শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আলীকদম থানার নারী কনস্টেবল রুবিনার বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ এম
লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আলীকদম থানার নারী কনস্টেবল রুবিনার বিরুদ্ধে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তিকে পুঁজি করে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও একাধিক পুরুষের সঙ্গে অসংলগ্ন সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নারী পুলিশ কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। বিয়ে করে সংসার পাতা, বাড়ী নির্মাণ ও কিস্তি পরিশোধের অজুহাতে স্বামী আনোয়ার হোসেনের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পুরোপুরি চেনা স্বামীকে অচেনা বলে দাবি করছেন তিনি। বর্তমানে বান্দরবানের আলীকদম থানায় কর্মরত এই নারী সদস্যকে ঘিরে খোদ পুলিশ প্রশাসনে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কর্মরত থাকাকালীন পরিচয় হয় দৈনিক জনবাণী পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। পরিচয়ের পর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন দক্ষিণ ভোগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের পরপরই চতুরতার আশ্রয় নেন রুবিনা আক্তার। ডিপার্টমেন্টের পদোন্নতি পরীক্ষা (এএসআই) দেওয়ার অজুহাতে কাবিননামা রেজিস্ট্রিতে নানাভাবে বিলম্ব করতে থাকেন তিনি। দাম্পত্য জীবনের সুযোগ নিয়ে মাদারীপুরে নিজ বাড়ি নির্মাণ ও কমিউনিটি ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধের কথা বলে স্বামী আনোয়ারের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন রুবিনা। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও আরও ৩৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় রুবিনার চালচলন ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোনে অসংলগ্ন যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর। স্ত্রীর এমন অপকর্ম ও নৈতিকতাবিরোধী আচরণের প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রুবিনা। প্রতারণা সহ্য করতে না পেরে আনোয়ার হোসেন আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও মেলেনি বিচার বা প্রতিকার।

পরবর্তীতে বদলিসূত্রে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা হয়ে বর্তমানে বান্দরবানের আলীকদম থানায় কর্মরত আছেন রুবিনা। বর্তমানে তিনি তার স্বামীকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন এবং বিয়ের কথা বেমালুম চেপে গিয়ে উল্টো আনোয়ারকে হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চক্রান্ত করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সব হারিয়ে নিঃস্ব, সুবিচারের আশায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দরজায় ঘুরি। একজন পুলিশ সদস্যের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। সে আমার সংসার ভেঙেছে, লাখ লাখ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে। আমি যখন তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারি এবং সত্যের প্রতিবাদ করি, তখনই সে আমাকে পর বানিয়ে দেয়। এখন সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সে আমাদের বিয়ের কথা অস্বীকার করছে। এমনকি আমাকে নানা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ বিভাগের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় এই নারী কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা ও আমার টাকা উদ্ধারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মিঠামইনে জাহাঙ্গীর হত্যা: স্ত্রীর সঙ্গে কথিত খুনির ফোনালাপ ঘিরে চাঞ্চল্য, বিচারের দাবিতে গণমিছিল

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
মিঠামইনে জাহাঙ্গীর হত্যা: স্ত্রীর সঙ্গে কথিত খুনির ফোনালাপ ঘিরে চাঞ্চল্য, বিচারের দাবিতে গণমিছিল

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে কথিত ভাড়াটে খুনি হেলালের ফোনালাপের দাবি করে একটি স্ক্রিনশট ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং নিহত জাহাঙ্গীরের স্বজনেরা অংশ নেন। মিছিলে নিহত নেতার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল থেকে ‘শহীদ জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর আমাদের নেতা, আমাদের অহংকার’ স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা পলাশ, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, নিহতের বড় ভাই শাহরিয়ার আলম তপন, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া এবং ইটনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সায়েদ আহমদসহ অন্য নেতারা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট ও ভিডিওতে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযুক্ত হেলালের ফোনালাপের দাবি করা হচ্ছে। তবে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের সত্যতা এবং কথিত ফোনালাপের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, কথিত ফোনালাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসতে পারে। এ জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁরা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক ব্যবসায় লিপ্ত হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য সামনে এসেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সার্জেন্ট অব পুলিশ হিসেবে বর্তমানে কর্মরত সরদার মুহিব-এর বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা পরিচালনার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে সরকারি চাকুরির শৃঙ্খলা ও পেশাগত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা।

‎জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের অধীনে রাজধানীর টিটিপাড়া মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ঢাকা মেট্রো দ-১১-১১৬০ নম্বরের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গতিরোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলার পর বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। অটোরিকশাটির দুই পাশে সরদার পরিবহন নামের ব্যানার ছিল।

‎কাগজপত্র চাওয়ামাত্রই চালক খোকন দাবি করেন, এই গাড়ির প্রকৃত মালিক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট সরদার মুহিব এবং সমস্ত মূল কাগজপত্র তাঁর কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পেশাদার সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব এর আগে ঢাকায় কর্মরত থাকাকালীন সময়েও প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২০/২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ক্রয় করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামান। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে আইন অমান্য করে সিএনজি ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

‎পরিবহন খাত ও অটোমোবাইল বাজার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে একটি নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত আনুমানিক মূল ইঞ্জিন ও বডি তৈরির খরচ সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। তবে রাজধানীতে নতুন নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বন্ধ থাকায় রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনসহ একটি বাণিজ্যিক সিএনজি অটোরিকশার বাজার দর বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই হিসাবে অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের নিয়ন্ত্রণে থাকা আনুমানিক ২০-২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার আনুমানিক বহরের বাজার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকার ওপরে, যা একজন সরকারি চাকুরিজীবীর বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ ও সন্দেহজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারী এবং বিশেষ করে শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের সরাসরি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া স্পষ্টত বেআইনি।১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য অন্য কোনো পদে নিয়োজিত হতে পারবেন না কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো মুনাফাভিত্তিক পেশায় যুক্ত হতে পারেন না। সার্জেন্ট অব পুলিশ পদে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) তে কর্মরত থেকে পরিহন খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই যখন বাণিজ্যিক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক বা মালিক হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন সড়কের শৃঙ্খলা বিধান ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

‎পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করা কেবল বেআইনিই নয়, বরং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সরাসরি সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের অসদাচরণ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ভাবমর্যাদা সাধারণ মানুষের কাছে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বিধিমালা অনুসরণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

‎ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব সিএনজি চালিত অটোরিকশার মালিকানার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অমান্য করে কীভাবে তিনি এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন-এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি।

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গণমিছিলের ডাক

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ এম
মিঠামইনে বিএনপি নেতা  জাহাঙ্গীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গণমিছিলের ডাক

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিলের ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মিঠামইন বাজার থেকে এ গণমিছিল শুরু হবে।

উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে প্রচারিত পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে শহীদ এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দলের নেতা ও অহংকার উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

কর্মসূচিতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে মিঠামইন বাজারে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলটির নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতেই শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দীন ভূইয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় এ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমরা চাই, আমাদের নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই গ্রেপ্তার হোক এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। শনিবারের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।