সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

অপারেশন না করেই কাটা-সেলাই! ময়মনসিংহে ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে ‘চিকিৎসা সিন্ডিকেট’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
অপারেশন না করেই কাটা-সেলাই! ময়মনসিংহে ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে ‘চিকিৎসা সিন্ডিকেট’

ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ঘিরে নানা সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রোগীকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া এবং চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ময়মনসিংহে অনুমোদনহীন ও মানহীন ক্লিনিকের বিস্তার এবং রোগী হয়রানির অভিযোগও উঠে এসেছিল।

এবার নগরীর ব্রহ্মপল্লী রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এক রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার না করেই কেটে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। রোগীর স্বজনদের দাবি, নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রোপচারের বিষয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তাদের সম্মতি ছাড়াই অস্ত্রোপচারের ধরন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—রোগীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নির্ণয়, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা এবং অস্ত্রোপচারের ধরন নির্ধারণে যথাযথ চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।

রোগী সোহেলের অভিযোগ

অভিযোগকারী রোগী সোহেল মিয়া (৫৫) গার্মেন্টসকর্মী। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে কর্মরত অবস্থায় পিঠ, পাঁজর ও মেরুদণ্ডের পেছনে ব্যথা অনুভব করলে তিনি হালুয়াঘাটের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের উদ্যোগে গত ২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে আসেন।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন ভূঁইয়ার পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন দেখার পর দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এরপর গত ১৭ আগস্ট পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিত্তথলিতে পাথর ও ছোট আকারের টিউমার রয়েছে বলে জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকের মৌখিকভাবে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চুক্তি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে বদলে গেল পরিকল্পনা?

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে তাঁদের ব্রহ্মপল্লী রোডের এপেক্স ওয়ান শাখায় যেতে বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহেল মিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, আগে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই ওপেন সার্জারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে পরে পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় জটিলতা নেই এমন পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় অস্ত্রোপচার না করেই রোগীর শরীরে কাটা দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মতামত ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর সম্মতি, অস্ত্রোপচারের ধরন, ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে জানানো চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রশ্নবিদ্ধ ‘চিকিৎসা ব্যবসা’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে চরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নগরীর চরপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে লাইসেন্স নবায়ন না করা, প্রশিক্ষিত জনবল না থাকা ও রোগী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়েবসাইটেও রোগীদের দালাল থেকে সতর্ক থাকতে এবং অনিয়ম দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই বাস্তবতায় বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত নজরদারি কতটা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

‘নাম ব্যবহার করে চিকিৎসা’ -অভিযোগ কতটা সত্য?

রোগীর স্বজনদের আরও অভিযোগ, ময়মনসিংহের কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে খ্যাতনামা চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে রোগী আকৃষ্ট করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি চক্র কাজ করছে বলে তাঁদের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিএমডিসি নিবন্ধন, হাসপাতালের লাইসেন্স, অস্ত্রোপচারের নথি, রোগীর সম্মতিপত্র, আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদন এবং বিলের কাগজপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।

লাইসেন্স ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন

সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের অনলাইন নথিতে ‘Apex Hospital (Pvt.) & Diagnostic Centre’-এর নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়; সেখানে লাইসেন্সের মেয়াদ ১১ জানুয়ারি ২০২৪-এ শেষ হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট এপেক্স ওয়ান শাখার বর্তমান লাইসেন্স পরিস্থিতি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন, চরপাড়া ও আশপাশে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বর্তমান লাইসেন্স, চিকিৎসক তালিকা, নার্স-টেকনিশিয়ান, অপারেশন থিয়েটারের অনুমোদন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মিত যাচাই করা হয় কি না।

জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কবে?

