শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে অনন্য রেকর্ড ময়মনসিংহের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মানিকের!

মো. আনোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে অনন্য রেকর্ড ময়মনসিংহের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মানিকের!

সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলি হওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে হয়তো এই নিয়ম যেন কেবলই কাগুজে এক বিধান। এমনই এক বিস্ময়কর নজির সৃষ্টি করেছেন ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (ডিআরএস) ডাঃ মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান মানিক।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট তিনি তার বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করেন। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে গেছে দীর্ঘ ১০টি বছর। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, নীতিমালায় এসেছে রদবদল, কিন্তু ডাঃ মানিকের চেয়ারটি যেন কোনো অদৃশ্য জাদুমন্ত্রে নিজ স্থানেই অটল হয়ে আছে।

একই কর্মস্থলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করা কেবল অস্বাভাবিকই নয়, বরং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালা নিয়ে জনমনে তীক্ষ্ণ প্রশ্নের উদ্রেক করে। যেখানে অন্যান্য চিকিৎসকদের ঢাকার বাইরে বা দুর্গম এলাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এই কর্মকর্তার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের নেপথ্যে কোন ‘আলাদিনের চেরাগ’ কাজ করছে?

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত তিন বছর অন্তর বদলির বিধান থাকলেও ডাঃ মানিকের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যত্যয় কেন? এটি কি নেহাত প্রশাসনিক শিথিলতা, নাকি বড় কোনো অনিয়মের ঢাকা পড়া অংশ? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদী বদলি নীতিমালার সুফল কি কেবল সাধারণ চিকিৎসকদের জন্যই, প্রভাবশালীদের জন্য নয়?

একই চেয়ারে ১২ বছর অতিবাহিত করা এই অপ্রতিরোধ্য মেডিকেল অফিসারের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগে কানাকানি তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং প্রশাসনের স্থবিরতা ভাঙতে দ্রুতই এই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ ব্যবস্থার অবসান ঘটবে।

এসংক্রান্তে ময়মনসিংহের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ প্রদীপ কুমার সাহা জানান, “এবিষয়টি উনি অবগত আছেন। দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‎হালুয়াঘাটে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

রনি বসু।। প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
‎হালুয়াঘাটে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম

‎ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের পুনর্বাসনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অযোগ্য ও বিতর্কিতদের অবৈধ সুবিধা দিয়ে ডিলারশিপ প্রদান এবং প্রকৃত স্বচ্ছ ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে বিচার বিভাগীয় অথবা নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়।

‎শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাইমুর আরেফিন পাপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. কাজিম উদ্দিন, আশিকুল ফারহান তকী, এমেলি খান শাওন, সাফায়েত হোসেন প্রমুখ।

‎সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। এতে বিতর্কিত ব্যক্তি ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয় যে, সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে একটি বিশেষ প্রশাসনিক চক্রের যোগসাজশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গকে অবৈধভাবে ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রার্থীর গুদামজাতকরণ সক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং স্থানীয়ভাবে সুনামের বিষয়সমূহ যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।

‎বক্তারা বলেন, আইনের তোয়াক্কা না করে গোপনীয়তা বজায় রেখে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত এবং প্রশাসনিকভাবে চিহ্নিত সুবিধাবাদী। এই ধরনের নিয়োগ আইনের শাসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

‎বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত আইনের দৃষ্টিতে প্রারম্ভিকভাবেই বাতিলযোগ্য। অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকা বাতিল না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়েরসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

‎এদিকে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে আইনগত প্রশ্ন ওঠায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় কৃষিভিত্তিক প্রান্তিক কৃষকরাও। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এই নিয়োগ তালিকা স্থগিত করে অবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আইনি পথ খোলা নেই।

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ভাইরাল খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াজ গ্রেফতার

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম
মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ভাইরাল খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াজ গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় অবশেষে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ মনোয়ার মোহাম্মদের একটি আইডি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ছবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মিঠামইন উপজেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ভাইরাল খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, মিঠামইন থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তার সাথে হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই যুবক। এরাই অভিযুক্ত খোকা ও রিয়াজ। সাদা শার্ট পরিহিত অপর একজনকেও ছবিতে দেখা যাচ্ছে।তিনি হলেন মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ মনোয়ার মোহাম্মদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে খোকা ও তার ভাতিজার নাম সামনে আসে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এলাকাবাসী এই গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা পুলিশ

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্য, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পূজার প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।