শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

মিঠামইনে আওয়ামী লীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

হত্যার দাবি থেকে এখন আত্মহত্যা, বদলে যাচ্ছে পরিবারের ভাষ্য!

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৩ এম
হত্যার দাবি থেকে এখন আত্মহত্যা, বদলে যাচ্ছে পরিবারের ভাষ্য!

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের নতুন চাঁনপুর গ্রামে গত ২৬ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টায় যে খবর ছড়িয়ে পড়ে তাতে থমকে যায় এই গ্রামটি। গ্রামের পরিচিত মুখ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুক্তার উদ্দিন (৬২) এর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায় চাচাতো ভাই এনামুল হকের বসতঘরে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই এনামুল হক বাড়িতে না থাকায় মুক্তার উদ্দিন ওই ঘরেই রাত কাটাচ্ছিলেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে নিজ বাড়ি ফেরার অভ্যাস থাকলেও সেদিন আর ফেরেননি। স্ত্রী মাফুজা আক্তার কলি খুঁজতে গিয়ে স্বামীকে গলায় দড়ি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপরই কান্না ও চিৎকারে জড়ো হন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর চড়া ছিল পরিবারের। নিহতের ভাতিজা মো. আইকন মিয়া সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, এটা আত্মহত্যা না। পরিকল্পিত হত্যা। লাশ নামানোর পর শরীরে আঘাতের দাগ ছিল। হত্যা করে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

আইকন মিয়া আরও একটি পটভূমি টেনে আনেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই মুক্তার উদ্দিন গ্রামে একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য ঘর তুলেছিলেন। সেই ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরও হয়েছিল। পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড এমনটাই সন্দেহ তার।

কিন্তু সরেজমিনে কথা বলে জানা গেল ভিন্ন চিত্র। ঘটনার ৪ দিন পার হতেই “হত্যা”র অভিযোগ তোলা পরিবারের ভেতর থেকেই এখন শোনা যাচ্ছে “আত্মহত্যা”র কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রথমে যারা সবচেয়ে জোরে হত্যার কথা বলছিল, তারাই এখন আস্তে আস্তে বলছে পারিবারিক ঝামেলা, মানসিক চাপের কথা। বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

একজন বলেন, যদি সত্যিই হত্যা হয়ে থাকে, তাহলে সন্দেহের তালিকায় পরিবারের লোকজনই আগে আসবে। তাই এখন সবাই একসাথে ‘আত্মহত্যা বলার দিকে যাচ্ছে।

গ্রামে এখন দুই ধরনের আলোচনা। কেউ বলছে রাজনৈতিক ও জমি-মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধ, কেউ বলছে পারিবারিক কলহ।

মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার মাহমুদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনই হত্যা বা আত্মহত্যা কোনোটাই নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে সব।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এনামুল হকের বাড়ির আশপাশের লোকজনের বক্তব্য নিয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন চাঁনপুরে এখন থমথমে অবস্থা। মুক্তার উদ্দিন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এছাড়াও জনপ্রতিনিধি হওয়ায়এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল বিস্তর। তার মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি আছে আতঙ্ক। লোকজন প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছে না। মুখ খুললেই ঝামেলা। এমন মনোভাব অনেকের।

স্থানীয়রা বলছেন, মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধ অনেক পুরনো।তবে এই ঘটনা নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না তা বলা মুশকিল।

একটি মৃত্যু, দুই রকম বর্ণনা। ২৬ আগস্টের ভোরে শুরু হওয়া এই ঘটনায় পরিবারের শুর “হত্যা” দাবি এবং পরে আত্মহত্যার দিকে ঝোঁক – পুরো বিষয়টিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

এখন সব নির্ভর করছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মুক্তার উদ্দিনের মৃত্যু রহস্যই থেকে যাচ্ছে গোপদিঘীর বাতাসে।

পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধে ছোট ভাইকে অপহরণের অভিযোগ, দুই দিন পর উদ্ধার

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ এম
পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধে ছোট ভাইকে অপহরণের অভিযোগ, দুই দিন পর উদ্ধার

ময়মনসিংহের পাগলা থানা এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধের জেরে নজরুল হক (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, দুই দিন ধরে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার পর তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নজরুল হক অভিযোগ করেন, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কান্দিপাড়া বাজার থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। খোকন শিংয়ের বাড়ির পাশের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর চোখে কাপড় বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে দুই দিন আটকে রাখা হয়।

নজরুলের ভাষ্য, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাগামাড়া পানির পাম্পের পেছনে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

নজরুল হকের অভিযোগ, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির সাড়ে ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই নূরুল হকের সঙ্গে বিরোধ চলছে। নামজারি করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ২৩ শতাংশ জমি নামজারি হয়েছে। বাকি সাড়ে ১৭ শতাংশ জমি তাঁর বড় ভাই গোপনে নিজের নামে নামজারি করিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল।

তিনি দাবি করেন, সর্বশেষ তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর ভাতিজা স্বপন, তোফাজ্জল, সবুজ মিয়া, ভাতিজার স্ত্রী আশরাফুন নাহারসহ আরও ১০-১২ জন এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নূরুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

নজরুলের মেয়ে রিমি বলেন, তাঁর বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ওই ফোনে জিডি না করার জন্য হুমকি ও প্রলোভন দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।

