মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

আ’লীগ ক্যাডারকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৪৬ পিএম
আ’লীগ ক্যাডারকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

ময়মনসিংহে সাংবাদিকের উপর দায় চাপিয়ে চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম (রফিক মাস্টার) ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সালের লালিত, পতিত আওয়ামী সরকারের সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্তর রাজনৈতিক অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা সন্ত্রাসী শাহীনকে আটক করে থানা থেকে ছেড়ে দিয়ে ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে চরাঞ্চল বাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত (২৯ জুন) ময়মনসিংহে এম এন এন্টারপ্রাইজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান শাহীনকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে নিয়ে আসে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বাদী মহসিন আলম লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়ে দেখে অভিযুক্তকে ছেড়ে দিয়েছে।

এসময় কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ডিআইজি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন একজন সাংবাদিক শাহিনকে ৭বছর ধরে হয়রানি করছে তাই অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাদী ক্ষুব্ধ হয়ে তার নিজের বিচার দাবী করেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরদিন (৩০ জুন) অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান শাহীন ২০/৩০ জনকে সাথে নিয়ে হৈই হুল্লা করে থানায় সাংবাদিকসহ বাদী মহসিন আলমের বিচার দাবী করে।

এসময় অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি আশিক ও যুবলীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম নেতৃত্ব দেয়। বিষয়টি ওসি বাদীকে জানালে সেও থানায় আসে সাথে শতাধিক লোকজন নিয়ে।

উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠক করেন ওসি শিবিরুল ইসলাম। এসময় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম, এসআই আকবর আলী, এসআই খালিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাদী বিবাদীর সঙ্গে আসা লোকজন বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

থানায় সালিসি বৈঠকে সিদ্দিকুর রহমান শাহীন দোষী প্রমানিত হওয়ার পরেও গ্রেফতার না করে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ।

এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে ৩০০গজের ভিতরে আ”লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম (রফিক মাস্টার) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগরের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সালের বাসা, সিনাটান করে থানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত দিবালোকে যাতায়াত করলেও অদৃশ্য কারনে রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি ডিআইজি স্যারকে অবগত করেছি, এটাও বলেছি একজন সাংবাদিকের পায়ে রড পড়িয়ে রেখেছে, আপনি হলে কি করতেন। চর নিলক্ষীয়ায় শাহিন নামের দাউদ ইব্রাহিম থাকবে না বলে মন্তব্য করেন ওসি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, শাহিন এলাকার ৩০/৪০ জন লোক নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, তখন বারবার সাংবাদিকের নাম বলেছিল, যে ঘটনার প্রেক্ষিতে আনা হয়েছে তাতে দোষী প্রমানিত না হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক তাকে হয়রানি করছে বলে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে, ওসি এমন কথা বলে থাকলে সেটা ওসির বক্তব্য।

থানায় সালিসি বৈঠকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতারা উপস্থিত ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন এতকিছু তদন্ত করিনি, এত সময় নাই। শাহিন নির্দোষ আপনার তদন্ত উঠে এসেছে কিন্তু সন্ত্রাসী শাহিন সাংবাদিকের উপর হামলা করে হাত পা গুড়িয়ে দিয়েছে এমন তথ্য তদন্তে উঠে আসেনি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এগুলো জানিনা যে অভিযোগে আনা হয়েছে সেটার সত্যতা পাইনি।

এম.এস.এ আরেফিন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৪০ পিএম
এম.এস.এ আরেফিন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ত্যাগী, পরিশ্রমী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা এম.এস.এ আরেফিন।

এম.এস.এ আরেফিনের পিতার নাম মহিউদ্দিন মোঃ শফিকুল ইসলাম। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৩ নং কুশমাইল ইউনিয়নের কুশমাইল ধামর কাচারি (নায়েব বাড়ী) গ্রামের বাসিন্দা।

শিক্ষাজীবনে তিনি মেধাবী ছাত্র হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ২০১৩ সালে ফুলবাড়িয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০১৫ সালে ফুলবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি আনন্দমোহন কলেজের গণিত বিভাগ থেকে ২০১৬-১৭ সেশনে বিএসসি (সম্মান) এবং একই বিভাগ থেকে এমএসসি (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এম.এস.এ আরেফিন পূর্বে ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বর্তমানে তিনি “লাইট অফ ট্রিমস ইউথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি” ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।

তার এই নির্বাচনে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এম.এস.এ আরেফিন তার মেধা, যোগ্যতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলবেন।

আছিফুজ্জামান অসীম ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১২:৩২ এম
আছিফুজ্জামান অসীম ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তরুণ, ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা আছিফুজ্জামান অসীম। সংগঠনের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের মাঝে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিকতায় আছিফুজ্জামান অসীম সবসময়ই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার নেতৃত্বে মহানগর ছাত্রদলের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, আছিফুজ্জামান অসীম একজন পরিশ্রমী, সাহসী ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ভবিষ্যতেও তিনি দলীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ময়মনসিংহে সরকারি হালট দখল, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী- ইউএনও বরাবর অভিযোগ

মো: সোহেল মিয়া, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
ময়মনসিংহে সরকারি হালট দখল, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী- ইউএনও বরাবর অভিযোগ

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় সরকারি ‘হালট’ (চলাচলের রাস্তা) অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং এর সঠিক সীমানা নির্ধারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

আবেদন সূত্রে জানা গেছে, তারাকান্দা উপজেলার কাকনী মৌজার ১০৪৩ নং দাগে একটি সরকারি হালট বিদ্যমান। এই রাস্তাটি কাকনী ফকির মার্কেটের পেছন থেকে জয়নালের বাড়ি হয়ে কাকনী পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পেছন পর্যন্ত বিস্তৃত। অভিযোগ উঠেছে যে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই হালটটির অধিকাংশ অংশই বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।

হালটটি দখল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ এবং স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মূল রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় মানুষ নিরুপায় হয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “আগে এই রাস্তা দিয়ে সহজেই বাজার ও স্কুলে যাওয়া যেত। এখন দখল হয়ে যাওয়ায় আমাদের অনেক দূর ঘুরে যেতে হচ্ছে, বিশেষ করে শিশুদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”

আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। এই রাস্তা আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল। এখন দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”

এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল হান্নান খান স্বাক্ষরিত এই আবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত সরকারি সার্ভেয়ার নিয়োগের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে হালটের সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সাথে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।