শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‎সনদ জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপটে দনিয়া কলেজে সভাপতির চেয়ারে সাবেক এমপির পুত্র

মো. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম
‎সনদ জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপটে দনিয়া কলেজে সভাপতির চেয়ারে সাবেক এমপির পুত্র

‎★ মার্কিন নাগরিকের কাছে জিম্মি শিক্ষক-শিক্ষার্থী

‎★ বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্রয়দাতা খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

‎★ অধ্যক্ষহীন প্রতিষ্ঠানে চলতি দায়িত্বের বিড়ম্বনা

‎রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দনিয়া কলেজ এখন আর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং পরিণত হয়েছে একটি পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে। সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতার দাপটে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিতর্কিত উপায়ে নিজের পুত্র ইমরান আহমেদকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে বসিয়ে রীতিমতো শিক্ষা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন, তা ইমরান আহমেদের নেই বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, এইচএসসি পাসের বিষয়টি নিয়েই যেখানে ধোঁয়াশা রয়েছে, সেখানে তিনি ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রির যে সনদ প্রদর্শন করছেন, তা মূলত জালিয়াতির ফসল। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রভাবশালী মহল প্রচ্ছন্ন মদদ দিয়েছে।

‎বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পরিচালক ড. মো: সুলতান মাহমুদ ভূইয়ার স্বাক্ষরিত ইবাইস ইউনিভার্সিটি’র বৈধতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক অনুমতিপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী ২০১২ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমের কোন আইনগত ভিত্তি নেই এবং ২০১২ সালের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত সনদের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এছাড়াও বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

‎কলেজের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সভাপতি হওয়ার আগ থেকেই সালাহউদ্দিন ও তার পুত্র কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে থেকে নিজেদের ইচ্ছে মতো ফান্ডের টাকা ব্যয় করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে এই পরিবারটি গড়ে তুলেছে আর্থিক অনিয়মের এক দুর্ভেদ্য দেয়াল।সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজে কলেজের আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে পদ অলঙ্কৃত করে রেখেছেন, যা ব্যবহার করে তিনি পুরো কলেজ প্রশাসনকে নিজের হাতের মুঠোয় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এডহক কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর গত ২২ জুন,২০২৫ রমিজ উদ্দিন আহমেদকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নির্বাচন করেন। এই কমিটিতে সালাউদ্দিন আহমেদ দাতা সদস্য এবং উনার ছেলে তানভীর আহমেদ হিতৈষী সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রমিজ উদ্দিনকে সভাপতি পদ থেকে গত ০১ এপ্রিল ২০২৬ পদত্যাগে বাধ্য করে ইমরান আহমেদকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে সমীর হোসেন নামে একজন শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি দায়িত্বে থাকা কেউ গভর্নিং বডির মিটিং পরিচালনা বা সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। অথচ, সমীর হোসেন গত ৯ মে ২০২৬ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত গভর্নিং বডির মোট তিনটি সভায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধিবহির্ভূতভাবে গভর্নিং বডির সভায় অংশ নেওয়া এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন। এমনকি গভর্নিং বডির বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কলেজটির গভর্নিং বডি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপনকে অমান্য করে কেন এবং কোন ক্ষমতাবলে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। পারিবারিক স্বৈরতন্ত্র ও প্রশাসনিক অরাজকতার পেছনে খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রহস্যজনক ভূমিকায় দায়ী করছেন অভিভাবক মহল।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সাবেক এমপির প্রভাবেই জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সনদ জোগাড় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ইমরান আহমেদের এই শিক্ষাগত যোগ্যতা কেবল জালিয়াতি কাগজেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে যার কোনো প্রতিফলন নেই বলে তারা মনে করছেন। ক্ষমতার দাপট ও আর্থিক অনিয়ম কেবল কলেজ দখল নয়, বরং শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করে কলেজ ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

‎সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কলেজের গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি ইমরান আহমেদ নিজেই এখন বাংলাদেশে নেই। স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গত ১০ জুন তিনি আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। প্রশ্ন উঠেছে, একজন স্থায়ী প্রবাসী কীভাবে একটি স্থানীয় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন?

‎সচেতন মহল ও শিক্ষকদের প্রশ্ন, যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মের রক্ষক, তারা কীভাবে দনিয়া কলেজের ক্ষেত্রে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে? একদিকে মার্কিন নাগরিক ও প্রবাসীর হাতে কলেজের সভাপতি পদ তুলে দেওয়া, অন্যদিকে নিজস্ব প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষককে দিয়ে সদস্য সচিবের কাজ করানো, এই সবকিছুই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষের ভরাডুবির পেছনেও সালাহউদ্দিন ও তার দুই পুত্রের এই কর্মকাণ্ডকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এবং দনিয়া কলেজকে পারিবারিক দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। তাদের মতে, অবিলম্বে এই কমিটির বিলুপ্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি গত ৯ মে ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত তিনটি সভায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। তবে এটি কতটুকু বৈধ বা নিয়মসম্মত, তা আমার জানা নেই।‎

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সাথে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র ইমরান আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।

মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আঘাত ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক আঘাত বন্ধ করা, বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

তবে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়ের পাশের ব্রিজে গিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। তখন তিনি তাদের ‘শুধু শাসন করেছেন’।

বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

রূপগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বাসায় কৃষকদলের অবৈধ পকেট কমিটির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৯ এম
রূপগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বাসায় কৃষকদলের অবৈধ পকেট কমিটির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের বাসায় উপজেলা কৃষক দলের খসড়া কমিটি ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদে এই নেতার বিরুদ্ধেই সংবাদ সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দল। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হোড়গাঁও বাজারের কৃষক দলের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সভাপতি ডা. শাহিন মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের বাসায় কৃষক দলের খসড়া কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, এমন একটি ভিডিও ও সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাসুরউদ্দিন বাচ্ছুও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জেলা কৃষক দল এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় সুসংগঠিত কৃষক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের কমিটি বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে। আমি জেলা কৃষক দলের সভাপতি এবং উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহ আলম বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল। সারা বাংলাদেশের মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষক দল সফল, উজ্জীবিত ও সুসংগঠিত। এটা একটা চক্রান্ত, এরা বিএনপির মঙ্গল চায় না। পূর্বের রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের যে কমিটি ছিল, সেটিই এখনও বহাল রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ বা খসড়া কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংগঠনিক বিধিবিধান এবং অভিভাবক কমিটির সম্মতি অপরিহার্য। মূল দলের সভাপতি বা সম্পাদকের বাসভবনে জেলা বা কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়া সহযোগী সংগঠনের খসড়া কমিটি ঘোষণার ঘটনা দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোয়াটার-কোন্দল ও চেইন অব কমান্ড ভঙ্গের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এতে স্থানীয় পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা তৈরি হতে পারে, যা আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।

‎ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, হুড়োহুড়িতে শিশুসহ নিহত ৬; আহত অন্তত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
‎ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, হুড়োহুড়িতে শিশুসহ নিহত ৬; আহত অন্তত ২০

‎ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। দ্রুত ভবন থেকে বের হতে গিয়ে পদদলিত ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম থেকে ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গেলে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

‎নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫)। নিহত অপরজন এক বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা শিশু।

‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎তবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম সোমবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আগুনে সরাসরি মৃত্যুর কোনো ঘটনা স্বীকার করেননি। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, আগুনের ঘটনায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

‎ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, লিফটের কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। কন্ট্রোল রুম থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

‎খবর পেয়ে ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জসহ পাঁচটি ফায়ার স্টেশনের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের বিভিন্ন তলায় তল্লাশি চালিয়ে আগুনের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

‎ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, আগুন লাগার কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।