রিমির ভাষ্য, একদিন অপেক্ষা করার পর ২৭ আগস্ট সকালে তাঁর মা আনোয়ারা খাতুন পাগলা থানায় জিডি করেন। ওই রাতেই তাঁর বাবাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পাগলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফসার আলী বলেন, জিডি হওয়ার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানায় এসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

অপহরণের অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি এসব এখন তদন্তের বিষয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

অপারেশন না করেই কাটা-সেলাই! ময়মনসিংহে ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে ‘চিকিৎসা সিন্ডিকেট’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
অপারেশন না করেই কাটা-সেলাই! ময়মনসিংহে ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে ‘চিকিৎসা সিন্ডিকেট’

ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ঘিরে নানা সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রোগীকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া এবং চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ময়মনসিংহে অনুমোদনহীন ও মানহীন ক্লিনিকের বিস্তার এবং রোগী হয়রানির অভিযোগও উঠে এসেছিল।

এবার নগরীর ব্রহ্মপল্লী রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এক রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার না করেই কেটে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। রোগীর স্বজনদের দাবি, নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রোপচারের বিষয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তাদের সম্মতি ছাড়াই অস্ত্রোপচারের ধরন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—রোগীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নির্ণয়, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা এবং অস্ত্রোপচারের ধরন নির্ধারণে যথাযথ চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

রোগী সোহেলের অভিযোগ

অভিযোগকারী রোগী সোহেল মিয়া (৫৫) গার্মেন্টসকর্মী। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে কর্মরত অবস্থায় পিঠ, পাঁজর ও মেরুদণ্ডের পেছনে ব্যথা অনুভব করলে তিনি হালুয়াঘাটের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের উদ্যোগে গত ২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে আসেন।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন ভূঁইয়ার পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন দেখার পর দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এরপর গত ১৭ আগস্ট পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিত্তথলিতে পাথর ও ছোট আকারের টিউমার রয়েছে বলে জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকের মৌখিকভাবে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চুক্তি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে বদলে গেল পরিকল্পনা?

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে তাঁদের ব্রহ্মপল্লী রোডের এপেক্স ওয়ান শাখায় যেতে বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহেল মিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, আগে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই ওপেন সার্জারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে পরে পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় জটিলতা নেই এমন পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় অস্ত্রোপচার না করেই রোগীর শরীরে কাটা দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মতামত ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর সম্মতি, অস্ত্রোপচারের ধরন, ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে জানানো চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রশ্নবিদ্ধ ‘চিকিৎসা ব্যবসা’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে চরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নগরীর চরপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে লাইসেন্স নবায়ন না করা, প্রশিক্ষিত জনবল না থাকা ও রোগী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়েবসাইটেও রোগীদের দালাল থেকে সতর্ক থাকতে এবং অনিয়ম দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই বাস্তবতায় বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত নজরদারি কতটা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

‘নাম ব্যবহার করে চিকিৎসা’ -অভিযোগ কতটা সত্য?

রোগীর স্বজনদের আরও অভিযোগ, ময়মনসিংহের কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে খ্যাতনামা চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে রোগী আকৃষ্ট করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি চক্র কাজ করছে বলে তাঁদের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিএমডিসি নিবন্ধন, হাসপাতালের লাইসেন্স, অস্ত্রোপচারের নথি, রোগীর সম্মতিপত্র, আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদন এবং বিলের কাগজপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।

লাইসেন্স ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন

সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের অনলাইন নথিতে ‘Apex Hospital (Pvt.) & Diagnostic Centre’-এর নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়; সেখানে লাইসেন্সের মেয়াদ ১১ জানুয়ারি ২০২৪-এ শেষ হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট এপেক্স ওয়ান শাখার বর্তমান লাইসেন্স পরিস্থিতি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন, চরপাড়া ও আশপাশে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বর্তমান লাইসেন্স, চিকিৎসক তালিকা, নার্স-টেকনিশিয়ান, অপারেশন থিয়েটারের অনুমোদন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মিত যাচাই করা হয় কি না।

জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কবে?

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার, ভুল চিকিৎসা কিংবা রোগীর সম্মতি ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তনের অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

এ বিষয়ে রোগী সোহেল মিয়া ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা নথি ও অস্ত্রোপচারের কাগজপত্র স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ময়মনসিংহের বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

আহ্বায়ক এনামুল, সদস্য সচিব ডায়মন্ড খান

মিঠামইনে এনসিপির ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২০ এম
মিঠামইনে এনসিপির ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে হাওর উপজেলা মিঠামইনে ৫২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ছয় মাস মেয়াদি এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কমিটিতে মোহাম্মদ এনামুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং ডায়মন্ড খানকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা এনসিপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপজেলার সব ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কমিটির সদস্যরা কাজ করবেন।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো. এনামুল ইসলাম বলেন, ‘মিঠামইনের মানুষের অধিকার আদায় এবং হাওর এলাকার উন্নয়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। তৃণমূলকে শক্তিশালী করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

সদস্য সচিব ডায়মন্ড খান বলেন, ‘জেলা নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনা করা হবে। খুব শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।’

দলীয় সূত্র জানায়, ৫২ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মিঠামইন উপজেলায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। আগামী দিনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।