মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের সাহারগঞ্জ, আম্বিকাগঞ্জ বাজার ও আশেপাশের এলাকা জুড়ে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা, যার ফলে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় প্রায় ২০টির মত প্যাথলজি ও ফার্মেসি রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার থাকলেও বাকী দিনগুলোতে রেজিস্টার ছাড়াই ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টগুলোতে প্রায়শই ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা রোগীদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, যা এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

সারা বাংলাদেশে যখন রেজিস্টার বিহীন ডাক্তারদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তখন পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে ভূয়া ডাক্তারদের রমরমা ব্যবসা। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞানতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন সমাজ সেবক জানান, শহর থেকে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার আসলেও বাকি দিনগুলোতে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন অনুমোদনহীন, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কাগজপত্র ও পরিবেশের অনুমতি না থাকার কারণে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কল দিলে একজন মুটোফোনের কল রিসিভ করলে তার কাছে অনুমোদন ও সাস্থ্যসেবা সর্ম্পকে জানতে চায়লে তিনি এক কথায বলেন বেশীর প্রতিষ্ঠানের সঠিক অনুমোদন নেই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: ফয়সাল মুঠো ফোনে জানান,

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আন্তরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ বিষয়ে এক মতামত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ী দোষী ব্যাক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রধান করতে যে কোন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

তিনি আরো বলেন, অনুমতিবিহীন কোন কোন প্রতিষ্ঠান আছে এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি নেওয়া কোথায় কী করতে হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতি/ছাড়পত্র ব্যতিত কোন প্যথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হল চালু করা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত। এ ধরণের ক্লিনিক যত্রতত্র চালু থাকলে অপচিকিৎসার কারণে রোগীর জীবনহানীর আশংকা থাকে।

ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চলে বিদ্যমান অনুমোদনহীন প্যাথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হলগুলো নিয়মের আওতায় আনা জরুরি।। যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে চরাঞ্চলে ক্লিনিকগুলো পরিচালনা হলে অপচিকিৎসার হাত থেকে সাধারণ রোগী আশকাংমুক্ত থাকবে বলে মনে করি। এছাড়া,

চরাঞ্চলে স্থাপিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করা হোক। তাহলে এলাকার সাধারণ মানুষে রাষ্ট্রের চিকিৎসাসেবার সুফল পাবে।

সচেতন মহল মনে করেন, এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতি উন্নত করতে জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে, রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া, চরাঞ্চলের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার পাশাপাশি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করাও জরুরি।

পুরনো ঢাকায় সাবেক কাউন্সিলর মামুনের বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
পুরনো ঢাকায় সাবেক কাউন্সিলর মামুনের বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ

পুরনো ঢাকায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুনের বিরুদ্ধে দখলবাণিজ্য ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাব বিস্তার করে নবাবপুর, ফুলবাড়িয়া ও সিদ্দিক বাজার এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নবাবপুর এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শুভ বসাক তার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে মামুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সিআর নম্বর ১৯৩৪/২০২৪ এবং এতে পেনাল কোডের ৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৩৮৭/৪২৭/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘শরীফ আদমী’র পরিচয়ের আড়ালে মামুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। তিনি বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদ ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও সমালোচনা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে স্থানীয়রা ভয় পান বলেও অভিযোগ ওঠে।

জানা গেছে, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে মামুন ও তার ঘনিষ্ঠরা জাকের সুপার মার্কেট, সিটি প্লাজা ও নগর প্লাজাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান বরাদ্দ, ভাড়া নির্ধারণ ও পুনর্বিন্যাসের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মামুনের ভাই ফারুক, কাশ্মীর লিটন, শুক্কুর, মনু ও মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এলাকায় দখল ও চাঁদাবাজির কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুধু মার্কেট নয়, পরিবহন খাতেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণবঙ্গগামী বিভিন্ন পরিবহন—ইমাদ পরিবহন, গোল্ডেন লাইন, ইলিশ, দোলা, প্রচেষ্টা, মহানগর, আনন্দ, মাওয়া এক্সপ্রেস, তাহসিন এন্টারপ্রাইজ, স্বাধীন এন্টারপ্রাইজ, নবকলি এক্সপ্রেস, টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস, বসুমতী ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড ও গাংচিল এক্সপ্রেস থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।

এছাড়া ফুলবাড়িয়ার ১৪/১ কাজী আবদুল হামিদ লেনের আল হায়াত ম্যানসন মার্কেট এবং সিদ্দিক বাজারের টুকু টাওয়ার মার্কেট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিনদিন পর সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে শুভ বসাকের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় শুভ বসাক অচেতন হয়ে পড়লে তার কাছে থাকা ১ লাখ ৭ হাজার টাকা ও দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার বিচার দাবিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০১০ সালে তৎকালীন কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা হাজি আহম্মদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর মামুনের উত্থান ঘটে। এর আগে তিনি আহম্মদ হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

