মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এক তরুণ। সামনে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় জানা গেল, তাঁর বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। এতে চাকরি পাওয়া নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
পরিবারটির নিজস্ব কোনো জমিও নেই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে যখন পরিবারটি দিশাহারা, তখন পাশে দাঁড়ালেন তাঁদেরই এক প্রতিবেশী।
তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আর চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ মুসলিম।
ধর্মীয় পরিচয়ের এই ভিন্নতা তাঁদের মানবিক সম্পর্কে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ওই প্রতিবেশী নিজের জমি থেকে এক শতক জমি তরুণটির নামে বিনা মূল্যে দান করে দিয়েছেন। শুধু জমি লিখে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; দলিলের রেজিস্ট্রেশন খরচও বহন করেছেন নিজের পকেট থেকে।
গত ৪ অক্টোবর জুড়ী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারি বিধিমালা ও গোপনীয়তার কারণে আপাতত দাতা ও গ্রহীতার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি শুধু একজন তরুণের চাকরির স্বপ্ন বাঁচানোর গল্প নয়; এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতারও এক অনন্য উদাহরণ।
একজন মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়াতে একই ধর্মের হতে হয় না, একই মতের হতে হয় না, এমনকি আত্মীয়ও হতে হয় না। প্রয়োজন শুধু মানুষের প্রতি মানুষের দায়বোধ।
এক শতক জমির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু চাকরির স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণের কাছে এর মূল্য হয়তো একটি জীবনের সমান। কারণ জমিটুকু শুধু একটি সম্পত্তি নয়—এটি তাঁর ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেওয়ার একটি সুযোগ।
আমাদের সমাজে ধর্ম, রাজনীতি ও মতাদর্শের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে যখন বিভাজন তৈরি হয়, তখন জুড়ীর এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা।
একজন হিন্দু প্রতিবেশী একজন মুসলিম তরুণের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু এক শতক জমি দেননি; তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, বিপদের সময়ে মানবতার কোনো ধর্মীয় সীমানা নেই।
জুড়ীর এই মানুষটির পরিচয় হয়তো আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু তাঁর কাজের পরিচয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হৃদয়ে।
ধর্মের পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতার ঠিকানা একটাই—মানুষের পাশে মানুষ।

রনি বসু।।