পুলিশ কনস্টেবল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ‘চোরাই মোবাইল’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী মো. হোজাইফা হোসেন শাহান(২১)।
অভিযোগের তীর গৌরীপুর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. রুবেল এবং তাঁর আত্মীয় মোশাররফের দিকে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বোনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছিলেন শাহান। এ সময় মোশাররফ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে অবস্থান জানতে চান। অবস্থান জানালে মোশাররফ ও কয়েকজন ব্যক্তি হাসপাতালের প্রধান ফটকে এসে শাহানের ব্যবহৃত অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহান এর প্রতিবাদ করলে মোশাররফ নিজেকে পুলিশের লোক পরিচয় দেন এবং তাঁকে মোবাইল চোর হিসেবে অভিযুক্ত করেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। এ সময় একটি জিডির খসড়া কপি দেখানো হয়। শাহান ওই কপিটি কৌশলে তাঁর এক ফুফাতো ভাইয়ের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তাঁকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন শাহান। তাঁর দাবি, উত্তর বাজার মোড়ের কাছে গিয়ে জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত মোটরসাইকেলের চাবি বন্ধ করে দেন। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মোশাররফকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর গৌরীপুর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. রুবেল তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো এবং ‘চোরাই মোবাইল’ ব্যবহারের অভিযোগে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শাহান।
ভুক্তভোগীর দাবি, যে জিডির খসড়া তাঁকে দেখানো হয়েছিল, সেখানে চুরি যাওয়া মোবাইলের ব্র্যান্ড হিসেবে ‘Redmi’ উল্লেখ ছিল। অথচ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিল ‘Infinix Hot 30i’। এ অবস্থায় তাঁকে জোর করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং পরে পুলিশ সদস্যের পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শাহানের অভিযোগ, মোশাররফ তাঁর আত্মীয় হওয়ায় কনস্টেবল রুবেল সরকারি পদ ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) ছাড়া অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কনস্টেবল রুবেল ও মোশাররফের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কনস্টেবল মো. রুবেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোশাররফ তাঁর আত্মীয় বলে স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, পুরো বিষয়টি ‘জটলা বা গোলমালে’ পরিণত হয়েছে।
তবে একজন পুলিশ সদস্যের এখতিয়ার ও দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো নাগরিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। ওই জিডির বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাঁকে কে দিয়েছেন এবং পদাধিকারবলে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব দেননি রুবেল।
ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনাটির পেছনে কোনো পুলিশ সদস্যের ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








