অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ
সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ, পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও অর্থ ফেরতের দাবি
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ), জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগটি করেছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘাডোবা গ্রামের বাসিন্দা এবং অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য প্রকৌশলী মো. লিয়াকত আলী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায়ের বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলে তিনি কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হন। পরে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরতের আবেদন জানানো হয়।
অভিযোগে পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—প্রভাষক (ইংরেজি) মো. মাহফুজুল আলম রাসেল, প্রভাষক (সমাজকল্যাণ) মো. শাহজাহান মিয়া, প্রভাষক (ইসলামের ইতিহাস) মো. শফিকুল ইসলাম, প্রভাষক (ভূগোল) মো. মিজানুর রহমান ফকির এবং হিসাবরক্ষক মো. রুহুল আমিন।
তবে অভিযোগের বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে কলেজের নিজস্ব ‘সুনির্দিষ্ট জবাবনবন্দি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন’ ঘিরে। ওই প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উল্লেখ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এরপরও ওই নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘পুনঃভর্তি ফি’ বা অবৈধ অর্থ আদায় করেছেন বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে একই পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁরা কলেজের প্রধান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত না করে প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। আদায় করা অর্থ কলেজের অনুমোদিত হিসাব বা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে রাখা হয়ে থাকলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর্থিক নীতিমালার লঙ্ঘন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের নথিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নথিপত্রে দেখা যায়, অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান, কলেজ শাখার পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারী প্রকৌশলী মো. লিয়াকত আলী বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে নাম থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।





