বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

মিঠামইনের তৈমোর হোসেন খান রাষ্ট্রপতির এপিএস নিয়োগ পেলেন

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)।। প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৫ পিএম
মিঠামইনের তৈমোর হোসেন খান রাষ্ট্রপতির এপিএস নিয়োগ পেলেন

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল মিঠামইন থেকে উঠে আসা মো. তৈমোর হোসেন খান রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৮ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে মো. তৈমোর হোসেন খানকে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নবনিযুক্ত এপিএস মো. তৈমোর হোসেন খান কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নের চারিগ্রামের কৃতী সন্তান। হাওরবেষ্টিত এই উপজেলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আরেকজনের নিয়োগ পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে মিঠামইন উপজেলার প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তৈমোর হোসেন খানের নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মিঠামইনবাসী। স্থানীয়রা তার সফলতা কামনা করে নতুন দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাবজু হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাবজু হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

ময়মনসিংহে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবজু ওরফে বাবলু (২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নগরীর রহমতপুর বাইপাস মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে খাগডহর এলাকার দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তারা বাবজু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানান।

পরে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হলে মানববন্ধন প্রত্যাহার করে নেন অংশগ্রহণকারীরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কোতোয়ালী মডেল থানার খাগডহর এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই বিরোধ থামাতে এগিয়ে যান বাবজু ওরফে বাবলু। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাকিব, রায়হান, মনির, রকি, কামালসহ কয়েকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।

এতে বাবজু গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় আরও চার-পাঁচজন আহত হন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত বাবজুকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট কোতোয়ালী মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১১৪, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারেরও দাবি জানান তারা।

পুলিশ কনস্টেবল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
পুলিশ কনস্টেবল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ‘চোরাই মোবাইল’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী মো. হোজাইফা হোসেন শাহান(২১)।

অভিযোগের তীর গৌরীপুর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. রুবেল এবং তাঁর আত্মীয় মোশাররফের দিকে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বোনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছিলেন শাহান। এ সময় মোশাররফ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে অবস্থান জানতে চান। অবস্থান জানালে মোশাররফ ও কয়েকজন ব্যক্তি হাসপাতালের প্রধান ফটকে এসে শাহানের ব্যবহৃত অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহান এর প্রতিবাদ করলে মোশাররফ নিজেকে পুলিশের লোক পরিচয় দেন এবং তাঁকে মোবাইল চোর হিসেবে অভিযুক্ত করেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। এ সময় একটি জিডির খসড়া কপি দেখানো হয়। শাহান ওই কপিটি কৌশলে তাঁর এক ফুফাতো ভাইয়ের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর তাঁকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন শাহান। তাঁর দাবি, উত্তর বাজার মোড়ের কাছে গিয়ে জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত মোটরসাইকেলের চাবি বন্ধ করে দেন। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মোশাররফকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর গৌরীপুর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. রুবেল তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো এবং ‘চোরাই মোবাইল’ ব্যবহারের অভিযোগে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শাহান।

ভুক্তভোগীর দাবি, যে জিডির খসড়া তাঁকে দেখানো হয়েছিল, সেখানে চুরি যাওয়া মোবাইলের ব্র্যান্ড হিসেবে ‘Redmi’ উল্লেখ ছিল। অথচ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিল ‘Infinix Hot 30i’। এ অবস্থায় তাঁকে জোর করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং পরে পুলিশ সদস্যের পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শাহানের অভিযোগ, মোশাররফ তাঁর আত্মীয় হওয়ায় কনস্টেবল রুবেল সরকারি পদ ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) ছাড়া অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কনস্টেবল রুবেল ও মোশাররফের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কনস্টেবল মো. রুবেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোশাররফ তাঁর আত্মীয় বলে স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, পুরো বিষয়টি ‘জটলা বা গোলমালে’ পরিণত হয়েছে।

তবে একজন পুলিশ সদস্যের এখতিয়ার ও দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো নাগরিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। ওই জিডির বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাঁকে কে দিয়েছেন এবং পদাধিকারবলে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব দেননি রুবেল।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনাটির পেছনে কোনো পুলিশ সদস্যের ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেইনটেন্যান্সের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

বিটিসিএলের জরাজীর্ণ তারের জটে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সচিবালয়

বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
বিটিসিএলের জরাজীর্ণ তারের জটে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সচিবালয়

দেশের প্রশাসনিক হৃদপিণ্ড বাংলাদেশ সচিবালয়ে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবার মারাত্মক কারিগরি গাফিলতি এবং জরাজীর্ণ দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের স্পর্শকাতর ভবনগুলোতে দিনের পর দিন পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ কেবিনেট তারের জটলা এবং অরক্ষিত নেটওয়ার্ক সংযোগের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী এবং শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে গভীর কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিটিসিএলের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সচিবালয়ের নতুন ১নং ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০টি ফ্লোরজুড়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জিপোনের এমডিইউ, অপটিক্যাল ফাইবার এবং সাধারণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রিক ক্যাবল একই ডাক্টের ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। বিপজ্জনকভাবে ফাইবার ও বিদ্যুতের লাইন একসাথে থাকায় সামান্য বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটেই পুরো ভবনের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে অচল হয়ে পড়তে পারে। সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি মন্ত্রণালয় ধারণকারী ৬ নম্বর ভবন, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধারণকারী ৩ নম্বর ভবনের টেলিফোন কেবিনেটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয় ধারণকারী ৮ নম্বর ভবনের সামনে কেবিনেট থেকে ১১ নম্বর ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে যাওয়া টেলিফোন ও ডেটা লাইনগুলোর তারের জট দেখলে মনে হবে এটি দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা। ৬ নং ভবনের নিচতলায় কেবিনেটগুলোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিযোগ রয়েছে, কেবিনেটগুলোর ভেতর যেন এক মাকড়সার জাল। ধূলোবালি, মরিচা ও জট পাকানো রঙিন তারের ভিড়ে কোন লাইন কোথায় গেছে তা খুঁজে পাওয়াই দায়। কেবিনেটে নিরাপত্তা কিংবা সুশৃঙ্খল ক্যাবল ম্যানেজমেন্টের কোনো অস্তিত্ব নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্যাঁতসেঁতে কাপড়ের টুকরো ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ক্যাবল স্প্লাইসিং করে রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বলয়ে এমন মারাত্মক কারিগরি গাফিলতি স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞরা। এটি কি নিছকই অবহেলা, নাকি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতিসাধন বা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটানোর জন্য পরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রতি বছর মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বিপুল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সেই খাতের টাকার সিংহভাগই কাগজ-কলমে খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জহুরুল ইসলামের মদদপুষ্ট বিটিসিএল-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডিজিএম আনোয়ার পারভেজ এবং সহকারী ম্যানেজার মুরাদ হোসেন। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মেইনটেন্যান্স ও সংস্কার কাজের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিটিসিএলের এই সিন্ডিকেট নিয়মিত সংস্কার কাজ না করে জরাজীর্ণ কেবিনেট ফেলে রাখার ফলে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি পুরো সচিবালয় মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেই সাথে সরকারের কোষাগারের বিপুল অর্থ লুটপাট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ডিজিএম আনোয়ার পারভেজ ইতিপূর্বে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দপ্তরে সংযুক্তিতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার নানা প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে বিটিসিএলে ফেরত পাঠানো হয়। তাছাড়া নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অভিযূক্ত সহকারী ম্যানেজার মুরাদ মুস্তাকিম নামের এক তরুণকে অবৈধভাবে কনিষ্ঠ লাইনম্যান বানিয়ে সচিবালয়ের মতো সুরক্ষিত জায়গায় প্রবেশের সুযোগ করে দেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করার জন্য তাকে বিশেষ প্রবেশাধিকার বা গ্রীন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার জালিয়াতিও করেন। পরবর্তীতে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পেলে মুস্তাকিমকে প্রত্যাহার করা হলেও এখনও তাকে মাঝে মাঝে সচিবালয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সচিবালয় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত স্থান। এখানকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্যান্য জরুরি মন্ত্রণালয়ের টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা যদি এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ কেবিনেটের ওপর নির্ভর করে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক স্থবিরতাই নয়, বরং নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিচার এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগগুলো আধুনিকায়ন করা না হলে বিপজ্জনকভাবে ফাইবার ও বিদ্যুতের লাইন একসাথে থাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটেই পুরো ভবনের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে অচলাবস্থা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে বিটিসিএলের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।