বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

ভেঙে ফেলা হচ্ছে ময়মনসিংহের আদি বিনোদন কেন্দ্র পূরবী সিনেমা হল

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫, ৩:১৬ এম
ভেঙে ফেলা হচ্ছে ময়মনসিংহের আদি বিনোদন কেন্দ্র পূরবী সিনেমা হল

একটা সময় ময়মনসিংহ নগরীর জনপ্রিয় ও উৎসব মুখর বিনোদন কেন্দ্র বলতে পূরবী সিনেমা হলকে বুঝাতো কিন্তু কালের বিবর্তনে প্রযুক্তির আধুনিকতায় আজ সেটি জন মানবহীন হয়ে পড়েছে। কোনো সিনেমা চালাতে গেলে লাভ তো দূরের কথা মেইনটেন্যান্স খরচ উঠানোই দুষ্কর। তাই ভেঙে ফেলা হচ্ছে নগরীর প্রাচীনতম এই সিনেমা হলটি।

বেশির ভাগ অংশের ভাঙার কাজ শেষ, সামনের অংশটুকু গুঁড়িয়ে দিলেই আর চেনা যাবে না ময়মনসিংহ নগরীর পূরবী সিনেমা হলটি। এই বিনোদন কেন্দ্র ভাঙতে দেখে কৈশোরের স্মৃতিচারণ ও আক্ষেপ করেন ওই এলাকাসহ আশেপাশের বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দাগণ।

মালিক পক্ষ জানায়, কয়েক বছর ধরে প্রতি শোতে পাঁচ-সাতজন দর্শক হয়। অনেক সময় দর্শক না থাকায় শো বন্ধ থাকে। দিনের পর দিন স্টাফ খরচও না ওঠায় হল ভাঙার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সেখানে বহুতল ভবন করে দর্শক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনে পূরবী সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

অনেকে বলছেন, আগেও যতগুলো সিনেমা হল ভাঙা হয়েছে কর্তৃপক্ষের ছিল একই উছিলা। সিনেপ্লেক্সের জায়গায় হয়েছে মোবাইল, প্রসাধনীর জমকালো দোকান। এর আগে ২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর অলকা, অজন্তা, ছায়াবাণী ও পূরবী সিনেমা হলে একজোগে বোমা হামলা হয়। এর পরই মূলত সিনেমা হলগুলোয় দর্শকসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমতে থাকে। করোনার পর থেকে সেই সংখ্যা আরও বাড়ে। হলের নিচতলায় ৭০০ আসন, দ্বিতীয় তলায় ডি চেয়ার ছিল ৩২০টি এবং বক্স ছিল ২০টি। এ ছাড়া মানসম্মত সিনেমা তৈরি না হওয়ায় দর্শক হারিয়েছে সিনেমা হলগুলো।

গতকাল রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, ৮-১০ জন শ্রমিক দেয়াল ভেঙে ইট, পাথর ও লোহা সরানোর কাজ করছেন। শ্রমিক মুকুল মিয়া বলেন, ‘গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে হল ভাঙার কাজ শুরু করেছি। দৈনিক গড়ে ১২-১৪ জন শ্রমিক কাজ করছি। প্রথম-দ্বিতীয় তলার ছাদ এবং দেয়াল ভাঙা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভাঙতে আরও কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে।’

ঠিকাদার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘১৫ লাখ টাকায় পূরবী সিনেমা হলের পুরাতন মালপত্র ক্রয় করেছি। আমরা সেগুলো ভেঙে এখন জায়গা খালি করছি। সব মিলিয়ে আমাদের চার মাস সময় লাগবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা জলিল মিয়া জানান, এই হলটি দেখতে দেখতে বড় হয়েছেন তারা। এক সময় সিনেমার জোয়ার ছিল। তাই মানুষ হলের আশপাশে অনেক ভিড় জমাত। এখন ছবি না চলার কারণে মালিকপক্ষ হল ভাঙছে। এতে খারাপ লাগলেও মালিক তো আর বছরের পর বছর লোকসান গুনবেন না।

পূরবী সিনেমা হলের ম্যানেজার মোখতার হোসেনের ভাষ্য, দেশের নামকরা কয়েকটি হলের একটি ছিল পূরবী। স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর আগে হলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তখন ভালো ভালো ছবি নির্মিত হওয়ায় হলভর্তি দর্শক হতো। বিশেষ করে করোনার পর হলের দর্শক একেবারে ধস নামে। তিনি বলেন, ‘সবশেষ এক মাস আগে আমরা এক বুক জ্বালা ছবিটি চালিয়েছিলাম। আমার কিছু আর জানা নেই।’

 

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত।

আজ (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।

টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪টি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এই সময়ে জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবি-র মতে, সরকার পতনের পর আগে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি ঘটনায় (৯১ দশমিক ৭ শতাংশ) বিএনপি, ১২৪টি ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ (২০ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ৪৬টি ঘটনায় (৭ দশমিক ৭ শতাংশ) জামায়াতে ইসলামী সম্পৃক্ত ছিল।

টিআইবি জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ৪০১ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৩৩ অস্ত্র নিখোঁজ ছাড়াও ডিপফেক ও ভুল তথ্যের বাড়তি হুমকি, সংখ্যালঘুদের ওপর পঞ্চাশের বেশি হামলার ফলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৬৭ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫৫ কোটি ডলারে নেমে আসে। যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ময়মনসিংহে অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ সফরকালে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তিনি নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে ও পরে সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রিশালে প্রস্তাবিত ‘অলিম্পিক ভিলেজ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, অলিম্পিক ভিলেজ আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।