শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ ১৪৩২

আ’লীগ ক্যাডারকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৪৬ পিএম
আ’লীগ ক্যাডারকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

ময়মনসিংহে সাংবাদিকের উপর দায় চাপিয়ে চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম (রফিক মাস্টার) ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সালের লালিত, পতিত আওয়ামী সরকারের সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্তর রাজনৈতিক অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা সন্ত্রাসী শাহীনকে আটক করে থানা থেকে ছেড়ে দিয়ে ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে চরাঞ্চল বাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত (২৯ জুন) ময়মনসিংহে এম এন এন্টারপ্রাইজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান শাহীনকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে নিয়ে আসে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বাদী মহসিন আলম লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়ে দেখে অভিযুক্তকে ছেড়ে দিয়েছে।

এসময় কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ডিআইজি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন একজন সাংবাদিক শাহিনকে ৭বছর ধরে হয়রানি করছে তাই অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাদী ক্ষুব্ধ হয়ে তার নিজের বিচার দাবী করেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরদিন (৩০ জুন) অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান শাহীন ২০/৩০ জনকে সাথে নিয়ে হৈই হুল্লা করে থানায় সাংবাদিকসহ বাদী মহসিন আলমের বিচার দাবী করে।

এসময় অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান শাহীনের সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি আশিক ও যুবলীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম নেতৃত্ব দেয়। বিষয়টি ওসি বাদীকে জানালে সেও থানায় আসে সাথে শতাধিক লোকজন নিয়ে।

উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠক করেন ওসি শিবিরুল ইসলাম। এসময় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম, এসআই আকবর আলী, এসআই খালিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাদী বিবাদীর সঙ্গে আসা লোকজন বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

থানায় সালিসি বৈঠকে সিদ্দিকুর রহমান শাহীন দোষী প্রমানিত হওয়ার পরেও গ্রেফতার না করে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ।

এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে ৩০০গজের ভিতরে আ”লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম (রফিক মাস্টার) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগরের আইন বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান ফয়সালের বাসা, সিনাটান করে থানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত দিবালোকে যাতায়াত করলেও অদৃশ্য কারনে রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি ডিআইজি স্যারকে অবগত করেছি, এটাও বলেছি একজন সাংবাদিকের পায়ে রড পড়িয়ে রেখেছে, আপনি হলে কি করতেন। চর নিলক্ষীয়ায় শাহিন নামের দাউদ ইব্রাহিম থাকবে না বলে মন্তব্য করেন ওসি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, শাহিন এলাকার ৩০/৪০ জন লোক নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, তখন বারবার সাংবাদিকের নাম বলেছিল, যে ঘটনার প্রেক্ষিতে আনা হয়েছে তাতে দোষী প্রমানিত না হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক তাকে হয়রানি করছে বলে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে, ওসি এমন কথা বলে থাকলে সেটা ওসির বক্তব্য।

থানায় সালিসি বৈঠকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতারা উপস্থিত ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন এতকিছু তদন্ত করিনি, এত সময় নাই। শাহিন নির্দোষ আপনার তদন্ত উঠে এসেছে কিন্তু সন্ত্রাসী শাহিন সাংবাদিকের উপর হামলা করে হাত পা গুড়িয়ে দিয়েছে এমন তথ্য তদন্তে উঠে আসেনি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এগুলো জানিনা যে অভিযোগে আনা হয়েছে সেটার সত্যতা পাইনি।

গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

গৌরীপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

থানা হলো সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় গেলে দেখা মেলে ভিন্ন এক চিত্রের। খোদ ডিউটি অফিসারের চেয়ারই খালি! জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি এএসআই আরমানকে। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে ‘দৈনিক জনবাণী’র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনোয়ার হোসেনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থানার এমন লেজেগোবরে দশা। বিষয়টি নিয়ে খোদ ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৫টা। একটি বিকাশ প্রতারক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গৌরীপুর থানায় প্রবেশ করেন সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। কিন্তু থানার মূল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘ডিউটি অফিসার’-এর ডেস্কে গিয়ে দেখা যায় সেটি জনশূন্য। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও দেখা মেলেনি দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আরমানের। একজন সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তবে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কী দশা হয়, তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

থানার ভেতরে এমন দায়িত্ব অবহেলা দেখে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বিষয়টি সরাসরি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে। পুলিশ সুপার বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে ডিউটি চলাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, ডিউটি অফিসারে দায়িত্বে থেকে অবহেলা করলে পুলিশ আইনের ৭ ধারা এবং পিআরবি-এর ৮৮০ বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব অবহেলার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, পুলিশ জনগণের বন্ধু, এই স্লোগান যেন শুধু দেয়ালের লেখা হয়েই আছে। ডিউটি অফিসারের অনুপস্থিতিতে জিডি বা অভিযোগ দিতে আসা ভুক্তভোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে বাধ্য হন। এএসআই আরমানের এই দায়িত্ব অবহেলা কি ব্যক্তিগত ইচ্ছা নাকি থানার প্রশাসনের কোনো গাফিলতি, তা নিয়ে এখন এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সুপারের এই কঠোর বার্তায় গৌরীপুর থানার কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে যেন এই অনিয়মের অবসান ঘটে।

এবিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ডিউটি অফিসারের থানার বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এবিষয়ে অনুসন্ধান সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তারাকান্দা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য, অনন্তপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশীদ।

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা। এই দিনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবতার কল্যাণে কাজ করা, সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তে তিনি সকলকে ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ আব্দুর রশীদ তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “আমি তারাকান্দা উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রিয় তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানাই। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন।”

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ সবার জীবনে বয়ে আনবে নতুন আশা ও সম্ভাবনা, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে।

সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা – ঈদ মোবারক।

মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এক কথিত মাদকসেবীর সম্পৃক্ততা ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া বাজার এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা দেওয়ার মতোই অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।”

অভিযোগ রয়েছে, শান্ত (প্রায় ২৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ওলামা লীগের একজন পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। এলাকাবাসীর দাবি, নিজের ঘর ও মহল্লায় তিনি মাদকসেবী হিসেবেই বেশি পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মা আছমা খাতুন, এক প্রবীণ সাংবাদিক চাচা এবং প্রবাসী এক ফুফুর বিরুদ্ধেও একাধিকবার আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

এমন একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে শান্ত মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

কিছু মহল এটিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, “এটি মূলত মাদকসংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, একে সাংবাদিক নির্যাতন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হলে এমন বিতর্ক ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।