বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহের গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু !

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৪৯ পিএম
ময়মনসিংহের গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু !

শুক্রবার (১৫ আগষ্ট) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় ৫ মাস বয়সী ওয়ালিদ হাসান নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সে উপজেলার শালীহর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে অবস্থান নেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো: শামীম নোমান।

মৃত শিশুর পিতা বিল্লাল হোসেন জানান, গত বুধবার দুপুরে ওয়ালিদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বিকেলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শামীম ভর্তি না করিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

আগেরদিন বৃহস্পতিবার আবারও বাচ্চাটির শ্বাসকষ্ট হলে তাকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়। তখন ওই চিকিৎসক একটি এক্স-রে করান ও কিছু ওষুধ দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। শিশুটিকে বাড়িতে আনার পর অবস্থার অবনতি ঘটলে সন্ধ্যায় আবার হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁরা। তখন চিকিৎসক শিশুটিকে ভর্তি না করিয়ে আবার এক্স-রে করে ওষুধ লিখে দিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন।

এ সময় শিশুটির বাবা বিল্লাল চিকিৎসক শামীমকে বলেন, এখানে চিকিৎসা সম্ভব না হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চিকিৎসক। তিনি ধমক দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কি আমার চেয়ে বড় ডাক্তার?’ পরে শুক্রবার ভোরে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিল্লাল বলেন, ‘চিকিৎসক যদি সময়মতো আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে সঠিক চিকিৎসা দিতেন, তাহলে সে বেঁচে থাকত, মারা যেত না। আমি এই চিকিৎসকের বিচার চাই।’

শিশুটির স্বজন রুনা বলেন, ‘আমরা শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে দুই দিন এলেও চিকিৎসক ভর্তি না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আমরা ময়মনসিংহে নিয়ে যেতে চাইলাম, সেখানেও যেতে দিলেন না, যে কারণে আমার ভাগনে মারা গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং এই চিকিৎসকের শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চিকিৎসক শামীমের মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর ভাটকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে আজ হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা যায়। ডাক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ‘হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।