলা রুজু করে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার সময় ঘরে তিনজনের বেশি ব্যক্তি ছিলেন না। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম ও অন্তর মাদক সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অন্তরের স্ত্রীর সঙ্গে সাদ্দামের আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং পরে সাদ্দামকে হত্যা করা হয়। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন, হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল এবং মামলায় পাঁচজনকে আসামি করার ভিত্তি কী এসব বিষয় তদন্তে পরিষ্কার হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনাটি নিয়ে নগরীতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্দোষ কেউ আসামি হয়ে থাকলে তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।