রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাকরির স্বপ্ন বাঁচাতে এক শতক জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী, রেজিস্ট্রেশন খরচও নিজের

রনি বসু।। প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ এম
চাকরির স্বপ্ন বাঁচাতে এক শতক জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী, রেজিস্ট্রেশন খরচও নিজের

মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এক তরুণ। সামনে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় জানা গেল, তাঁর বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। এতে চাকরি পাওয়া নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

পরিবারটির নিজস্ব কোনো জমিও নেই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে যখন পরিবারটি দিশাহারা, তখন পাশে দাঁড়ালেন তাঁদেরই এক প্রতিবেশী।

তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আর চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ মুসলিম।

ধর্মীয় পরিচয়ের এই ভিন্নতা তাঁদের মানবিক সম্পর্কে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ওই প্রতিবেশী নিজের জমি থেকে এক শতক জমি তরুণটির নামে বিনা মূল্যে দান করে দিয়েছেন। শুধু জমি লিখে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; দলিলের রেজিস্ট্রেশন খরচও বহন করেছেন নিজের পকেট থেকে।

গত ৪ অক্টোবর জুড়ী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারি বিধিমালা ও গোপনীয়তার কারণে আপাতত দাতা ও গ্রহীতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাটি শুধু একজন তরুণের চাকরির স্বপ্ন বাঁচানোর গল্প নয়; এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতারও এক অনন্য উদাহরণ।

একজন মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়াতে একই ধর্মের হতে হয় না, একই মতের হতে হয় না, এমনকি আত্মীয়ও হতে হয় না। প্রয়োজন শুধু মানুষের প্রতি মানুষের দায়বোধ।

এক শতক জমির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু চাকরির স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণের কাছে এর মূল্য হয়তো একটি জীবনের সমান। কারণ জমিটুকু শুধু একটি সম্পত্তি নয়—এটি তাঁর ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেওয়ার একটি সুযোগ।

আমাদের সমাজে ধর্ম, রাজনীতি ও মতাদর্শের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে যখন বিভাজন তৈরি হয়, তখন জুড়ীর এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা।

একজন হিন্দু প্রতিবেশী একজন মুসলিম তরুণের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু এক শতক জমি দেননি; তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, বিপদের সময়ে মানবতার কোনো ধর্মীয় সীমানা নেই।

জুড়ীর এই মানুষটির পরিচয় হয়তো আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু তাঁর কাজের পরিচয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হৃদয়ে।

ধর্মের পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতার ঠিকানা একটাই—মানুষের পাশে মানুষ।

মিঠামইনে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের মতবিনিময়

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পিএম
মিঠামইনে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের মতবিনিময়

মাদকের ভয়াবহতা রোধ ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণার দাবিতে সর্বস্তরের পেশাজীবীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলি’—স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এ সভার আয়োজন করে মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তব্য দেন শিক্ষক জুনায়েদুল ইসলাম, অধ্যাপক জহরুল লাল দাস, নুরুল আমিন, নুরে আলম, দিলকুশ উদ্দিন মানিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নরিছলাম সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাফির উদ্দিন, বিএনপি নেতা শাহরিয়ার আলম তপন, বিএনপির গ্রিস নেতা আশরাফ উদ্দিন ঠাকুর টিপু, বাসেত সিকদার, ছাত্রদল নেতা মাহমুদুর রহমান মাহিন, ইমাম মহিউদ্দিন, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা আবুল কাশেম, সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হারুন, সাংবাদিক ওমর ফারুক, সাবেক সেনাসদস্য আব্দুল বাতেন, জুলাই যোদ্ধা রিতা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনের নেতা মতিউর রহমান মান্না।

এ ছাড়া চিকিৎসক, আইনজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তরুণ সমাজ এবং সচেতন নাগরিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদক প্রতিরোধে সামাজিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, ‘মাদককে না বলি, জীবনকে হ্যাঁ বলি।’ মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পেশাজীবীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু এখন মাদক কারবারিরা দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষায় আমরা জিহাদ ঘোষণা করছি।’

সভা শেষে উপস্থিত সবাই সম্মিলিতভাবে মিঠামইনকে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।

ময়মনসিংহে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

মোঃ সাজ্জাদ মিয়া।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
ময়মনসিংহে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর গোহাইলকান্দি এলাকায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) কার্যালয়ের পেছনের একটি নির্জন স্থান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে বলে জানতে পারে পুলিশ। পরে কোতোয়ালী মডেল থানার ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ চারদিক থেকে ঘেরাও করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আজমতপুর এলাকার মো. সজিব মিয়া (২০), সানকিপাড়া এলাকার মো. আকাশ (২২), গোহাইলকান্দি এলাকার মো. ইমন আহম্মেদ আবির (৩০), গোহাইলকান্দি দরগা এলাকার মো. শাহেদ (২১), চরগোবিন্দপুরের মো. মোফাজ্জল (৩৫) এবং তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার মো. জাহাঙ্গীর (৪০)।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সজিবের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, আকাশের কাছ থেকে একটি ধারালো দা, ইমন আহম্মেদ আবিরের কাছ থেকে একটি চাকু এবং শাহেদের কাছ থেকে একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মোফাজ্জল ও জাহাঙ্গীরকে তাঁদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার ছিনতাই ও ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁরা নগরীর বিভিন্ন নির্জন এলাকায় পথচারীদের জিম্মি করে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ও ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে এসআই কাইয়ূম, এএসআই আজহারুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

এ ঘটনায় এসআই কাইয়ূম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৭, একই পরিবারের ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৭, একই পরিবারের ৪

ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস সড়কে রাজীব পরিবহনের বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বাইপাস সড়কের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দড়ি হামিদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), তাঁর মা রাশিদা বেগম (৭০), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। তাঁরা গাজীপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় পৌঁছালে মুক্তাগাছাগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালান। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে সাইড দিতে না পারায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

দুর্ঘটনার কারণে আকুয়া বাইপাস সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।