প্রকাশের সময়: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:০৪ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আলীকদম থানার নারী কনস্টেবল রুবিনার বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধি।।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তিকে পুঁজি করে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও একাধিক পুরুষের সঙ্গে অসংলগ্ন সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নারী পুলিশ কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। বিয়ে করে সংসার পাতা, বাড়ী নির্মাণ ও কিস্তি পরিশোধের অজুহাতে স্বামী আনোয়ার হোসেনের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পুরোপুরি চেনা স্বামীকে অচেনা বলে দাবি করছেন তিনি। বর্তমানে বান্দরবানের আলীকদম থানায় কর্মরত এই নারী সদস্যকে ঘিরে খোদ পুলিশ প্রশাসনে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কর্মরত থাকাকালীন পরিচয় হয় দৈনিক জনবাণী পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। পরিচয়ের পর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন দক্ষিণ ভোগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের পরপরই চতুরতার আশ্রয় নেন রুবিনা আক্তার। ডিপার্টমেন্টের পদোন্নতি পরীক্ষা (এএসআই) দেওয়ার অজুহাতে কাবিননামা রেজিস্ট্রিতে নানাভাবে বিলম্ব করতে থাকেন তিনি। দাম্পত্য জীবনের সুযোগ নিয়ে মাদারীপুরে নিজ বাড়ি নির্মাণ ও কমিউনিটি ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধের কথা বলে স্বামী আনোয়ারের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন রুবিনা। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও আরও ৩৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় রুবিনার চালচলন ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোনে অসংলগ্ন যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর। স্ত্রীর এমন অপকর্ম ও নৈতিকতাবিরোধী আচরণের প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রুবিনা। প্রতারণা সহ্য করতে না পেরে আনোয়ার হোসেন আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও মেলেনি বিচার বা প্রতিকার।

পরবর্তীতে বদলিসূত্রে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা হয়ে বর্তমানে বান্দরবানের আলীকদম থানায় কর্মরত আছেন রুবিনা। বর্তমানে তিনি তার স্বামীকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন এবং বিয়ের কথা বেমালুম চেপে গিয়ে উল্টো আনোয়ারকে হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চক্রান্ত করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সব হারিয়ে নিঃস্ব, সুবিচারের আশায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দরজায় ঘুরি। একজন পুলিশ সদস্যের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। সে আমার সংসার ভেঙেছে, লাখ লাখ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে। আমি যখন তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারি এবং সত্যের প্রতিবাদ করি, তখনই সে আমাকে পর বানিয়ে দেয়। এখন সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সে আমাদের বিয়ের কথা অস্বীকার করছে। এমনকি আমাকে নানা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ বিভাগের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় এই নারী কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা ও আমার টাকা উদ্ধারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চেয়ারম্যান: তানভীর হাসান তপু ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: আতিকুল ইসলাম। বার্তাকক্ষ: newsutvbd@gmail.com. কপিরাইট © ইউটিভি বাংলাদেশ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন