সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

কোচিং বাণিজ্য ও জোর করে স্টাম্পে স্বাক্ষরের পাল্টাপাল্টি দাবি

গফরগাঁওয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

রাকিবুল হাসান আহাদ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ পিএম
গফরগাঁওয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সৌদি প্রবাসীকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক আহসান উল্লাহ উপজেলার দীঘাপুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী বেলাল হোসেনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৬ জুন সকালে নিজ জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে শিক্ষক আহসান উল্লাহর নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি আহত হয়ে ১০ জুন পর্যন্ত গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় বেলাল হোসেন গফরগাঁও থানায় মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ৭, তারিখ ১০ জুন ২০২৬। পরে তিনি জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন।

বেলাল হোসেনের দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পরও তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক আহসান উল্লাহ শিক্ষকতার পাশাপাশি জমি দালালি ও কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না।

বেলাল হোসেন বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও শিক্ষক আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো নথি বা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দীঘাপুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মার্জিয়া খাতুন বলেন, “আহসান উল্লাহ মাস্টার নিয়মিত স্কুলে আসেন। তিনি খুবই ভালো ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক।”

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক আহসান উল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার এক ভাই ইউএনও অফিসে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, “সব মিথ্যা কথা।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রবাসী বেলাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারের।

মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আধপাখিয়া গ্রামের মেম্বারের ভাই মোফাজ্জল হোসেন সুদে টাকা লাগিয়ে কম পক্ষে ২০ পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। এদের প্রায় সকলেই হয়েছেন টাকা কিংবা সুদের টাকা দিতে নাপারায় নির্যাতনের শিকার।গত ২৯ অক্টোবর সুদের টাকার জন্য শারিরিক নির্যাতনের শিকার হন বিল্লাল মিয়া।এই হতভাগ্য থানায় অভিযোগ করতে পারেনি।পরে যদি এর চেয়ে বড় কিছু করে ফেলে। মোফাজ্জল এতোটাই এলাকায় আতংকের নাম।

আধপাখিয়ার ভ্যান চালক বিল্লাল একই এলাকার মোফাজ্জলের কাছ থেকে বিপদে পড়ে মাসিক বিশ টাকা হাড় সুদে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিল।গত প্রায় ২ বছরে বিল্লাল প্রায় বিশ হাজার টাকা সুদ দিয়েছে। সম্প্রতি সুদ দিতে দেরী হওয়ায় মোফাজ্জল চাপ দেয় সুদে আসলে তার টাকা দিয়ে দিতে হবে।টাকা দিতে দেরী হওয়ায় ২৯ অক্টোবর বিল্লালকে স্থানীয় সুমনের দোকানের সামনে বেদরক মারধর করে।নির্যাতন দেখে সহ্য না হওয়ায় দোকানদার সুমন মোফাজ্জলের টাকা দিয়ে দেন।এ সময় তাকে সুদসহ ৬ হাজার টাকাই দিতে হয়।এমন অভিযোগ স্থানীয় এক নারীও করেছেন।

এলাকার অনেকের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন মোফাজ্জল চড়া সুদে টাকা লাগান। টাকা আদায় করতে গিয়ে অনেকের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তার টাকার সুদ দিতে দিতে অনেকে নিঃশ্ব হয়েছেন।অনেকের ঢাকা শহরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এলাকার মানুষের সাথে যেন তার পায়কারি হাড়ে বিরোধ। কোন ব্যাক্তি এ সকল ঘটনার প্রতিবাদ করলেই সেও পড়ে তাদের রোষানলে।

মোফাজ্জল জানান, এলাকায় তার সাথে কারো বিরোধ নেই। পাওনা টাকা চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।তিনি তার ভাই মেম্বার এর নাম উল্লেখ করে বলেন আমি খারাপ হলে কি ভাইকে ভোট দিতো? জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে তাদের সাথে অনেকের। সে গুলোও মানুষ সমালোচনা করে।

ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৪)। এ ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

এসআরবি-১৪ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিপিএসসি, এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দুলাল চন্দ্র বণিক (৫৫) ও মো. হাতিম মিয়া (৪২)। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থানকালে আভিযানিক দল জানতে পারে, পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির দুলাল চন্দ্র বণিকের ঘরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পরে উপস্থিত লোকজন ও সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন পরস্পর যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাঁজাগুলো নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-১৪ সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা ও জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গৌরীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওরাঞ্চল।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন ক্যান্টিনের উদ্বোধন এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ক্যান্টিনের উদ্বোধন করেন মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সারাদিন ক্লাস করে। আবার বিদ্যালয় থেকে বাজারে যেতে সময় লাগে। এসব অসুবিধা দূর করতেই বিদ্যালয়ের ভেতরে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এ সময় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাসারুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ভূঁইয়া রিটু ও ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, অভিভাবক সদস্য ধন মিয়া, অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস। এ ছাড়া শিক্ষার্থী অর্পিতা সূত্রধরসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

বক্তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন পরিদর্শন করেন।