সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
মমেক হাসপাতালে রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন নিশ্চিত করার আহবান- ওয়াহাব আকন্দ এমপি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) সকালে পরিদর্শন কালে স্বাস্থ্যসেবায় রোগীদের সেবার মানউন্নয়ন ও সদাচরণ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সদর-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের রোগীসেবার মান, চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-সেবা নিয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় রোগীদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলে হাসপাতালের সেবার মান সম্পর্কে মতামত শোনেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। প্রত্যেক রোগী যেন যথাযথ, সময়োপযোগী ও মানবিক চিকিৎসা সেবা পান, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানবিক সেবার মহান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এই উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি পায়, সে বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ সময় হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে এমপিকে অবহিত করেন। এমপি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের সঙ্গে সদাচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নির্দেশ দেন, জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে এবং কোনো রোগী যেন অবহেলার শিকার না হন। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের সময়মতো উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর মনোযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান সন্তোষজনক হলেও কিছু বিষয়ে উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন তিনি। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

রাসুর নেতৃত্বে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় ময়মনসিংহে আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৯ পিএম
রাসুর নেতৃত্বে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় ময়মনসিংহে আনন্দ মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে ময়মনসিংহ মহানগরে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের ১ নম্বর সহসভাপতি মিনহাজুল ইসলাম রাসুর নেতৃত্বে আয়োজিত এ আনন্দ মিছিলে যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এ সময় নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নসহ সকল নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে যুবদল দেশের সর্বস্তরের যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

মহানগর যুবদলের ১ নম্বর সহসভাপতি মিনহাজুল ইসলাম রাসু বলেন, “যুবদল সবসময় জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।”

তিনি নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

পরে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানান এবং যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মিছিল ও সমাবেশে মহানগর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে তদন্তে নামছে শিক্ষা অফিস

মিঠামইনে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমির মাটি আত্মসাতের অভিযোগ

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
মিঠামইনে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জমির মাটি আত্মসাতের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে পুকুর খনন ও মাটি আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের টনক নড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হোসেনপুর গ্রামের মৃত রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে এবং হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, হোসেনপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নং-১০ এবং দাগ নং-২০১৯-এর জমি বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিদ্যালয়ের ৪৮ শতাংশ জমির মাটি কেটে সেখানে পুকুর খনন করেছেন। কাটা মাটি তিনি নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রথমে প্রধান শিক্ষক ভুল স্বীকার করে পুকুর ভরাটের আশ্বাস দেন। তবে পরে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি।

এ ঘটনায় জমিদাতা মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রথম লিখিত অভিযোগ করেন। কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় একই বছরের ১৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দ্বিতীয় দফা অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরও প্রায় ১০ মাস ধরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা অফিস আগামী ১০ জুন হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজ মিয়া আগামী ১০ জুন সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তদন্তের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেও এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগ দায়েরের প্রায় ১০ মাস পর তদন্ত শুরু হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার, পুকুর ভরাট এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ত্রিশালে ধর্ষণ মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫৯ পিএম
ত্রিশালে ধর্ষণ মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ধর্ষণ মামলার এক বাদীকে প্রকাশ্যে গতিরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী নারী। আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তার সহযোগীদের এমন কর্মকাণ্ডে বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ওই নারী।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ত্রিশাল থানায় দায়ের করা জিডি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামি মো. শামীম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তারের পর থেকেই ইমাম মেহেদী শ্যামল (৩৮) নামের এক ব্যক্তি এবং তার নেতৃত্বে কয়েকজন বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বিবাদীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সর্বশেষ গত ৩১ মে দুপুর ৩টার দিকে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইউনাইটেড বাস কাউন্টারের সামনে তাকে গতিরোধ করেন ইমাম মেহেদী শ্যামল ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি। এ সময় মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আইনের আশ্রয় নেওয়ার কারণে আমি এখন আসামিপক্ষের লোকজনের রোষানলে পড়েছি। তারা প্রকাশ্যে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিচারাধীন মামলার বাদী বা সাক্ষীকে হুমকি দেওয়া বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা এবং আইনের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”