মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

৫৫ বছরেও স্মৃতিফলক হয়নি

মিঠামইনের ধুবাজোড়া-তেলিখাই গণহত্যায় ২২ শহীদ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় স্বজনেরা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১১ এম
মিঠামইনের ধুবাজোড়া-তেলিখাই গণহত্যায় ২২ শহীদ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় স্বজনেরা

১ সেপ্টেম্বর মিঠামইনের ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গণহত্যা দিবস

১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর। হাওরজুড়ে তখন বর্ষার থইথই পানি। চারদিকে নিস্তব্ধতা, মানুষের মনে আতঙ্ক। সেই ভোরে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন নিকলী থানার ধুবাজোড়া ও ইটনা থানার তেলিখাই গ্রামে নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। স্থানীয় রাজাকার-আলবদরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দুই গ্রামে চালায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

সেদিন প্রাণ হারান ২২ জন নিরস্ত্র মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, ছাত্রনেতা ও গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো জনপদ।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ। জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের নাম সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহলের।

ভোরের ঘেরাও, দেড় শতাধিক মানুষ আটক

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে। ইটনা, অষ্টগ্রাম ও নিকলী এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ক্যাম্পে স্থানীয় রাজাকার-আলবদররা সহযোগিতা করত।

ধুবাজোড়া গ্রামের হাজি মো. সওদাগর ভূঁইয়ার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা গোপনে ক্যাম্প স্থাপন করেছেন এমন খবর পৌঁছে যায় ইটনার পাকিস্তানি ক্যাম্পে।

১ সেপ্টেম্বর খুব ভোরে কেওয়ারজোর ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের রাজাকার কমান্ডার কোরবান আলীর নেতৃত্বে সশস্ত্র রাজাকার ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি দল ধুবাজোড়া গ্রামের দক্ষিণহাটি ঘেরাও করে। চারদিক থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা গ্রামে প্রবেশ করে।

হাজী মো. সওদাগর ভূঁইয়া, আব্দুল গনি ভূঁইয়া ও রউশন ভূঁইয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় তাণ্ডব।

চারদিকে পানি থাকায় গ্রামবাসীর পালানোর সুযোগ ছিল না। ঘেরাও করে আটক করা হয় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে। চলে নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। পরে তাঁদের মধ্য থেকে বেছে বেছে গ্রামের শিক্ষিত, প্রভাবশালী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ইটনা পাকিস্তানি ক্যাম্পে।

সেখানে নির্যাতনের পর তাঁদের হত্যা করে ভয়রা নামক স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের বর্ণনা।

এই অভিযানে গুরুতর আহত হন ইদ্রিস আলী ও মজনু ভূঁইয়া।

যাঁরা সেদিন শহীদ হন

ধুবাজোড়া গ্রামের শহীদদের মধ্যে ছিলেন, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া, সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া এবং আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, যিনি মিঠামইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন, আব্দুল গনি ভূঁইয়া (ইউপি চেয়ারম্যান), রমিজউদ্দিন ভূঁইয়া (ইউপি সচিব) এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন ভূঁইয়া।

ছাত্রনেতা ও তরুণদের মধ্যে শহীদ হন, আবদুর রাশিদ ভূঁইয়া ও রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া (রোকন)।

এ ছাড়া শহীদদের তালিকায় রয়েছেন, আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া, আব্দুর রউফ ভূঁইয়া, জহিরউদ্দিন ভূঁইয়া, আবদুল খালেক ভূঁইয়া, নূর আলী ভূঁইয়া, বুধাই ভূঁইয়া, রমজান ভূঁইয়া, আবু জামাল (জাহের), চান্দু মিয়া ও সিরাজ মিয়া।

ধুবাজোড়ার পর তেলিখাই

ধুবাজোড়ায় হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডব চালানোর পর পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের দলটি যায় তেলিখাই গ্রামের মাথার বাড়িতে। সেখানে আটক করা হয় আরও দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি আমির হোসেন ভূঁইয়া ও মুলক হোসেন ভূঁইয়াকে। পরে তাঁদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

দুই গ্রামের এসব হত্যাকাণ্ড আজও বয়ে বেড়াচ্ছে শহীদ পরিবারগুলো।

৫৫ বছরেও নেই স্মৃতিচিহ্ন

স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই ২২ শহীদের স্মৃতি আজ যেন বিস্মৃতির অন্ধকারে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ধুবাজোড়া কিংবা তেলিখাইয়ে তাঁদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক, স্মৃতিস্তম্ভ বা শহীদ স্মরণকেন্দ্র।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও সরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের অনেকেই চান এই গণহত্যার ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হোক এবং শহীদদের নাম যথাযথভাবে জাতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপ দীর্ঘদিন ধরে লেখনীর মাধ্যমে ধুবাজোড়া ও তেলিখাইয়ের গণহত্যার ইতিহাস এবং শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

