সাদ্দাম হত্যা মামলা নিয়ে ময়মনসিংহে তীব্র সমালোচনা
ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া উত্তরপাড়ায় সাদ্দাম হোসেন হত্যা মামলায় আসামি করার ধরন নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার তথ্য না থাকা সত্ত্বেও রাফেল নামে এক ব্যক্তিকে মামলার ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলার আসামির সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আকুয়া উত্তরপাড়ায় নিজ ঘরে সাদ্দাম হোসেন খুন হন। এ ঘটনায় পরে তাঁর মা আছমা খাতুন (৫৬) বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৭ অক্টোবর রুজু হয়; মামলা নম্বর ৩৬।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় সাদ্দামের সঙ্গে একই ঘরে ছিলেন অন্তর নামের এক ব্যক্তি। তাদের দাবি, ঘটনার পর এলাকাবাসী অন্তরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সে সময় অন্তর একাই সাদ্দামকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন এমন দাবিও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
তবে হত্যা মামলায় শেষ পর্যন্ত পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাফেলকে আসামি করা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তি কিংবা মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে রাফেলের এমন কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের তথ্য তারা জানেন না।
মামলার এজাহারে বাদী আছমা খাতুন অভিযোগ করেন, রাফেল অপরাপর আসামিদের দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ লাগাতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের সূত্র ধরেই রাফেলকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, পূর্ববিরোধের অভিযোগ থাকলেই কি একজন ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় আসামি করা যায়? তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দেওয়া অভিযোগের ধরন ও আসামির সংখ্যা একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। কখনো নয়জন, কখনো ছয়জন এবং সর্বশেষ পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগ দেওয়া হয় বলে তাঁরা দাবি করেন। এরপর পুলিশ নিয়মিত মামলা রুজু করে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার সময় ঘরে তিনজনের বেশি ব্যক্তি ছিলেন না। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম ও অন্তর মাদক সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অন্তরের স্ত্রীর সঙ্গে সাদ্দামের আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং পরে সাদ্দামকে হত্যা করা হয়। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন, হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল এবং মামলায় পাঁচজনকে আসামি করার ভিত্তি কী এসব বিষয় তদন্তে পরিষ্কার হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি নিয়ে নগরীতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্দোষ কেউ আসামি হয়ে থাকলে তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।









