মিঠামইনে শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাউছারুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান ভূঁইয়া রিটু, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঁইয়া, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা শেরজাহান মুমিনী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত আকরাম হোসেন রাজ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী রতন শিকদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র বিশ্বাস, এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য ধন মিয়া, বিএনপি নেতা এরশাদুল হক, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মিয়া, সাবেক অভিভাবক সদস্য সোহরাব হাসান ভূঁইয়া, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি সাবলু, সাবেক ছাত্র তোফাজ্জল হোসেন, চিকিৎসক আলাউদ্দিন এবং শিক্ষার্থী সিনথিয়া আক্তার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহাউদ্দিন।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত পাঠদান এবং শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বিত দায়িত্ববোধ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পরিবার ও বিদ্যালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কাউছারুল আলম ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আকরাম হোসেন রাজ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পাঠদানে নিয়মিততা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
মাওলানা শেরজাহান মুমিনী বলেন, একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন শুধু শিক্ষক বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বিদ্যালয়কে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং বিদ্যালয়কে আরও সুন্দর, আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
শেষে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।