দাবি- রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ হোক রক্তাক্ত ইতিহাস

স্থানীয় সচেতন মহল ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি, অবিলম্বে ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে সরকারি উদ্যোগে স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে ২২ শহীদের নাম যাচাই-বাছাই করে জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষায়, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি মুক্তিযুদ্ধের একটি গণহত্যার স্থান ও শহীদদের স্মৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে চিহ্নিত না হয়, তবে নতুন প্রজন্ম জানবে কীভাবে সেই রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ?

ধুবাজোড়া ও তেলিখাইয়ের মানুষের প্রত্যাশা, বিস্মৃতির আড়ালে থাকা ২২ শহীদের নাম এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদায় ফিরে আসুক।

শ্রীপুরে স্ত্রীকে ঘিরে বিরোধ, স্বামী-কন্যাকে হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি

রাকিবুল হাসান আহাদ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ পিএম
শ্রীপুরে স্ত্রীকে ঘিরে বিরোধ, স্বামী-কন্যাকে হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি

গাজীপুরের শ্রীপুরে দাম্পত্য বিরোধের জেরে স্ত্রী ও তাঁর কথিত দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে নিজে ও ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মো. রুবেল মিয়া (৪৩) নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে তাঁকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করার পর থেকেই তিনি ও তাঁর সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা চেয়ে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রুবেল মিয়া। জিডি নম্বর ২০৫৬; তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।

জিডি ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরের সোনাব গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়ার সঙ্গে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ভাগান গ্রামের আল্পনা আক্তারের (৩০) প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে জান্নাত (১১) নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

রুবেল মিয়ার অভিযোগ, দাম্পত্য জীবন চলাকালে বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর স্ত্রী তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় শাহজাহান (৩৫) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আল্পনা আক্তারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।

একপর্যায়ে স্ত্রী তাঁর সংসার ছেড়ে শাহজাহানের সঙ্গে চলে যান এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন বলেও অভিযোগ করেন রুবেল মিয়া। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আল্পনা আক্তার বা শাহজাহানের বক্তব্য জানা যায়নি।

রুবেল মিয়ার দাবি, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমায় ফাঁসিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের দুজনের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

এ অবস্থায় নিজের ও শিশুকন্যার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন রুবেল মিয়া।

অভিযোগের বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে নৌকা ভ্রমণ-২০২৬ অনুষ্ঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে নৌকা ভ্রমণ-২০২৬ অনুষ্ঠিত

উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নৌকা ভ্রমণ-২০২৬’। এতে সংগঠনের সদস্যরা একই রঙের গেঞ্জি পরিধান করে অংশ নেন, যা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। অনুষ্ঠানটির গেঞ্জির সৌজন্যে ছিল কোনাবাড়ী পপুলার হসপিটাল।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি ইয়াছিন গাজীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ফরিদ খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সফুর উদ্দিন সফু, গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খন্দকার। সার্বিক সহযোগিতায় ও বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন গাজীপুর মহানগর শাখার সম্মানিত উপদেষ্টা এবং ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আইয়ুব সরকার মাস্টার, গণঅধিকার পরিষদ গাজীপুর মহানগরের সভাপতি আলহাজ্ব মোবারক হোসেন, কোনাবাড়ী গ্রাজুয়েট ক্লাবের উপদেষ্টা এডভোকেট আবুল বাশার এবং গণঅধিকার পরিষদ কোনাবাড়ী থানা কমিটির সভাপতি আহমেদ ফারুক খান।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন গাজীপুর জেলা কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা সেলিনা পারভীন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আরাফাত খন্দকার, কালিয়াকৈর উপজেলা সভাপতি নাজিম উদ্দিন, কালিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সোহরাব সরকার ও সাধারণ সম্পাদক কবির সরকার, শ্রীপুর উপজেলা সভাপতি মাহাবুবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক সোহাগ রানা এবং গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

মহানগর শাখার সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি স্বপন চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি শহিদ সরকার, সহ-সভাপতি মমিন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাফুজ আহমেদ মুন্না, কোষাধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম শাহীন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ দোলন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ জয়, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আশিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জাফর আলী, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রোকসানা আক্তার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শান্তা সরকার, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোকসানা কাজল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রাজু, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ বেলাল হোসেন, নির্বাহী সদস্য জুলফিকার আলী জুয়েল, মমিনুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, নাঈম হাসান, মোঃ সুলতান এবং সদস্য তমিজ উদ্দিন তমু ও মোঃ শাহ আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন।

সংবাদ সংগ্রহ, সার্বিক তথ্য এবং ভিডিও চিত্র ধারণের একনিষ্ঠ দায়িত্বে ছিলেন মো: সোলাইমান হোসেন রাজু (রাজু নিউজ)। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাংবাদিকেরা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে সময় কাটান।

মিঠামইনে আওয়ামী লীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

হত্যার দাবি থেকে এখন আত্মহত্যা, বদলে যাচ্ছে পরিবারের ভাষ্য!

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৩ এম
হত্যার দাবি থেকে এখন আত্মহত্যা, বদলে যাচ্ছে পরিবারের ভাষ্য!

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের নতুন চাঁনপুর গ্রামে গত ২৬ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টায় যে খবর ছড়িয়ে পড়ে তাতে থমকে যায় এই গ্রামটি। গ্রামের পরিচিত মুখ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুক্তার উদ্দিন (৬২) এর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায় চাচাতো ভাই এনামুল হকের বসতঘরে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই এনামুল হক বাড়িতে না থাকায় মুক্তার উদ্দিন ওই ঘরেই রাত কাটাচ্ছিলেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে নিজ বাড়ি ফেরার অভ্যাস থাকলেও সেদিন আর ফেরেননি। স্ত্রী মাফুজা আক্তার কলি খুঁজতে গিয়ে স্বামীকে গলায় দড়ি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপরই কান্না ও চিৎকারে জড়ো হন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর চড়া ছিল পরিবারের। নিহতের ভাতিজা মো. আইকন মিয়া সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, এটা আত্মহত্যা না। পরিকল্পিত হত্যা। লাশ নামানোর পর শরীরে আঘাতের দাগ ছিল। হত্যা করে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

আইকন মিয়া আরও একটি পটভূমি টেনে আনেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই মুক্তার উদ্দিন গ্রামে একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য ঘর তুলেছিলেন। সেই ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরও হয়েছিল। পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড এমনটাই সন্দেহ তার।

কিন্তু সরেজমিনে কথা বলে জানা গেল ভিন্ন চিত্র। ঘটনার ৪ দিন পার হতেই “হত্যা”র অভিযোগ তোলা পরিবারের ভেতর থেকেই এখন শোনা যাচ্ছে “আত্মহত্যা”র কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রথমে যারা সবচেয়ে জোরে হত্যার কথা বলছিল, তারাই এখন আস্তে আস্তে বলছে পারিবারিক ঝামেলা, মানসিক চাপের কথা। বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

একজন বলেন, যদি সত্যিই হত্যা হয়ে থাকে, তাহলে সন্দেহের তালিকায় পরিবারের লোকজনই আগে আসবে। তাই এখন সবাই একসাথে ‘আত্মহত্যা বলার দিকে যাচ্ছে।

গ্রামে এখন দুই ধরনের আলোচনা। কেউ বলছে রাজনৈতিক ও জমি-মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধ, কেউ বলছে পারিবারিক কলহ।

মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার মাহমুদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনই হত্যা বা আত্মহত্যা কোনোটাই নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে সব।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এনামুল হকের বাড়ির আশপাশের লোকজনের বক্তব্য নিয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন চাঁনপুরে এখন থমথমে অবস্থা। মুক্তার উদ্দিন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এছাড়াও জনপ্রতিনিধি হওয়ায়এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল বিস্তর। তার মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি আছে আতঙ্ক। লোকজন প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছে না। মুখ খুললেই ঝামেলা। এমন মনোভাব অনেকের।

স্থানীয়রা বলছেন, মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধ অনেক পুরনো।তবে এই ঘটনা নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না তা বলা মুশকিল।

একটি মৃত্যু, দুই রকম বর্ণনা। ২৬ আগস্টের ভোরে শুরু হওয়া এই ঘটনায় পরিবারের শুর “হত্যা” দাবি এবং পরে আত্মহত্যার দিকে ঝোঁক – পুরো বিষয়টিকে আরও ঘোলাটে করেছে।

এখন সব নির্ভর করছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মুক্তার উদ্দিনের মৃত্যু রহস্যই থেকে যাচ্ছে গোপদিঘীর বাতাসে।