ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ, বিজ্ঞাপনী লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও ছবিতে তাঁর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’ নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি কোচিং সেন্টারের ব্যানারে ‘সার্বিক তত্ত্বাবধানে’ ৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও গফরগাঁও সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলীর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘MD Shoukat Ali’ নামের একটি আইডি থেকে ‘শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)’ ও ‘জব কেয়ার কোচিং সেন্টার’-এর বিভিন্ন ব্যাচ, হস্তলিপি প্রশিক্ষণ ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রচারণামূলক পোস্ট নিয়মিত শেয়ার করার অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতেও তাঁকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে সরকারি কলেজের কর্মঘণ্টায় ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পাঠদান বা নিয়মিত কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী অধ্যাপক মো. শওকত আলী।
এসব তথ্য ও ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ ক্যাডেট একাডেমি (গফরগাঁও শাখা)-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমি সেখানে কোনো নিয়মিত ক্লাস নিই না। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে কেবল পরীক্ষা বা তদারকির প্রয়োজনে উপস্থিত ছিলাম এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা কমিটিতে থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করছি।’
কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে বাইরে পড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলেজের ক্লাস শিডিউল ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গফরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ইউসুফ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, ওই শিক্ষককে এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। অভিযোগ ও প্রাপ্ত অডিও-ছবি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক বা প্রাইভেট কোচিং কিংবা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের কলেজের ক্লাস রুটিন, উপস্থিতির তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।