রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের সাহারগঞ্জ, আম্বিকাগঞ্জ বাজার ও আশেপাশের এলাকা জুড়ে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা, যার ফলে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় প্রায় ২০টির মত প্যাথলজি ও ফার্মেসি রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার থাকলেও বাকী দিনগুলোতে রেজিস্টার ছাড়াই ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টগুলোতে প্রায়শই ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা রোগীদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, যা এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

সারা বাংলাদেশে যখন রেজিস্টার বিহীন ডাক্তারদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তখন পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে ভূয়া ডাক্তারদের রমরমা ব্যবসা। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞানতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন সমাজ সেবক জানান, শহর থেকে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার আসলেও বাকি দিনগুলোতে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন অনুমোদনহীন, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কাগজপত্র ও পরিবেশের অনুমতি না থাকার কারণে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কল দিলে একজন মুটোফোনের কল রিসিভ করলে তার কাছে অনুমোদন ও সাস্থ্যসেবা সর্ম্পকে জানতে চায়লে তিনি এক কথায বলেন বেশীর প্রতিষ্ঠানের সঠিক অনুমোদন নেই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: ফয়সাল মুঠো ফোনে জানান,

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আন্তরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ বিষয়ে এক মতামত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ী দোষী ব্যাক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রধান করতে যে কোন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

তিনি আরো বলেন, অনুমতিবিহীন কোন কোন প্রতিষ্ঠান আছে এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি নেওয়া কোথায় কী করতে হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতি/ছাড়পত্র ব্যতিত কোন প্যথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হল চালু করা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত। এ ধরণের ক্লিনিক যত্রতত্র চালু থাকলে অপচিকিৎসার কারণে রোগীর জীবনহানীর আশংকা থাকে।

ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চলে বিদ্যমান অনুমোদনহীন প্যাথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হলগুলো নিয়মের আওতায় আনা জরুরি।। যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে চরাঞ্চলে ক্লিনিকগুলো পরিচালনা হলে অপচিকিৎসার হাত থেকে সাধারণ রোগী আশকাংমুক্ত থাকবে বলে মনে করি। এছাড়া,

চরাঞ্চলে স্থাপিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করা হোক। তাহলে এলাকার সাধারণ মানুষে রাষ্ট্রের চিকিৎসাসেবার সুফল পাবে।

সচেতন মহল মনে করেন, এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতি উন্নত করতে জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে, রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া, চরাঞ্চলের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার পাশাপাশি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করাও জরুরি।

পথনাটকে পরিচ্ছন্ন নগরের বার্তা, ময়মনসিংহে ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০১ পিএম
পথনাটকে পরিচ্ছন্ন নগরের বার্তা, ময়মনসিংহে ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ

পরিবেশ সংরক্ষণ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের উদ্যোগে এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় পরিবেশ সচেতনতামূলক পথনাটক ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমনা আল মজীদ (উপসচিব), মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান, জেলা কালচারাল অফিসার আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন, সিরাক বাংলাদেশের প্রতিনিধি কামরান মিয়া, ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পথনাটকে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিপাদ্য ছিল, “শহর যদি হয় পরিষ্কার, সুস্থ থাকবে পরিবার।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

পথনাটকটি রচনা করেন যুব কাউন্সিলর মো. সজিব হাসান (সানি)। নির্দেশনায় ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম রবিন। এতে অভিনয় করেন মো. রবিন মিয়া, মিনহাজুল ইসলামসহ ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের সদস্যরা।

গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে আধুনিক সেবায় এগিয়ে মেছিডেঙ্গীর সোহাগ মিয়া

মাহমুদ হাসান আলিফ, গৌরিপুর।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে আধুনিক সেবায় এগিয়ে মেছিডেঙ্গীর সোহাগ মিয়া

গৌরীপুরের লঙ্কার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সোহাগ মিয়ার দোকানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নিত্যপণ্য সংগ্রহের অন্যতম আস্থার স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দোকানটিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

দোকান মালিক সোহাগ মিয়া জানান, স্থানীয় গ্রাহকদের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি পণ্যের গুণগত মানের বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করছেন। দোকানের সব পণ্যের প্যাকেজিং ও মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারেন।

ডিজিটাল সেবার এই যুগে সোহাগ মিয়া তার দোকানে বিকাশ এজেন্টসহ আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছেন। এতে স্থানীয় মানুষ খুব সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন, যা এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও কষ্ট দুটোই সাশ্রয় করছে।

এলাকাবাসী জানান, সোহাগ মিয়ার দোকানে সব সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে এবং দোকানের পরিবেশ বেশ গোছানো।

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সুজিত দাস বলেন, বাজারের মাঝামাঝি সময়ে এমন একটি দোকান থাকা আমাদের জন্য খুবই সুবিধাজনক। সোহাগ মিয়ার এই ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও গ্রাহকসেবার মানসিকতা স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দিনেও তিনি তার এই সেবার মান ধরে রেখে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪০০ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪০০ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উদ্যোগে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর ও ব্যবসা উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের মাঝে মোট ৪০০টি বীমা দাবির চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য বি এম ইউসুফ আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী, ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (আল-আমিন বীমা প্রকল্প) মো. আবু তাহের, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (জনপ্রিয় বীমা প্রকল্প) মো. কামাল হোসেন মহসিন এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইসলামী ডিপিএস প্রকল্প) মোহাম্মদ খলিলুর রহমান সিকদার।

এ সময় বক্তব্য দেন আল-বারাকাহ ইসলামী ডিপিএস প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক কে এম বিল্লাল হোসেন, পপুলার ডিপিএস প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মো. সোলায়মান হোসেন সোহাগ এবং পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বিভিন্ন প্রকল্পের ইনচার্জরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (সমন্বয়কারী, ময়মনসিংহ) সাকিল মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি পরিশোধে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণ, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং বীমা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা গ্রাহকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০০টি বীমা দাবির চেক তুলে দেন।