মিঠামইনে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী কোহিনুরের সন্ধান মেলেনি, হত্যার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর (১৬)-এর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১১টায় মিঠামইন সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেন মিঠামইন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারি কলেজ, হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
নিখোঁজ কোহিনুরের মা নাহার বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়েকে হৃদয় নামে এক যুবক হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।
জানা যায়, তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর গত শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় তাঁর মা নাহার বেগম মিঠামইন থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
কোহিনুর মিঠামইন হেলিপ্যাড সংলগ্ন মাইনুদ্দিনের কলোনিতে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা মৃত ফজলু মিয়া।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিবেশীরা কোহিনুরকে অটোরিকশাচালক হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয়ের সঙ্গে কোহিনুরের পূর্বপরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান।
নাহার বেগম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি না ফেরায় তিনি প্রাইভেট শিক্ষিকা কমল ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন জানতে পারেন, সেদিন কোহিনুর প্রাইভেটে যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
এদিকে সোমবার (২৯ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে হামিদপল্লীর পেছনে স্থানীয় লোকজন একটি মরদেহ ভাসতে দেখার দাবি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। কোহিনুরের মা দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা মরদেহটি তাঁর মেয়ের। তবে নদীর স্রোতের কারণে এখনো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হৃদয় নামে এক অটোরিকশাচালককে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।











