বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে হোমিও চিকিৎসকের পদ বাধ্যতামূলক করার দাবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৪:০৯ পিএম
স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে হোমিও চিকিৎসকের পদ বাধ্যতামূলক করার দাবি

দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রতিটি খাতে (সরকারি-বেসরকারি, এনজিও) বাধ্যতামূলক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক নিয়োগে জন্য পদ রাখার দাবি জানিয়েছেন হোমিও চিকিৎসকরা।

হোমিওপ্যাথির জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ২৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর গ্র্যান্ড আজাদ সেন্টারে ইনো হেলথ অ্যান্ড হোমিও ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) এ কে এম সোহেল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম কবির, হোমিও চিকিৎসক ডা. এম এ কাদের, ডা. মো. রাশিদুল হক, ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা, ডা. নাজমুল হাসান জামসন, ডা. নজরুল ইসলাম ভুইয়া, ডা. আলতাফ হোসেন এবং ডা. শাহীন মাহমুদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, হোমিওপ্যাথি একটা পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাব্যবস্থা। সব বয়সের ও সব রোগের জন্যই এটা উপযোগী। দেশের চল্লিশ ভাগ মানুষ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপেও একাধিকবার এটাই প্রমাণিত হয়েছে। মানুষ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের খুব সহজেই কাছে পাচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসা খরচ স্বল্পমূল্যে থাকার কারণে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বেশ জনপ্রিয়।

তারা বলেন, রোগীকে অল্প ওষুধ দিয়ে সুস্থ করে তোলাই হোমিওপ্যাথির মূলমন্ত্র। তবে ডাক্তারদের মধ্যে পেশাগত অহমিকা, লোভ, হিংসা ইত্যাদি ও মাল্টিন্যাশনাল ড্রাগ কোম্পানিগুলি হোমিওপ্যাথিকে তাদের স্বার্থের পরিপন্থি মনে করে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের বিরুদ্ধাচরণ শুরু করে এবং বর্তমানেও তার ধারাবাহিকতা দৃশ্যমান রেখেছে। এ মনোভাব থেকে বের হয়ে চিকিৎসা, পরামর্শ, প্রস্তুতি ও গবেষণা মূলক কার্যক্রমে অবশ্যই হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ টিম অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

হোমিও বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সেবাখাতের উন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্য কমপক্ষে একটি পদ সৃষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং এইচপিএনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/ ইন্সটিটিউট হালনাগাদ করণ, পরীক্ষাগ্রহণে আধুনিকায়ন, সিলেবাস ও পাঠ্যক্রম পূণর্মূল্যায়ন এবং বিশেষায়িত ও উপবিশেষায়িত চিকিৎসকদের জন্য হোমিওপ্যাথিক পদ সৃষ্টি করতে হবে।

তারা বলেন, হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ সরকারি পর্যায়ে মাত্র একটি। আর আসন সংখ্যা মাত্র ৫০টি। নতুন সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আসন সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ জরুরী। প্রতিটি বিভাগে ন্যূনতম ১টি করে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে হবে।

তারা আরও বলেন, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রসূতি মায়েদের অপুষ্টি মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্যমে সহায়তা করতে পারে। বিভিন্ন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা সার্বিকভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসডিজি এমডিজি বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া বিভিন্ন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা, বিভিন্ন ধরনের নতুন রোগও বিদ্যমান রোগগুলোর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা ও নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা আগ্রহী। যেখানে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে অন্যান্য চিকিৎসকরা অবস্থান করতে অনাগ্রহী সেখানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরাই হতে পারে সর্বোত্তম বিকল্প।

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত।

আজ (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।

টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪টি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এই সময়ে জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবি-র মতে, সরকার পতনের পর আগে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি ঘটনায় (৯১ দশমিক ৭ শতাংশ) বিএনপি, ১২৪টি ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ (২০ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ৪৬টি ঘটনায় (৭ দশমিক ৭ শতাংশ) জামায়াতে ইসলামী সম্পৃক্ত ছিল।

টিআইবি জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ৪০১ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৩৩ অস্ত্র নিখোঁজ ছাড়াও ডিপফেক ও ভুল তথ্যের বাড়তি হুমকি, সংখ্যালঘুদের ওপর পঞ্চাশের বেশি হামলার ফলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৬৭ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫৫ কোটি ডলারে নেমে আসে। যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ময়মনসিংহে অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ সফরকালে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তিনি নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে ও পরে সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রিশালে প্রস্তাবিত ‘অলিম্পিক ভিলেজ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, অলিম্পিক ভিলেজ আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।