রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসেঞ্জারের ‘মিম’ থেকে মধ্যরাতে দুই হলে সংঘর্ষ

বাকৃবিতে মুখোমুখি দুই আবাসিক হল, ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪, আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
বাকৃবিতে মুখোমুখি দুই আবাসিক হল, ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪, আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে দেওয়া ‘মিম’ পোস্টকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত গড়াল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে। শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

শুধু দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষই নয়, এ ঘটনায় একটি হলের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপর হলে গিয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে। রাতের সংঘর্ষে দুই হল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের একটি অফিশিয়াল মেসেঞ্জার গ্রুপে। ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই গ্রুপে একটি ‘মিম’ পোস্ট করা হয়। পোস্টটি নিয়ে আপত্তি তোলেন এক শিক্ষার্থী। গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এ নিয়েই শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। প্রথমে বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সেই কথাকাটাকাটি দ্রুত ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ নেয়। পরে একই অনুষদের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেই বিরোধের রেশ গিয়ে পড়ে দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হল থেকে বেরিয়ে আসেন। এতে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের একদল শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে মাওলানা ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দুই হল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে নিরাপত্তার আশঙ্কায় নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

সংঘর্ষে আহত চার শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়েছে। আহতদের অধিকাংশই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন থেকে চারজন। তাঁরা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রূপ নেয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল কি না। একই সঙ্গে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা কীভাবে এত দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নিল, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। তবে পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার পর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, ভাঙচুরের ঘটনায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মেসেঞ্জার গ্রুপের তুচ্ছ বিতর্ক কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রূপ নিল, এর পেছনে কারা উত্তেজনা উসকে দিয়েছে এবং সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ছিল এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য বিরোধ যেন আবাসিক হলকেন্দ্রিক সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি

ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ ৫ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ পিএম
ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ ৫ আগস্ট

ময়মনসিংহে কর্মরত শতাধিক পেশাদার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদপত্র বিতরণ ও সম্মাননা অনুষ্ঠান আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শহীদ আব্দুল জব্বার হলরুমে বিকেল ৪টায় আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সুধী সমাবেশের।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ও ময়মনসিংহ মহানগর প্রেস ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান।

আয়োজকরা জানান, গত ১৩ থেকে ১৫ জুন তিন দিনব্যাপী নিবিড় সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা তথ্য অফিস, ময়মনসিংহ (গণযোগাযোগ অধিদপ্তর) এবং আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহ (তথ্য অধিদপ্তর)-এর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কর্মশালাটি পরিচালিত হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ময়মনসিংহে কর্মরত অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। এতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, গণমাধ্যমের নীতি ও নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ মহানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আরিফ রেওগী এবং ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব সংস্কার কমিটির মুখ্য সংগঠক জহর লাল দে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় করে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তারা ময়মনসিংহে কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীজনকে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতার মাছের ঘেরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কিশোরের মৃত্যু, লাশ ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ এম
বিএনপি নেতার মাছের ঘেরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কিশোরের মৃত্যু, লাশ ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে একটি মাছের ঘেরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কাজ করতে গিয়ে রাতুল (কিশোর) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার পরিচালিত মাছের ঘেরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তিনি বাগড়া এলাকায় একটি মাছের ঘের পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘেরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

শনিবার দুপুরে ঘেরের বৈদ্যুতিক তার মেরামতের জন্য রাতুলসহ তিন কিশোরকে নৌকাযোগে সেখানে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা একসঙ্গে বৈদ্যুতিক তার মেরামতের কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়ে গেলে তিনজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় রিতু ও অপর এক কিশোর সরে যেতে সক্ষম হলেও রাতুল গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার খবর পেয়ে ঘেরের মালিক স্বপন মিয়া ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি থানায় অবস্থান নিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তারা সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের বাবা, মা ও স্বজনেরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানের মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে স্বপন মিয়া ও রনির বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা: জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আবেদা জাহান লাভলীকে ঘিরে নানা অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা: জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আবেদা জাহান লাভলীকে ঘিরে নানা অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে মামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত আব্দুল হক নুরুর স্ত্রী আবেদা জাহান লাভলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মিঠামইন তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়া গোপদিঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক বাচ্চুসহ আরও কয়েকজনের নামও বিভিন্ন পোস্টে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবেদা জাহান লাভলীর ছত্রচ্ছায়ায় ওই বিদ্যালয়ে কয়েকদিন অবস্থান করেছিলেন। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পোস্ট, শেয়ার ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। আবার কিছু পোস্টে আবেদা জাহান লাভলী ও নুরুল হক বাচ্চুর নাম উল্লেখ করে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “জাহাঙ্গীর হত্যা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ও অভিযোগ প্রচার হচ্ছে, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বা গুজবের ওপর নির্ভর না করে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।