বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে ২ হাজার ৪০০ টাকার জন্য প্রাণ গেল ইমরানের !

মোক্তার হোসেন গোলাপ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
কিশোরগঞ্জে ২ হাজার ৪০০ টাকার জন্য প্রাণ গেল ইমরানের !

কিশোরগঞ্জে মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে মো. ইমরান মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা সদরের মারিয়া ইউনিয়নের পেয়ারা ভাঙ্গা নাটবাড়ি মোড়ে কালামের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান মিয়া মারিয়া ইউনিয়নের কাতিয়াচর গ্রামের মৃত আব্দুল শাহিদের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালামের কাছে ইমরানের ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাইতে গত সোমবার সকালে কালামের বাড়িতে যান ইমরান। তবে কালামকে বাড়িতে না পেয়ে ফিরে আসেন তিনি। সকালে কেন তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যায় কালাম ফোন করে ইমরানকে নিজের বাড়ির সামনে আসতে বলেন।

ইমরান সেখানে পৌঁছালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কালাম ধারালো ছুরি দিয়ে ইমরানের পেটে ও বুকে উপর্যুপরি তিনটি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় কালামের স্ত্রী ইমরানকে ধরে রাখেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কালাম পলাতক রয়েছেন। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পার্শ্ববর্তী গ্রামের তানভীর আহমেদ ওরফে লিসনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, লিসন মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত কালামকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার অন্যান্য বিষয় জানা যাবে।

বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ ছাত্রদল নেতা আমান উদয়সহ গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ পিএম
বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ ছাত্রদল নেতা আমান উদয়সহ গ্রেপ্তার ৫

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ উপজেলা ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয়সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)। এ সময় ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণব পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন বৈষ্ণব পাড়া গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৭) ও মো. সিফাত (২০), গাজীপুরের মো. রুবেল মিয়া (২৭) এবং নিলক্ষিয়া মির্ধাপাড়া গ্রামের মো. ফুরকান হোসেন (১৯)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৈষ্ণব পাড়ায় সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম বলেন, আমান উল্লাহ আমান উদয় ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক অনুপ্রবেশ এবং এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মিঠামইনে ১১১ বস্তা সরকারি সার পাচার

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ

মোক্তার হোসেন গোলাপ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ১১১ বস্তা সরকারি সার পাচারের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার ও সার জব্দ করে মামলা করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার প্রায় এক মাস পরও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সার কীভাবে গুদাম থেকে বাইরে গেল এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় টলি গাড়িতে করে সার পরিবহনের সময় চালক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ১১১ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আল মোমেন বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন শাহিন মিয়া, জহির মিয়া, সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন ও জিয়াউল হক লিটন। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫-এ ও ২৫-ডি ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুব আলম, থানার উপপরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম, কৃষক প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ মিয়া, ডিলার প্রতিনিধি জায়েদ আব্দুল আলিম ও বৈরাটি ইউনিয়নের সদস্য নজবুল ইসলাম।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করতে একটি মহল তৎপর রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি সার কীভাবে নির্ধারিত গুদাম বা বিতরণব্যবস্থার বাইরে গেল, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তদন্তের অগ্রগতি কী এসব বিষয় জনসমক্ষে স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন? তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সার পাচারের ঘটনায় তদন্ত চলছে। জব্দ করা সার নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে মামলার পলাতক আসামিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

মিঠামইনে জাহাঙ্গীর হত্যা: স্ত্রীর সঙ্গে কথিত খুনির ফোনালাপ ঘিরে চাঞ্চল্য, বিচারের দাবিতে গণমিছিল

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
মিঠামইনে জাহাঙ্গীর হত্যা: স্ত্রীর সঙ্গে কথিত খুনির ফোনালাপ ঘিরে চাঞ্চল্য, বিচারের দাবিতে গণমিছিল

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে কথিত ভাড়াটে খুনি হেলালের ফোনালাপের দাবি করে একটি স্ক্রিনশট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং নিহত জাহাঙ্গীরের স্বজনেরা অংশ নেন। মিছিলে নিহত নেতার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল থেকে ‘শহীদ জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর আমাদের নেতা, আমাদের অহংকার’ স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা পলাশ, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, নিহতের বড় ভাই শাহরিয়ার আলম তপন, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া এবং ইটনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সায়েদ আহমদসহ অন্য নেতারা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট ও ভিডিওতে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযুক্ত হেলালের ফোনালাপের দাবি করা হচ্ছে। তবে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের সত্যতা এবং কথিত ফোনালাপের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, কথিত ফোনালাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসতে পারে। এ জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁরা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।