শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড-ইট বিক্রির অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়নের চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়ন ভেঙে রড, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা কীভাবে এবং কার অনুমতিতে ভেঙে ফেলা হলো এ নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠটি সিরতা ইউনিয়নের অন্যতম বড় খেলার মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে এ মাঠে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা হয়ে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবেও মাঠটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মাঠে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্যাভিলিয়নটি সম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানকার রড, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা ব্যক্তি বা কোনো প্রভাবশালী মহল নিজেদের ইচ্ছামতো ভেঙে এর নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করতে পারে কি না। যদি স্থাপনাটি পরিত্যক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এ বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলার ঘটনায় চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মাঠ ও এর স্থাপনাগুলো রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অথচ প্যাভিলিয়ন ভেঙে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তবে প্যাভিলিয়নটি কী কারণে ভাঙা হয়েছে, কার অনুমতিতে ভাঙা হয়েছে এবং ভাঙার পর রড-ইটসহ নির্মাণসামগ্রী কোথায় নেওয়া হয়েছে এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, চর খরিচা মাঠটি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, পুরো সিরতা ইউনিয়নের শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। মাঠের প্যাভিলিয়ন ভেঙে ফেলায় খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মাঠের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, প্যাভিলিয়ন নির্মাণে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ, নির্মাণের সময়কাল, স্থাপনাটি ভাঙার অনুমোদন এবং ভাঙা অংশের রড-ইটসহ অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থাপনাটি অনুমোদন ছাড়া ভেঙে ফেলা এবং সরকারি সম্পদের কোনো অংশ আত্মসাৎ বা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়াপ্রেমীরা দ্রুত প্রশাসনিক ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্যাভিলিয়ন ভাঙার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে মাঠের ক্রীড়া পরিবেশ ফিরিয়ে এনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাদকের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চান মসিক এর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫১ এম
মাদকের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চান মসিক এর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডবাসী

মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী মিছিল করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী। স্থানীয়দের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলটি নগরীর বাইপাস মোড়সহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিল থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও নিরাপদ জীবন গড়ার আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।

মিছিল চলাকালে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি মিছিল ও মাদকবিরোধী কমিটিকে উদ্দেশ করে বিদ্রূপাত্মক স্লোগান দেন। এতে সাময়িক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও মিছিলকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আয়োজকেরা বলেন, কোনো ধরনের বিদ্রূপ, প্রতিবন্ধকতা কিংবা নেতিবাচক প্রচারণা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে থামাতে পারবে না। মাদকের বিস্তার রোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করা হবে।

তাঁরা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এর প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি পরিবারের নজরদারি, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

এদিকে, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের এ উদ্যোগ মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ তৈরি করবে।

ময়মনসিংহে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০২ পিএম
ময়মনসিংহে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকানে ঢুকে মো. রাব্বী (২৭) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিহত রাব্বী নগরীর মাসকান্দা হাইস্কুল রোড এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাব্বী তার দোকানের আশপাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে রাব্বী দৌড়ে নিজের দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা পিছু নিয়ে দোকানের ভেতর ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় রাব্বীকে দোকানের ভেতরে ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পাসপোর্ট অফিস ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত রাব্বীর প্রতিবেশী সাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরেই রাব্বীকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

ওসি বলেন, হত্যাকাণ্ডে সাব্বির ও তার ভাইয়ের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, পাসপোর্ট অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকার সামনে একটি দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হামলার সঙ্গে জড়িতদের সংখ্যা এবং ঘটনায় আরও কেউ সম্পৃক্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফল প্রকাশের পর নিখোঁজ, দুই দিন পর অগভীর পুকুরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
ফল প্রকাশের পর নিখোঁজ, দুই দিন পর অগভীর পুকুরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর বদরুন্নাহার সীমা (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির অদূরের একটি পুকুরে মাত্র ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পুঙ্গায়াই পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত বদরুন্নাহার সীমা ওই গ্রামের বদরুজ্জামান বকুল ও বেবি আক্তারের মেয়ে। সে পুঙ্গায়াই উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল সীমা।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় সীমাকে বকাঝকা করেন তার মা। ওই দিন দুপুর ১২টার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে। তখন তার মা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল সীমা।

পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। অবশেষে বুধবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরের একটি পুকুরে স্থানীয়রা তার মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পুকুরটিতে পানির গভীরতা ছিল আনুমানিক ২ থেকে ৩ ফুট। এমন অগভীর পানিতে সীমার মৃত্যু কীভাবে হলো, তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা বদরুজ্জামান বকুল বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছেন তারা। পরীক্ষায় খারাপ করায় মন খারাপ করে হয়তো কারও বাড়িতে চলে গেছে এমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু এভাবে মেয়ের মরদেহ দেখতে হবে, তা কল্পনাও করেননি। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, কিছুই বুঝতে পারছেন না তিনি।

তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলাল উদ্দিন বলেন, নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরের একটি পুকুরে ২ থেকে ৩ ফুট পানির মধ্যে মরদেহটি পাওয়া গেছে। পুকুরের পানির গভীরতা বিবেচনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে সুরতহালে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তরুণীর মরদেহ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুতই বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।