শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের সাহারগঞ্জ, আম্বিকাগঞ্জ বাজার ও আশেপাশের এলাকা জুড়ে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা, যার ফলে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় প্রায় ২০টির মত প্যাথলজি ও ফার্মেসি রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার থাকলেও বাকী দিনগুলোতে রেজিস্টার ছাড়াই ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টগুলোতে প্রায়শই ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা রোগীদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, যা এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

সারা বাংলাদেশে যখন রেজিস্টার বিহীন ডাক্তারদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তখন পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে ভূয়া ডাক্তারদের রমরমা ব্যবসা। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞানতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন সমাজ সেবক জানান, শহর থেকে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার আসলেও বাকি দিনগুলোতে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন অনুমোদনহীন, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কাগজপত্র ও পরিবেশের অনুমতি না থাকার কারণে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কল দিলে একজন মুটোফোনের কল রিসিভ করলে তার কাছে অনুমোদন ও সাস্থ্যসেবা সর্ম্পকে জানতে চায়লে তিনি এক কথায বলেন বেশীর প্রতিষ্ঠানের সঠিক অনুমোদন নেই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: ফয়সাল মুঠো ফোনে জানান,

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আন্তরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ বিষয়ে এক মতামত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ী দোষী ব্যাক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রধান করতে যে কোন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

তিনি আরো বলেন, অনুমতিবিহীন কোন কোন প্রতিষ্ঠান আছে এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি নেওয়া কোথায় কী করতে হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতি/ছাড়পত্র ব্যতিত কোন প্যথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হল চালু করা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত। এ ধরণের ক্লিনিক যত্রতত্র চালু থাকলে অপচিকিৎসার কারণে রোগীর জীবনহানীর আশংকা থাকে।

ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চলে বিদ্যমান অনুমোদনহীন প্যাথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হলগুলো নিয়মের আওতায় আনা জরুরি।। যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে চরাঞ্চলে ক্লিনিকগুলো পরিচালনা হলে অপচিকিৎসার হাত থেকে সাধারণ রোগী আশকাংমুক্ত থাকবে বলে মনে করি। এছাড়া,

চরাঞ্চলে স্থাপিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করা হোক। তাহলে এলাকার সাধারণ মানুষে রাষ্ট্রের চিকিৎসাসেবার সুফল পাবে।

সচেতন মহল মনে করেন, এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতি উন্নত করতে জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে, রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া, চরাঞ্চলের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার পাশাপাশি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করাও জরুরি।

মিঠামইনে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী কোহিনুরের সন্ধান মেলেনি, হত্যার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৫ এম
মিঠামইনে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী কোহিনুরের সন্ধান মেলেনি, হত্যার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর (১৬)-এর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১১টায় মিঠামইন সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেন মিঠামইন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারি কলেজ, হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

নিখোঁজ কোহিনুরের মা নাহার বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়েকে হৃদয় নামে এক যুবক হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।

জানা যায়, তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর গত শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় তাঁর মা নাহার বেগম মিঠামইন থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

কোহিনুর মিঠামইন হেলিপ্যাড সংলগ্ন মাইনুদ্দিনের কলোনিতে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা মৃত ফজলু মিয়া।

পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিবেশীরা কোহিনুরকে অটোরিকশাচালক হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয়ের সঙ্গে কোহিনুরের পূর্বপরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান।

নাহার বেগম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি না ফেরায় তিনি প্রাইভেট শিক্ষিকা কমল ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন জানতে পারেন, সেদিন কোহিনুর প্রাইভেটে যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

এদিকে সোমবার (২৯ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে হামিদপল্লীর পেছনে স্থানীয় লোকজন একটি মরদেহ ভাসতে দেখার দাবি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। কোহিনুরের মা দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা মরদেহটি তাঁর মেয়ের। তবে নদীর স্রোতের কারণে এখনো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হৃদয় নামে এক অটোরিকশাচালককে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ময়মনসিংহে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়, ক্রীড়া সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়, ক্রীড়া সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিবান্ধব করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের দক্ষ, নৈতিক ও প্রযুক্তি-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রধান অতিথিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পাঠদানে মনোযোগ এবং সার্বিক কল্যাণে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব উল হাসানের কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন, সদস্যসচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, বিএনপি নেতা মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

মিঠামইনে সাংবাদিক ওমর ফারুকের ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, মাথায় গুরুতর জখম

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৫:১২ পিএম
মিঠামইনে সাংবাদিক ওমর ফারুকের ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, মাথায় গুরুতর জখম

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে দৈনিক সকাল বেলা পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক ওমর ফারুকের ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ধলাই-বগাদিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিক ওমর ফারুককে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওমর ফারুক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় জেলে সাইদুল হত্যা মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি ‘মাদক, চোর-ডাকাত ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের করণীয় কী?’ শিরোনামে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, এরই জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধলাই-বগাদিয়া বাজারে গেলে আজাহার ও আইয়ুব রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ওমর ফারুক বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধার না করলে আমি হয়তো বেঁচে ফিরতে পারতাম না। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কিশোরগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”