সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতে জাল দলিল দাখিলের অভিযোগে আদালতই বাদী

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম
আদালতে জাল দলিল দাখিলের অভিযোগে আদালতই বাদী

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে আদালতে জাল দলিল দাখিলের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মিঠামইন সহকারী জজ আদালত। আদালত নিজেই বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় ইটনা উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের স্বর্গহাত কবিলা গ্রামের আমিনুল হক ও নান্নু মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে কামাল মিয়া গং মিঠামইন সহকারী জজ আদালতে আমিনুল হক, নান্নু মিয়া ও শহীদ মিয়া গংয়ের বিরুদ্ধে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৩/২০১৮।

মামলায় বিবাদী আমিনুল হক ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে ২৬৪ নম্বর একটি দলিল দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে ওই দলিলের মূল কপি দাখিল না করে ভিন্ন আরেকটি দলিল আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ওই দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা পাওয়ার দাবিতে আদালতে জবানবন্দিও দেন তিনি।

পরে বাদীপক্ষ দাখিল করা দলিলটি জাল ও ভুয়া দাবি করে সংশ্লিষ্ট বালাম বহি তলবের আবেদন করে। আদালত বালাম বহি তলব করলে দাখিল করা দলিলটির কোনো রেকর্ড সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও তদন্তের পর দলিলটি জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মিঠামইন সহকারী জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাবির আহম্মদ বাদী হয়ে আমিনুল হক ও নান্নু মিয়ার বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটির সিআর নম্বর ৪৯৩(১)/২৬। এতে দণ্ডবিধির জালিয়াতি ও প্রতারণাসংক্রান্ত ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের বিচারাধীন মামলায় জাল বা ভুয়া দলিল দাখিলের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আদালত নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির প্রবণতা কমাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

এ ঘটনায় মিঠামইনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার আসামিপক্ষের দাবি বা বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ারও আওতাধীন রয়েছে।

নিতাই সার্জিক্যালে নকল ওষুধের অভিযোগ, ছড়াচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
নিতাই সার্জিক্যালে নকল ওষুধের অভিযোগ, ছড়াচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ত দুর্গাবাড়ি রোড। এই এলাকার ‘নিতাই সার্জিক্যাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠেছে নকল ও মানহীন ওষুধ বিক্রি ও সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এসব ওষুধ শুধু ময়মনসিংহেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে।

প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিতাই পাল নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিতাই সার্জিক্যালের কার্যক্রম এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিডিওচিত্রে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধ দেখা যায়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নকল কিংবা মানহীন ওষুধ বাজারে প্রবেশ করলে এর সরাসরি ঝুঁকিতে পড়েন সাধারণ রোগীরা। কারণ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে রোগীর চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। আর অভিযোগ অনুযায়ী এসব ওষুধ যদি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে, তাহলে ঝুঁকির পরিধি আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, নিতাই সার্জিক্যালে বিক্রি বা মজুত থাকা ওষুধ আদৌ নকল কিংবা মানহীন কি না, সেটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি। ফলে কেবল অভিযোগ বা ভিডিওচিত্রের ভিত্তিতে ওষুধকে নকল ঘোষণা না করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে পারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ওষুধের নমুনা সংগ্রহ, ব্যাচ নম্বর ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই এবং পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এসব ওষুধ কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের ক্ষেত্রে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পর্যায়ে নকল বা অননুমোদিত ওষুধ বাজারে ঢুকে পড়লে তা দ্রুত শনাক্ত ও প্রত্যাহার করা জরুরি। অন্যথায় অজান্তেই রোগীদের হাতে পৌঁছে যেতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ।

এদিকে নিতাই সার্জিক্যালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা নিতাই পালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, নিতাই সার্জিক্যালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য? প্রতিষ্ঠানে থাকা ওষুধগুলোর উৎস কী? সেগুলোর বৈধতা ও মান ঠিক আছে কি না? আর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের যে দাবি উঠেছে, তারই বা সত্যতা কতটুকু?

এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঔষধ প্রশাসনের অভিযান, নমুনা পরীক্ষা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ করা ওষুধ দ্রুত বাজার থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ত্রিশালে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিলও সমাবেশ

জাকিয়া বেগম, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ত্রিশালে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিলও সমাবেশ

পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকেলে ত্রিশাল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফিরোজ নূন ও সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন শোভার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন এমপির বাসভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলটি মাদানী সিএনজি পাম্প এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ডা. লিটনের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শ্রমিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার লক্ষ্যে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কিংবা ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের জানমাল ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে জনগণের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো মহল যেন পরিকল্পিতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে ত্রিশাল উপজেলা শ্রমিক দলের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

চাকরির স্বপ্ন বাঁচাতে এক শতক জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী, রেজিস্ট্রেশন খরচও নিজের

রনি বসু।। প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ এম
চাকরির স্বপ্ন বাঁচাতে এক শতক জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী, রেজিস্ট্রেশন খরচও নিজের

মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এক তরুণ। সামনে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় জানা গেল, তাঁর বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। এতে চাকরি পাওয়া নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

পরিবারটির নিজস্ব কোনো জমিও নেই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে যখন পরিবারটি দিশাহারা, তখন পাশে দাঁড়ালেন তাঁদেরই এক প্রতিবেশী।

তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আর চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ মুসলিম।

ধর্মীয় পরিচয়ের এই ভিন্নতা তাঁদের মানবিক সম্পর্কে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ওই প্রতিবেশী নিজের জমি থেকে এক শতক জমি তরুণটির নামে বিনা মূল্যে দান করে দিয়েছেন। শুধু জমি লিখে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; দলিলের রেজিস্ট্রেশন খরচও বহন করেছেন নিজের পকেট থেকে।

গত ৪ অক্টোবর জুড়ী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারি বিধিমালা ও গোপনীয়তার কারণে আপাতত দাতা ও গ্রহীতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাটি শুধু একজন তরুণের চাকরির স্বপ্ন বাঁচানোর গল্প নয়; এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতারও এক অনন্য উদাহরণ।

একজন মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়াতে একই ধর্মের হতে হয় না, একই মতের হতে হয় না, এমনকি আত্মীয়ও হতে হয় না। প্রয়োজন শুধু মানুষের প্রতি মানুষের দায়বোধ।

এক শতক জমির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু চাকরির স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণের কাছে এর মূল্য হয়তো একটি জীবনের সমান। কারণ জমিটুকু শুধু একটি সম্পত্তি নয়—এটি তাঁর ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেওয়ার একটি সুযোগ।

আমাদের সমাজে ধর্ম, রাজনীতি ও মতাদর্শের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে যখন বিভাজন তৈরি হয়, তখন জুড়ীর এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা।

একজন হিন্দু প্রতিবেশী একজন মুসলিম তরুণের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু এক শতক জমি দেননি; তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, বিপদের সময়ে মানবতার কোনো ধর্মীয় সীমানা নেই।

জুড়ীর এই মানুষটির পরিচয় হয়তো আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু তাঁর কাজের পরিচয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হৃদয়ে।

ধর্মের পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতার ঠিকানা একটাই—মানুষের পাশে মানুষ।