বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংবাদ সংগ্রহে বাধা: নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংবাদ সংগ্রহে বাধা: নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালে যান। এ সময় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি আবু সালেহ মো. মুসাসহ কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন এবং রোগীদের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করেন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় উপস্থিত এক নারী চিকিৎসক হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই তিনি সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং চিৎকার করে গার্ড ও আনসার সদস্যদের ডেকে সাংবাদিকদের ওয়ার্ড থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবু সালেহ মো. মুসা, দেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান কাউসার মিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সুমন আহমেদ এবং স্থানীয় অনলাইন টেলিভিশন আঙ্গর টিভির প্রতিনিধি শাওন ও জহিরুল।

সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা বলেন, “আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি নিয়েই হাম রোগের তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। অফিসের এসাইনমেন্ট অনুযায়ী হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো উস্কানি ছাড়াই ওই নারী চিকিৎসক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং গার্ড ডেকে আমাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সংশ্লিষ্ট নারী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।”

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, “ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকিস্বরূপ। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা আমার অনুমতি নিয়েই হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।