সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

বিএনপি সভাপতি মানিক সওদাগরের দাবি

‘বিমানমন্ত্রী মিল্লাতের নির্দেশেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন যুবদল নেতা নজরুল’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
‘বিমানমন্ত্রী মিল্লাতের নির্দেশেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন যুবদল নেতা নজরুল’

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগরের বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বর্তমান জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শ ও নির্দেশে তাঁর ছোট ভাই নজরুল ইসলাম সওদাগর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন মানিক সওদাগর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিমানমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

মানিক সওদাগর তাঁর বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর তাঁর লোকবল ও অর্থ দিয়ে তাঁকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হতে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে নজরুল ইসলাম সওদাগর বিএনপিকে ‘বুকে ধারণ করে’ টিকিয়ে রেখেছেন।

নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়ে মানিক সওদাগর বলেন, যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, নজরুল ইসলাম সওদাগরকে তিনটি হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্র করে আসামি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা নথি উপস্থাপন করা হয়নি।

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদানের তথ্য

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম সওদাগর ২০১৫ সালের ১২ জুন তৎকালীন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তিনি বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন।

২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম সওদাগর।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানিক সওদাগর নিজেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মানিক সওদাগরের বক্তব্য জানা যায়নি।

বিএনপির সম্মেলনে নজরুলের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বকশীগঞ্জের খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম সওদাগরের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম সওদাগরের গ্রেপ্তারের দাবিতে বকশীগঞ্জ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে থানায় স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

পরে ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরার সাঙ্গাম মোড় এলাকা থেকে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ নজরুল ইসলাম সওদাগরকে গ্রেপ্তার করে। একাধিক মামলায় প্রায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চে বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চে উপজেলা বিএনপির সভাপতির এমন বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাবেক যুবলীগ নেতাকে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার কৃতিত্ব দেওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করায় দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে সম্পৃক্ত ছিলেন-এমন ব্যক্তিদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির ভেতরেও যে আলোচনা রয়েছে, মানিক সওদাগরের বক্তব্য তা আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার শাকিলের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান গামাসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

তবে মানিক সওদাগরের বক্তব্য এবং নজরুল ইসলাম সওদাগরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে দৃশ্যমান পরিবর্তনের পরই সচিবের বদলি

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
‎ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে দৃশ্যমান পরিবর্তনের পরই সচিবের বদলি

‎প্রশাসনে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার পুরস্কার কি তবে অকাল বদলি বা কোনো কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া? ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সাম্প্রতিক বদলি আমলাতন্ত্রের অলিখিত কিন্তু নিষ্ঠুর এক বাস্তবতাকে আবার নগ্নভাবে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। যে কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের স্থবির ও জরাজীর্ণ একটি খাতকে গতিশীল করতে দিনরাত পরিশ্রম করলেন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গিয়ে সিন্ডিকেটের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করলেন না, তাকে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কার স্বার্থ কাজ করছে, সেই প্রশ্ন এখন সচিবালয়ের করিডোর থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের মুখে মুখে।

‎জানা যায়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও শ্লথগতির কাজের জন্য সমালোচিত ছিল। সেই অচলায়তন ভাঙতে সচিব বিলকিস জাহান রিমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন, তা প্রশাসনিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

‎কোনো রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে যুক্ত না থেকে কেবল মেধা, দক্ষতা ও সততাকে মূলধন করে তিনি প্রশাসনিক চাকা ঘুরিয়েছিলেন। বিটিসিএল, টেলিটক এবং ডাক বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা ফাইল সচল করা এবং অসাধু চক্রের অনৈতিক বাণিজ্যে লাগাম টানাই যেন শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

‎ডাক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যুগের সাথে পিছিয়ে পড়া ডাক বিভাগকে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি ই-কমার্স লজিস্টিকস জোরদার করেন। ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং সিস্টেম উন্নত করা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা সহজীকরণ এবং আধুনিক মেল প্রসেসিং সেন্টারগুলোকে পুরোদমে সচল করতে তিনি বিশেষ নজর দেন।

