মিঠামইনে ১১১ বস্তা সরকারি সার পাচার
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ১১১ বস্তা সরকারি সার পাচারের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার ও সার জব্দ করে মামলা করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার প্রায় এক মাস পরও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সার কীভাবে গুদাম থেকে বাইরে গেল এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় টলি গাড়িতে করে সার পরিবহনের সময় চালক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ১১১ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আল মোমেন বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন শাহিন মিয়া, জহির মিয়া, সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন ও জিয়াউল হক লিটন। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫-এ ও ২৫-ডি ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুব আলম, থানার উপপরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম, কৃষক প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ মিয়া, ডিলার প্রতিনিধি জায়েদ আব্দুল আলিম ও বৈরাটি ইউনিয়নের সদস্য নজবুল ইসলাম।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করতে একটি মহল তৎপর রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি সার কীভাবে নির্ধারিত গুদাম বা বিতরণব্যবস্থার বাইরে গেল, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তদন্তের অগ্রগতি কী এসব বিষয় জনসমক্ষে স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন? তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সার পাচারের ঘটনায় তদন্ত চলছে। জব্দ করা সার নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে মামলার পলাতক আসামিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।








