মিঠামইনে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের মতবিনিময়
মাদকের ভয়াবহতা রোধ ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণার দাবিতে সর্বস্তরের পেশাজীবীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলি’—স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এ সভার আয়োজন করে মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তব্য দেন শিক্ষক জুনায়েদুল ইসলাম, অধ্যাপক জহরুল লাল দাস, নুরুল আমিন, নুরে আলম, দিলকুশ উদ্দিন মানিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নরিছলাম সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাফির উদ্দিন, বিএনপি নেতা শাহরিয়ার আলম তপন, বিএনপির গ্রিস নেতা আশরাফ উদ্দিন ঠাকুর টিপু, বাসেত সিকদার, ছাত্রদল নেতা মাহমুদুর রহমান মাহিন, ইমাম মহিউদ্দিন, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা আবুল কাশেম, সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হারুন, সাংবাদিক ওমর ফারুক, সাবেক সেনাসদস্য আব্দুল বাতেন, জুলাই যোদ্ধা রিতা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনের নেতা মতিউর রহমান মান্না।
এ ছাড়া চিকিৎসক, আইনজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তরুণ সমাজ এবং সচেতন নাগরিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদক প্রতিরোধে সামাজিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, ‘মাদককে না বলি, জীবনকে হ্যাঁ বলি।’ মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পেশাজীবীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু এখন মাদক কারবারিরা দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষায় আমরা জিহাদ ঘোষণা করছি।’
সভা শেষে উপস্থিত সবাই সম্মিলিতভাবে মিঠামইনকে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।













