বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সভার শুরুতে জুলাইয়ের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পদ নয়; এটি সমগ্র দেশের মানুষের আন্দোলনের ফসল। বৈষম্য দূর করতে হলে ব্যক্তিগত জীবন থেকেই ন্যায়পরায়ণতা ও সততার চর্চা শুরু করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তা যেন জনদুর্ভোগের কারণ না হয়। অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক উপায়ে দাবি আদায় করতে হবে। পাশাপাশি দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফলভাবে বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা, গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জুলাইয়ের প্রকৃত চেতনা হলো অন্যায়, বৈষম্য, দুর্নীতি ও সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ন্যায়, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

বিশেষ অতিথি সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জুলাই শুধু বিজয়ের ইতিহাস নয়; এটি ত্যাগ, সাহস, প্রতিরোধ ও জনগণের জাগরণের ইতিহাস। এটি শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগের কাহিনি এবং মুক্তির জন্য রক্তে রঞ্জিত এক গৌরবগাথা। এই ইতিহাস কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি আন্দোলনই জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতিফলন। কোনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা আগ্রাসী শক্তি বাংলাদেশের জনগণকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের প্রতিটি দিন, প্রতিটি আত্মত্যাগ এবং প্রতিটি শহীদের স্মৃতি ধারণ করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে শুধু বক্তৃতা বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়ন করতে পারলেই সেই চেতনা টেকসই হবে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি রাশিদা বেগম, জুলাই শহীদ মাহিনের বাবা, জুলাই শহীদ সাগরের বাবা, জুলাই যোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় ময়মনসিংহের ঢাকা বাইপাস মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

‎সনদ জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপটে দনিয়া কলেজে সভাপতির চেয়ারে সাবেক এমপির পুত্র

মো. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম
‎সনদ জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপটে দনিয়া কলেজে সভাপতির চেয়ারে সাবেক এমপির পুত্র

‎★ মার্কিন নাগরিকের কাছে জিম্মি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

‎★ বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্রয়দাতা খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

‎★ অধ্যক্ষহীন প্রতিষ্ঠানে চলতি দায়িত্বের বিড়ম্বনা

‎রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দনিয়া কলেজ এখন আর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং পরিণত হয়েছে একটি পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে। সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতার দাপটে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিতর্কিত উপায়ে নিজের পুত্র ইমরান আহমেদকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে বসিয়ে রীতিমতো শিক্ষা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন, তা ইমরান আহমেদের নেই বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, এইচএসসি পাসের বিষয়টি নিয়েই যেখানে ধোঁয়াশা রয়েছে, সেখানে তিনি ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রির যে সনদ প্রদর্শন করছেন, তা মূলত জালিয়াতির ফসল। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রভাবশালী মহল প্রচ্ছন্ন মদদ দিয়েছে।

‎বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পরিচালক ড. মো: সুলতান মাহমুদ ভূইয়ার স্বাক্ষরিত ইবাইস ইউনিভার্সিটি’র বৈধতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক অনুমতিপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী ২০১২ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমের কোন আইনগত ভিত্তি নেই এবং ২০১২ সালের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত সনদের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এছাড়াও বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

‎কলেজের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সভাপতি হওয়ার আগ থেকেই সালাহউদ্দিন ও তার পুত্র কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে থেকে নিজেদের ইচ্ছে মতো ফান্ডের টাকা ব্যয় করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে এই পরিবারটি গড়ে তুলেছে আর্থিক অনিয়মের এক দুর্ভেদ্য দেয়াল।সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজে কলেজের আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে পদ অলঙ্কৃত করে রেখেছেন, যা ব্যবহার করে তিনি পুরো কলেজ প্রশাসনকে নিজের হাতের মুঠোয় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এডহক কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর গত ২২ জুন,২০২৫ রমিজ উদ্দিন আহমেদকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নির্বাচন করেন। এই কমিটিতে সালাউদ্দিন আহমেদ দাতা সদস্য এবং উনার ছেলে তানভীর আহমেদ হিতৈষী সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রমিজ উদ্দিনকে সভাপতি পদ থেকে গত ০১ এপ্রিল ২০২৬ পদত্যাগে বাধ্য করে ইমরান আহমেদকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে সমীর হোসেন নামে একজন শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি দায়িত্বে থাকা কেউ গভর্নিং বডির মিটিং পরিচালনা বা সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। অথচ, সমীর হোসেন গত ৯ মে ২০২৬ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত গভর্নিং বডির মোট তিনটি সভায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধিবহির্ভূতভাবে গভর্নিং বডির সভায় অংশ নেওয়া এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন। এমনকি গভর্নিং বডির বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কলেজটির গভর্নিং বডি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপনকে অমান্য করে কেন এবং কোন ক্ষমতাবলে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। পারিবারিক স্বৈরতন্ত্র ও প্রশাসনিক অরাজকতার পেছনে খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রহস্যজনক ভূমিকায় দায়ী করছেন অভিভাবক মহল।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সাবেক এমপির প্রভাবেই জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সনদ জোগাড় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ইমরান আহমেদের এই শিক্ষাগত যোগ্যতা কেবল জালিয়াতি কাগজেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে যার কোনো প্রতিফলন নেই বলে তারা মনে করছেন। ক্ষমতার দাপট ও আর্থিক অনিয়ম কেবল কলেজ দখল নয়, বরং শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করে কলেজ ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

‎সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কলেজের গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি ইমরান আহমেদ নিজেই এখন বাংলাদেশে নেই। স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গত ১০ জুন তিনি আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। প্রশ্ন উঠেছে, একজন স্থায়ী প্রবাসী কীভাবে একটি স্থানীয় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন?

‎সচেতন মহল ও শিক্ষকদের প্রশ্ন, যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মের রক্ষক, তারা কীভাবে দনিয়া কলেজের ক্ষেত্রে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে? একদিকে মার্কিন নাগরিক ও প্রবাসীর হাতে কলেজের সভাপতি পদ তুলে দেওয়া, অন্যদিকে নিজস্ব প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষককে দিয়ে সদস্য সচিবের কাজ করানো, এই সবকিছুই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষের ভরাডুবির পেছনেও সালাহউদ্দিন ও তার দুই পুত্রের এই কর্মকাণ্ডকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এবং দনিয়া কলেজকে পারিবারিক দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। তাদের মতে, অবিলম্বে এই কমিটির বিলুপ্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি গত ৯ মে ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত তিনটি সভায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। তবে এটি কতটুকু বৈধ বা নিয়মসম্মত, তা আমার জানা নেই।‎

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সাথে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র ইমরান আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।

মিঠামইন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা: ভাড়াটে ৩ খুনি গ্রেপ্তার

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ এম
মিঠামইন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা: ভাড়াটে ৩ খুনি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভাড়ায় আনা পেশাদার অপরাধী।

গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ও তাঁর সঙ্গী হাদিসের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর মারা যান। আহত হাদিস বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারকৃত তিন ভাড়াটে খুনি

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে হেলাল, মহিউদ্দিন ও জাকির। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভাড়াটে অপরাধী চক্রের সদস্য। তবে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কারা তাদের ভাড়া করেছে, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার বলেন, “অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ এম
মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাগানবাড়িতে প্রবেশের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রাতে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর নিজ বাগানবাড়িতে প্রবেশ করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে মিঠামইন থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ কিংবা কারা এ ঘটনায় জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।