মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ ছাত্রদল নেতা আমান উদয়সহ গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ পিএম
বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ ছাত্রদল নেতা আমান উদয়সহ গ্রেপ্তার ৫

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ উপজেলা ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয়সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)। এ সময় ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণব পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন বৈষ্ণব পাড়া গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৭) ও মো. সিফাত (২০), গাজীপুরের মো. রুবেল মিয়া (২৭) এবং নিলক্ষিয়া মির্ধাপাড়া গ্রামের মো. ফুরকান হোসেন (১৯)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৈষ্ণব পাড়ায় সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম বলেন, আমান উল্লাহ আমান উদয় ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক অনুপ্রবেশ এবং এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মিঠামইনে ১১১ বস্তা সরকারি সার পাচার

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ

মোক্তার হোসেন গোলাপ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ১১১ বস্তা সরকারি সার পাচারের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার ও সার জব্দ করে মামলা করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার প্রায় এক মাস পরও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সার কীভাবে গুদাম থেকে বাইরে গেল এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় টলি গাড়িতে করে সার পরিবহনের সময় চালক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ১১১ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আল মোমেন বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন শাহিন মিয়া, জহির মিয়া, সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন ও জিয়াউল হক লিটন। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫-এ ও ২৫-ডি ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুব আলম, থানার উপপরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম, কৃষক প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ মিয়া, ডিলার প্রতিনিধি জায়েদ আব্দুল আলিম ও বৈরাটি ইউনিয়নের সদস্য নজবুল ইসলাম।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করতে একটি মহল তৎপর রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি সার কীভাবে নির্ধারিত গুদাম বা বিতরণব্যবস্থার বাইরে গেল, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তদন্তের অগ্রগতি কী এসব বিষয় জনসমক্ষে স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন? তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সার পাচারের ঘটনায় তদন্ত চলছে। জব্দ করা সার নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে মামলার পলাতক আসামিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

মিঠামইনে জাহাঙ্গীর হত্যা: স্ত্রীর সঙ্গে কথিত খুনির ফোনালাপ ঘিরে চাঞ্চল্য, বিচারের দাবিতে গণমিছিল

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
মিঠামইনে জাহাঙ্গীর হত্যা: স্ত্রীর সঙ্গে কথিত খুনির ফোনালাপ ঘিরে চাঞ্চল্য, বিচারের দাবিতে গণমিছিল

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে কথিত ভাড়াটে খুনি হেলালের ফোনালাপের দাবি করে একটি স্ক্রিনশট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং নিহত জাহাঙ্গীরের স্বজনেরা অংশ নেন। মিছিলে নিহত নেতার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল থেকে ‘শহীদ জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর আমাদের নেতা, আমাদের অহংকার’ স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা পলাশ, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, নিহতের বড় ভাই শাহরিয়ার আলম তপন, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া এবং ইটনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সায়েদ আহমদসহ অন্য নেতারা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট ও ভিডিওতে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযুক্ত হেলালের ফোনালাপের দাবি করা হচ্ছে। তবে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের সত্যতা এবং কথিত ফোনালাপের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, কথিত ফোনালাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসতে পারে। এ জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁরা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক ব্যবসায় লিপ্ত হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য সামনে এসেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সার্জেন্ট অব পুলিশ হিসেবে বর্তমানে কর্মরত সরদার মুহিব-এর বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা পরিচালনার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে সরকারি চাকুরির শৃঙ্খলা ও পেশাগত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা।

‎জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের অধীনে রাজধানীর টিটিপাড়া মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ঢাকা মেট্রো দ-১১-১১৬০ নম্বরের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গতিরোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলার পর বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। অটোরিকশাটির দুই পাশে সরদার পরিবহন নামের ব্যানার ছিল।

‎কাগজপত্র চাওয়ামাত্রই চালক খোকন দাবি করেন, এই গাড়ির প্রকৃত মালিক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট সরদার মুহিব এবং সমস্ত মূল কাগজপত্র তাঁর কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পেশাদার সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব এর আগে ঢাকায় কর্মরত থাকাকালীন সময়েও প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২০/২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ক্রয় করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামান। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে আইন অমান্য করে সিএনজি ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

‎পরিবহন খাত ও অটোমোবাইল বাজার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে একটি নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত আনুমানিক মূল ইঞ্জিন ও বডি তৈরির খরচ সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। তবে রাজধানীতে নতুন নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বন্ধ থাকায় রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনসহ একটি বাণিজ্যিক সিএনজি অটোরিকশার বাজার দর বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই হিসাবে অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের নিয়ন্ত্রণে থাকা আনুমানিক ২০-২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার আনুমানিক বহরের বাজার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকার ওপরে, যা একজন সরকারি চাকুরিজীবীর বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ ও সন্দেহজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারী এবং বিশেষ করে শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের সরাসরি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া স্পষ্টত বেআইনি।১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য অন্য কোনো পদে নিয়োজিত হতে পারবেন না কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো মুনাফাভিত্তিক পেশায় যুক্ত হতে পারেন না। সার্জেন্ট অব পুলিশ পদে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) তে কর্মরত থেকে পরিহন খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই যখন বাণিজ্যিক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক বা মালিক হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন সড়কের শৃঙ্খলা বিধান ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

‎পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করা কেবল বেআইনিই নয়, বরং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সরাসরি সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের অসদাচরণ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ভাবমর্যাদা সাধারণ মানুষের কাছে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বিধিমালা অনুসরণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

‎ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব সিএনজি চালিত অটোরিকশার মালিকানার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অমান্য করে কীভাবে তিনি এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন-এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি।