বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ময়মনসিংহে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পিএম
ময়মনসিংহে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—হালুয়াঘাটের আব্দুর রাজ্জাক ও ফুলপুরের তোফাজ্জল হোসেন। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালুয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাস সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইমাম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই বাসের কয়েকজন যাত্রী হতাহত হন। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুজন মারা যান।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপি সভাপতি মানিক সওদাগরের দাবি

‘বিমানমন্ত্রী মিল্লাতের নির্দেশেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন যুবদল নেতা নজরুল’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
‘বিমানমন্ত্রী মিল্লাতের নির্দেশেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন যুবদল নেতা নজরুল’

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগরের বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বর্তমান জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শ ও নির্দেশে তাঁর ছোট ভাই নজরুল ইসলাম সওদাগর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন মানিক সওদাগর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিমানমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

মানিক সওদাগর তাঁর বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর তাঁর লোকবল ও অর্থ দিয়ে তাঁকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হতে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে নজরুল ইসলাম সওদাগর বিএনপিকে ‘বুকে ধারণ করে’ টিকিয়ে রেখেছেন।

নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়ে মানিক সওদাগর বলেন, যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, নজরুল ইসলাম সওদাগরকে তিনটি হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্র করে আসামি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা নথি উপস্থাপন করা হয়নি।

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদানের তথ্য

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম সওদাগর ২০১৫ সালের ১২ জুন তৎকালীন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তিনি বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন।

২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম সওদাগর।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানিক সওদাগর নিজেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মানিক সওদাগরের বক্তব্য জানা যায়নি।

বিএনপির সম্মেলনে নজরুলের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বকশীগঞ্জের খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম সওদাগরের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম সওদাগরের গ্রেপ্তারের দাবিতে বকশীগঞ্জ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে থানায় স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

পরে ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরার সাঙ্গাম মোড় এলাকা থেকে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ নজরুল ইসলাম সওদাগরকে গ্রেপ্তার করে। একাধিক মামলায় প্রায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চে বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চে উপজেলা বিএনপির সভাপতির এমন বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাবেক যুবলীগ নেতাকে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার কৃতিত্ব দেওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করায় দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে সম্পৃক্ত ছিলেন-এমন ব্যক্তিদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির ভেতরেও যে আলোচনা রয়েছে, মানিক সওদাগরের বক্তব্য তা আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার শাকিলের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান গামাসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

তবে মানিক সওদাগরের বক্তব্য এবং নজরুল ইসলাম সওদাগরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৫৫ বছরেও স্মৃতিফলক হয়নি

মিঠামইনের ধুবাজোড়া-তেলিখাই গণহত্যায় ২২ শহীদ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় স্বজনেরা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১১ এম
মিঠামইনের ধুবাজোড়া-তেলিখাই গণহত্যায় ২২ শহীদ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় স্বজনেরা

১ সেপ্টেম্বর মিঠামইনের ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গণহত্যা দিবস

১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর। হাওরজুড়ে তখন বর্ষার থইথই পানি। চারদিকে নিস্তব্ধতা, মানুষের মনে আতঙ্ক। সেই ভোরে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন নিকলী থানার ধুবাজোড়া ও ইটনা থানার তেলিখাই গ্রামে নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। স্থানীয় রাজাকার-আলবদরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দুই গ্রামে চালায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

সেদিন প্রাণ হারান ২২ জন নিরস্ত্র মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, ছাত্রনেতা ও গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো জনপদ।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ। জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের নাম সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহলের।

ভোরের ঘেরাও, দেড় শতাধিক মানুষ আটক

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে। ইটনা, অষ্টগ্রাম ও নিকলী এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ক্যাম্পে স্থানীয় রাজাকার-আলবদররা সহযোগিতা করত।

ধুবাজোড়া গ্রামের হাজি মো. সওদাগর ভূঁইয়ার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা গোপনে ক্যাম্প স্থাপন করেছেন এমন খবর পৌঁছে যায় ইটনার পাকিস্তানি ক্যাম্পে।

১ সেপ্টেম্বর খুব ভোরে কেওয়ারজোর ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের রাজাকার কমান্ডার কোরবান আলীর নেতৃত্বে সশস্ত্র রাজাকার ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি দল ধুবাজোড়া গ্রামের দক্ষিণহাটি ঘেরাও করে। চারদিক থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা গ্রামে প্রবেশ করে।

হাজী মো. সওদাগর ভূঁইয়া, আব্দুল গনি ভূঁইয়া ও রউশন ভূঁইয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় তাণ্ডব।

চারদিকে পানি থাকায় গ্রামবাসীর পালানোর সুযোগ ছিল না। ঘেরাও করে আটক করা হয় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে। চলে নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। পরে তাঁদের মধ্য থেকে বেছে বেছে গ্রামের শিক্ষিত, প্রভাবশালী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ইটনা পাকিস্তানি ক্যাম্পে।

