শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) সকালে পরিদর্শন কালে স্বাস্থ্যসেবায় রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন ও সদাচরণ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সদর-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের রোগীসেবার মান, চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-সেবা নিয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় রোগীদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলে হাসপাতালের সেবার মান সম্পর্কে মতামত শোনেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। প্রত্যেক রোগী যেন যথাযথ, সময়োপযোগী ও মানবিক চিকিৎসা সেবা পান, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানবিক সেবার মহান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এই উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি পায়, সে বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ সময় হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে এমপিকে অবহিত করেন। এমপি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের সঙ্গে সদাচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নির্দেশ দেন, জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে এবং কোনো রোগী যেন অবহেলার শিকার না হন। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের সময়মতো উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর মনোযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান সন্তোষজনক হলেও কিছু বিষয়ে উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন তিনি। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩২ এম
ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

ময়মনসিংহ নগরীর বাঘমারা এলাকায় মমেক এর একটি ছাত্রাবাসে ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ ঘটনায় অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো হোস্টেল এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হামিদুর নামের এক শিক্ষার্থী ২০২ নম্বর কক্ষে মোয়াজ নামে আরেক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এর জের ধরে সন্ধ্যার দিকে হোস্টেল ক্যান্টিনে চা পান করতে গেলে হামিদুরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মোয়াজ লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত হামিদুরকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে রাতে পুলিশ মোয়াজকে গ্রেফতার করতে গেলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হামিদুরের পক্ষের নাফিউল নামের আরেক শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মোয়াজকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মোয়াজ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই নাফিউলকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার পর পুরো হোস্টেল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

শামীম খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ এম
ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

থানায় মামলা হয়েছে ঠিক এক বছর আগে। দায়েরকৃত এজাহারে সুনির্দিষ্ট ১১ জন আসামির নামসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামার উল্লেখ আছে। আছে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ। অথচ রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ ১২ মাসেও একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা পুলিশ। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আসামীদের গভীর সখ্যতা আর অনৈতিক লেনদেনের কারণে থমকে আছে বিচারের চাকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশালের বিয়ার্তা উত্তরের চরে জহির এগ্রো ফার্ম-এ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। বাদী খাদিজা খাতুনের ছেলে মোঃ খাইরুল বাশার হামীমের এই খামারে ঢুকে চারটি দোচালা ঘর ভাঙচুর, প্রায় ২০০ ফলজ ও ওষুধি গাছ নিধন এবং পুকুর থেকে মাছ লুটে নেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, খামারে থাকা প্রায় ৫০টি ছাগল (যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। বাধা দিতে গেলে খামারের মালিক হামীম, ম্যানেজার মাকসুদুল এবং লেবার মনির হোসেনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রাণভয়ে তারা পালিয়ে গেলে ৪নং আসামির হুকুমে ১নং ও ৫নং আসামি পেট্রোল ঢেলে স্টুডিও রুমে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মূল্যবান ভিডিও ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইপিএস, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশাল থানায় ১৮(০৪)২৫ নং মামলাটি রুজু করেন ওসি মনসুর আহমেদ ও তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল।

কিন্তু আজ পর্যন্ত তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, ত্রিশাল থানার বর্তমান ওসি মনসুর আহমেদ ও ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেলের সাথে আসামিদের চরম ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

বাদী খাদিজা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ সব জেনেও নীরব। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, ওসি তদন্ত আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের আড়াল করছেন। পর্যাপ্ত সাক্ষী ও প্রমাণ থাকার পরও এক বছরে একজনকেও গ্রেফতার না করা কি স্বাভাবিক? আমরা কি তবে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব? আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে দায় এড়াচ্ছে। এর ফলে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলা তুলে নিতে আসামিরা নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অতি দ্রুত এই মামলাটি পিবিআই বা উচ্চতর কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং পুলিশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই বিষয়ে জানতে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনের রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় কিংবা অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

ময়মনসিংহে ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম
ময়মনসিংহে ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত

ময়মনসিংহে গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মোছা: সুমি ওরফে সুমা (৩০)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত সুমি ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহর স্ত্রী। ঘটনার সময় অলিউল্লাহ ঘরের পাশের একটি গাছের ডাল কাটছিলেন। এ সময় তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী নাছিমা (৪০) ডাল কাটতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধে রূপ নেয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় নাছিমার স্বামী মো. খলিল (৩৫) ঘর থেকে ছুরি এনে সুমার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত খলিল ও তার স্ত্রী নাছিমাকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।