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার, ভুল চিকিৎসা কিংবা রোগীর সম্মতি ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তনের অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

এ বিষয়ে রোগী সোহেল মিয়া ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা নথি ও অস্ত্রোপচারের কাগজপত্র স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ময়মনসিংহের বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
মুক্তাগাছায় সুদের টাকা দিতে না পারায় ভ্যান চালক বিল্লালকে মারধর

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আধপাখিয়া গ্রামের মেম্বারের ভাই মোফাজ্জল হোসেন সুদে টাকা লাগিয়ে কম পক্ষে ২০ পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। এদের প্রায় সকলেই হয়েছেন টাকা কিংবা সুদের টাকা দিতে নাপারায় নির্যাতনের শিকার।গত ২৯ অক্টোবর সুদের টাকার জন্য শারিরিক নির্যাতনের শিকার হন বিল্লাল মিয়া।এই হতভাগ্য থানায় অভিযোগ করতে পারেনি।পরে যদি এর চেয়ে বড় কিছু করে ফেলে। মোফাজ্জল এতোটাই এলাকায় আতংকের নাম।

আধপাখিয়ার ভ্যান চালক বিল্লাল একই এলাকার মোফাজ্জলের কাছ থেকে বিপদে পড়ে মাসিক বিশ টাকা হাড় সুদে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিল।গত প্রায় ২ বছরে বিল্লাল প্রায় বিশ হাজার টাকা সুদ দিয়েছে। সম্প্রতি সুদ দিতে দেরী হওয়ায় মোফাজ্জল চাপ দেয় সুদে আসলে তার টাকা দিয়ে দিতে হবে।টাকা দিতে দেরী হওয়ায় ২৯ অক্টোবর বিল্লালকে স্থানীয় সুমনের দোকানের সামনে বেদরক মারধর করে।নির্যাতন দেখে সহ্য না হওয়ায় দোকানদার সুমন মোফাজ্জলের টাকা দিয়ে দেন।এ সময় তাকে সুদসহ ৬ হাজার টাকাই দিতে হয়।এমন অভিযোগ স্থানীয় এক নারীও করেছেন।

এলাকার অনেকের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন মোফাজ্জল চড়া সুদে টাকা লাগান। টাকা আদায় করতে গিয়ে অনেকের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তার টাকার সুদ দিতে দিতে অনেকে নিঃশ্ব হয়েছেন।অনেকের ঢাকা শহরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এলাকার মানুষের সাথে যেন তার পায়কারি হাড়ে বিরোধ। কোন ব্যাক্তি এ সকল ঘটনার প্রতিবাদ করলেই সেও পড়ে তাদের রোষানলে।

মোফাজ্জল জানান, এলাকায় তার সাথে কারো বিরোধ নেই। পাওনা টাকা চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।তিনি তার ভাই মেম্বার এর নাম উল্লেখ করে বলেন আমি খারাপ হলে কি ভাইকে ভোট দিতো? জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে তাদের সাথে অনেকের। সে গুলোও মানুষ সমালোচনা করে।

ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর অভিযান, ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৪)। এ ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

এসআরবি-১৪ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিপিএসসি, এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দুলাল চন্দ্র বণিক (৫৫) ও মো. হাতিম মিয়া (৪২)। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থানকালে আভিযানিক দল জানতে পারে, পোদ্দারপাড়া বণিক বাড়ির দুলাল চন্দ্র বণিকের ঘরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

পরে উপস্থিত লোকজন ও সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন পরস্পর যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাঁজাগুলো নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-১৪ সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা ও জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গৌরীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওরাঞ্চল।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
মিঠামইনে ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন ক্যান্টিনের উদ্বোধন এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ক্যান্টিনের উদ্বোধন করেন মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সারাদিন ক্লাস করে। আবার বিদ্যালয় থেকে বাজারে যেতে সময় লাগে। এসব অসুবিধা দূর করতেই বিদ্যালয়ের ভেতরে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এ সময় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরে বিদ্যালয়ের হলরুমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাসারুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ভূঁইয়া রিটু ও ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, অভিভাবক সদস্য ধন মিয়া, অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস। এ ছাড়া শিক্ষার্থী অর্পিতা সূত্রধরসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

বক্তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন চালু ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন পরিদর্শন করেন।