সেখানে নির্যাতনের পর তাঁদের হত্যা করে ভয়রা নামক স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের বর্ণনা।

এই অভিযানে গুরুতর আহত হন ইদ্রিস আলী ও মজনু ভূঁইয়া।

যাঁরা সেদিন শহীদ হন

ধুবাজোড়া গ্রামের শহীদদের মধ্যে ছিলেন, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া, সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া এবং আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, যিনি মিঠামইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন, আব্দুল গনি ভূঁইয়া (ইউপি চেয়ারম্যান), রমিজউদ্দিন ভূঁইয়া (ইউপি সচিব) এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন ভূঁইয়া।

ছাত্রনেতা ও তরুণদের মধ্যে শহীদ হন, আবদুর রাশিদ ভূঁইয়া ও রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া (রোকন)।

এ ছাড়া শহীদদের তালিকায় রয়েছেন, আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া, আব্দুর রউফ ভূঁইয়া, জহিরউদ্দিন ভূঁইয়া, আবদুল খালেক ভূঁইয়া, নূর আলী ভূঁইয়া, বুধাই ভূঁইয়া, রমজান ভূঁইয়া, আবু জামাল (জাহের), চান্দু মিয়া ও সিরাজ মিয়া।

ধুবাজোড়ার পর তেলিখাই

ধুবাজোড়ায় হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডব চালানোর পর পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের দলটি যায় তেলিখাই গ্রামের মাথার বাড়িতে। সেখানে আটক করা হয় আরও দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি আমির হোসেন ভূঁইয়া ও মুলক হোসেন ভূঁইয়াকে। পরে তাঁদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

দুই গ্রামের এসব হত্যাকাণ্ড আজও বয়ে বেড়াচ্ছে শহীদ পরিবারগুলো।

৫৫ বছরেও নেই স্মৃতিচিহ্ন

স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই ২২ শহীদের স্মৃতি আজ যেন বিস্মৃতির অন্ধকারে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ধুবাজোড়া কিংবা তেলিখাইয়ে তাঁদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক, স্মৃতিস্তম্ভ বা শহীদ স্মরণকেন্দ্র।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও সরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের অনেকেই চান এই গণহত্যার ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হোক এবং শহীদদের নাম যথাযথভাবে জাতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপ দীর্ঘদিন ধরে লেখনীর মাধ্যমে ধুবাজোড়া ও তেলিখাইয়ের গণহত্যার ইতিহাস এবং শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

দাবি- রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ হোক রক্তাক্ত ইতিহাস

স্থানীয় সচেতন মহল ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি, অবিলম্বে ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে সরকারি উদ্যোগে স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে ২২ শহীদের নাম যাচাই-বাছাই করে জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষায়, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি মুক্তিযুদ্ধের একটি গণহত্যার স্থান ও শহীদদের স্মৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে চিহ্নিত না হয়, তবে নতুন প্রজন্ম জানবে কীভাবে সেই রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ?

ধুবাজোড়া ও তেলিখাইয়ের মানুষের প্রত্যাশা, বিস্মৃতির আড়ালে থাকা ২২ শহীদের নাম এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদায় ফিরে আসুক।

শ্রীপুরে স্ত্রীকে ঘিরে বিরোধ, স্বামী-কন্যাকে হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি

রাকিবুল হাসান আহাদ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ পিএম
শ্রীপুরে স্ত্রীকে ঘিরে বিরোধ, স্বামী-কন্যাকে হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি

গাজীপুরের শ্রীপুরে দাম্পত্য বিরোধের জেরে স্ত্রী ও তাঁর কথিত দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে নিজে ও ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মো. রুবেল মিয়া (৪৩) নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে তাঁকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করার পর থেকেই তিনি ও তাঁর সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা চেয়ে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রুবেল মিয়া। জিডি নম্বর ২০৫৬; তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।

জিডি ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরের সোনাব গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়ার সঙ্গে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ভাগান গ্রামের আল্পনা আক্তারের (৩০) প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে জান্নাত (১১) নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

রুবেল মিয়ার অভিযোগ, দাম্পত্য জীবন চলাকালে বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর স্ত্রী তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় শাহজাহান (৩৫) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আল্পনা আক্তারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।

একপর্যায়ে স্ত্রী তাঁর সংসার ছেড়ে শাহজাহানের সঙ্গে চলে যান এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন বলেও অভিযোগ করেন রুবেল মিয়া। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আল্পনা আক্তার বা শাহজাহানের বক্তব্য জানা যায়নি।

রুবেল মিয়ার দাবি, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমায় ফাঁসিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের দুজনের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

এ অবস্থায় নিজের ও শিশুকন্যার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন রুবেল মিয়া।

অভিযোগের বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।