বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ২টায় নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল কইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবউদ্দিন।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুল হাসান এমরুল, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুজন এবং এনসিপির ময়মনসিংহ জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দেশের চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যুতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

ফল প্রকাশের পর নিখোঁজ, দুই দিন পর অগভীর পুকুরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
ফল প্রকাশের পর নিখোঁজ, দুই দিন পর অগভীর পুকুরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর বদরুন্নাহার সীমা (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির অদূরের একটি পুকুরে মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পুঙ্গায়াই পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত বদরুন্নাহার সীমা ওই গ্রামের বদরুজ্জামান বকুল ও বেবি আক্তারের মেয়ে। সে পুঙ্গায়াই উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল সীমা।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় সীমাকে বকাঝকা করেন তার মা। ওই দিন দুপুর ১২টার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে। তখন তার মা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল সীমা।

পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। অবশেষে বুধবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরের একটি পুকুরে স্থানীয়রা তার মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পুকুরটিতে পানির গভীরতা ছিল আনুমানিক ২ থেকে ৩ ফুট। এমন অগভীর পানিতে সীমার মৃত্যু কীভাবে হলো, তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা বদরুজ্জামান বকুল বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছেন তারা। পরীক্ষায় খারাপ করায় মন খারাপ করে হয়তো কারও বাড়িতে চলে গেছে এমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু এভাবে মেয়ের মরদেহ দেখতে হবে, তা কল্পনাও করেননি। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, কিছুই বুঝতে পারছেন না তিনি।

তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলাল উদ্দিন বলেন, নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরের একটি পুকুরে ২ থেকে ৩ ফুট পানির মধ্যে মরদেহটি পাওয়া গেছে। পুকুরের পানির গভীরতা বিবেচনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে সুরতহালে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তরুণীর মরদেহ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুতই বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।

ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি শিবিরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি শিবিরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।

অদ্য ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পুলিশ লাইন্স, ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত জেলার মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভায় তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

মেধা, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ অর্জন করেছেন।

দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।

তাঁর এ অর্জনে পুলিশ বিভাগের সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন। কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এ সম্মাননা তাঁকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি হিসেবে ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের এ অর্জনে রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।

ময়মনসিংহে পুলিশের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার একটি মামলার তদন্ত ও আদালতে দেওয়া চার্জশিটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল নগরীর ভাটিকাশর মিশন স্কুলের সামনে থেকে কৃষ্টপুর রোড পর্যন্ত হকিস্টিক, লাঠি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল কিশোরের শোডাউনের অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও জনমনে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয় বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে কিশোরগ্যাং সদস্য তপু হাসানকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর-৭৪, তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২৬।

মামলার এজাহারে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে মেরাজকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই শেষে মেরাজকে চার্জশিটে ৪ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

এদিকে, গত ৩ আগস্ট মেরাজকে নির্দোষ দাবি করে তার বাবা আব্দুল হাকিম ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে তিনি তার ছেলেকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে ওই অভিযোগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হলে পুলিশের তদন্ত ও চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা কিংবা চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো অফিসার ইনচার্জের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ঘটনাস্থলের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

পুলিশ আরও বলছে, কারও অভিযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে তদন্তের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ না করে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের উপাদান যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।

তবে আব্দুল হাকিমের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এবং অভিযোগের বিস্তারিত বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও পুলিশের তদন্তের যথার্থতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।