‎বিটিসিএল সূত্রে জানা যায়, জনগণের কাছে কম খরচে আধুনিক টেলিকম সেবা পৌঁছাতে বিটিসিএল-এর ডিজিটাল ডায়াল ও আলাপ অ্যাপ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করেছেন। মেগা প্রজেক্টগুলোর আওতায় অহেতুক ফাইল আটকে রাখার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রুততম সময়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ৫জি/৪জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে বছরের পর বছর জমে থাকা জটিলতা দূর করে কাজের গতি বৃদ্ধি করেন। কেনাকাটা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের টেন্ডারে দীর্ঘদিনের চেনা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে শতভাগ ই-টেন্ডারিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন।সচিবালয় ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে জবাবদিহিতা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ঝুলে থাকা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির সংস্কৃতি চালু করেন। এখানে নিষ্ক্রিয়তা কিংবা অদক্ষতা ঢেকে তোষামোদি করা নিরাপদ, কিন্তু সংস্কারের সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করা একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল তার প্রতি অবিচার নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক সংস্কার প্রচেষ্টার মুখে এক প্রচণ্ড চড়। অনিয়ম, দূর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে মেরুদণ্ডহীন বিটিসিএলকে লাভ জনক করার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং অসাধু চক্রের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়ার অপরাধেই কি তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো? এখন এই আলোচনায় উত্তাল সচিবালয়।

‎সচেতন মহলের প্রশ্ন, বদলি ও পদোন্নতির নীতিমালা কি শুধুই কাগজের দলিলে বন্দি থাকবে? যারা দিনরাত খাটবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন এবং জনগণের আমানত রক্ষা করবেন, তাদের যদি এভাবে অকারণে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনো আমলা কি আর ঝুঁকি নিয়ে ভালো কাজ করার সাহস পাবেন?

‎সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনকে কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে তোষামোদকারীদের নয়, বিলকিস জাহানের মতো সৎ ও মেধাভিত্তিক কর্মকর্তাদের কাজের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্ত কি সেই বার্তা দিতে পারল? নাকি বুঝিয়ে দিল, বেশি কাজ করলে বা স্বচ্ছতা বজায় রাখলে বলির পাঁঠা হতেই হবে? আমলাতন্ত্রের এই উল্টো রথ কোন অতলে গিয়ে থামবে, দেশবাসী আজ সেই উত্তরই জানতে চায়।

মাদক ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

গফরগাঁওয়ে নিগুয়ারী কৃষক দলের আলোচনা সভা ও প্রতিবাদ সমাবেশ

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
গফরগাঁওয়ে নিগুয়ারী কৃষক দলের আলোচনা সভা ও প্রতিবাদ সমাবেশ

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এলাকার শান্তি-শৃঙ্ঙ্খলা রক্ষা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং যেকোনো ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুরচাই বাজার ঈদগাহ মাঠে ইউনিয়ন কৃষক দলের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নিগুয়ারী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ইব্রাহিম মৃধার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক অন্যতম সদস্য ও নিগুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইয়াসিন খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা মকসুদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নিগুয়ারী ইউনিয়নের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী রুহুল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জামালসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াসিন খান বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গফরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, স্থানীয় সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাচ্চুর হাতকে শক্তিশালী করা এবং নিগুয়ারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশের যেকোনো নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। একই সঙ্গে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে নিগুয়ারী ইউনিয়ন বিএনপি, কৃষক দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে ২৭০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে ২৭০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ধলেশ্বরী নদীতে ২৭০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার কাস্তুল বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অমিত পণ্ডিত, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ইয়াকুব এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধলেশ্বরী নদীতে অবমুক্ত করা মাছের পোনাগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠলে একদিকে যেমন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে, অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বক্তারা আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের নদী, খাল ও অন্যান্য মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হতে হবে। দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও অবাধ বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।