প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ । ১১:৩৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাজীপুরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের হেফাজত থেকে পালাল ৩২ মামলার আসামি, গাফিলতির অভিযোগ

ইয়াছিন গাজী, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হেফাজত থেকে ৩২টি মামলার পলাতক ও দুর্ধর্ষ আসামি সম্রাট পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, র‍্যাব-১ সম্রাটকে গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করার দায়িত্ব ছিল সদর থানার এসআই মঞ্জুরুলের ওপর। তবে আদালতের হাজতখানার নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে দিনের আলোয় আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

থানা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কোনাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নাসের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সদর জোনও তদারকি করছেন। একাধিক জোনের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করায় তদারকি ও নজরদারিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এই প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গাজীপুর আদালতের হাজতখানার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উৎকোচের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এবার সেই দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই সম্রাট পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ৩২টি মামলার আসামির এভাবে পালিয়ে যাওয়া জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আদালতের হাজতখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই বাবর বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, সদর থানা পুলিশ আসামিকে যথাযথভাবে হাজতখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেয়নি।

অন্যদিকে সদর থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, আদালতে নেওয়ার পর আসামি পালিয়ে গেছে। পুলিশের দুই পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

চেয়ারম্যান: তানভীর হাসান তপু ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: আতিকুল ইসলাম। বার্তাকক্ষ: newsutvbd@gmail.com. কপিরাইট © ইউটিভি বাংলাদেশ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন