ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা: জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আবেদা জাহান লাভলীকে ঘিরে নানা অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে মামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত আব্দুল হক নুরুর স্ত্রী আবেদা জাহান লাভলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মিঠামইন তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়া গোপদিঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক বাচ্চুসহ আরও কয়েকজনের নামও বিভিন্ন পোস্টে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবেদা জাহান লাভলীর ছত্রচ্ছায়ায় ওই বিদ্যালয়ে কয়েকদিন অবস্থান করেছিলেন। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পোস্ট, শেয়ার ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। আবার কিছু পোস্টে আবেদা জাহান লাভলী ও নুরুল হক বাচ্চুর নাম উল্লেখ করে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “জাহাঙ্গীর হত্যা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ও অভিযোগ প্রচার হচ্ছে, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বা গুজবের ওপর নির্ভর না করে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