এদিকে, সম্প্রতি দৈনিক লাল সবুজের দেশ ও পাক্ষিক অপরাধ জগত ম্যাগাজিনের সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার কল্যাণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মামুনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মামুন সাংবাদিক রিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২৪৮, তারিখ ২৩/০৪/২০২৬) করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালান।

স্থানীয়দের দাবি, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বললেও রাজধানীতে এমন কর্মকাণ্ড দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

ময়মনসিংহে এনসিপিতে যোগ দিলেন নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন দলের ৩০ নেতাকর্মী

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে এনসিপিতে যোগ দিলেন নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন দলের ৩০ নেতাকর্মী

ময়মনসিংহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে জেলার ত্রিশাল উপজেলার নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩০ জন নেতাকর্মী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় নগরীর ১৪৭ কাচারি রোডস্থ ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কার্যালয়ে ত্রিশাল উপজেলা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক কপিল উদ্দিনের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা যোগদান করেন।

যোগদান উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ময়মনসিংহ জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম ও সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা নবাগতদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নবাগত নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এনসিপি ময়মনসিংহ মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব সোহেল আহমদ, ময়মনসিংহ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল ফার্নিম, জেলা নারীশক্তির সদস্য উম্মে সালমা বৃষ্টি প্রমুখ। নবাগতদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ত্রিশাল উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সাবেক আহ্বায়ক ও নবযোগদানকারী এনসিপি নেতা মো. কফিন উদ্দিন।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম বলেন, “ময়মনসিংহের ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। সূর্যসেন ও প্রীতিলতার মতো বিপ্লবীদের চেতনা ধারণ করেই এনসিপি ময়মনসিংহকে আরও সুসংগঠিত করবে।”

নতুন যোগদানকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এনসিপির পতাকাতলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম বলেন, “প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও এনসিপি সারা দেশের মতো ময়মনসিংহ জেলাতেও সকলের সহযোগিতায় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করছে।”

জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি নারী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রয়োজনে নতুন আন্দোলনের সূচনা ময়মনসিংহ থেকেই হবে।” পাশাপাশি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যয়ে নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির ময়মনসিংহ জেলা শাখার সদস্য সচিব জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, এই যোগদান শুধু সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের প্রত্যয়। ময়মনসিংহে এনসিপির অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

নতুন নেতৃবৃন্দের যোগদানকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আগত নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে বরণ করা হয়।

অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম বলেন, “সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ ছাড়া সব দলের লোকজন এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন। প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আমরা বিচ্ছিন্নভাবে অনেককে নিয়েছি। আজ থেকে নিয়মিত যোগদান অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ ত্রিশালের নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের ৩০ জন নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগদান করেছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত একটি মডেল ময়মনসিংহ গড়ে তুলবো।”

ময়মনসিংহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের হোতা ‘চোরা মানিক’ সহ আটক ৩, চুরি হওয়া বাইক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের হোতা ‘চোরা মানিক’ সহ আটক ৩, চুরি হওয়া বাইক উদ্ধার

ময়মনসিংহ নগরীর হেরা মার্কেট থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ। এ ঘটনায় ২৮ মামলার কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর ‘ফ্রিডম মানিক’সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভোর ৪টা ৫ মিনিটে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সতিষা এলাকা থেকে কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর ফ্রিডম মানিক ওরফে চোরা মানিক ওরফে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক চৌধুরী (৩৯) কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেলের রং পরিবর্তনকারী সোহেল মিয়া (২৩) কে শাহবাজপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পালামন্দর এলাকা থেকে আশিক মিয়া (২৭) এর বাড়ি হতে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে আলামিন শরীফ সিফাত তার ব্যবহৃত নীল রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ময়মনসিংহ নগরীর হেরা মার্কেটের সামনে পার্কিং করে ওয়াশরুমে যান। পরে ফিরে এসে মোটরসাইকেলটি না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, অজ্ঞাত চোরচক্র মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি চুরি করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর অ্যাডিশনাল আইজিপি পিবিআই মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ছবি বিশ্লেষণ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও মোবাইল কল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণের মাধ্যমে চোরা মানিককে শনাক্ত করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত মানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত।

অদ্য ১৫ মে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “পিবিআইয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোর চক্রকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ শহরে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”