শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মামলার দীর্ঘ তালিকা, কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের অভিযানে রাহাত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
মামলার দীর্ঘ তালিকা, কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের অভিযানে রাহাত গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীতে একের পর এক মামলায় নাম আসা রাহাত ইসলাম শান্ত (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার রাহাত ইসলাম শান্তের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই ও হামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।

রাহাত ইসলাম শান্ত নগরীর পচা পুকুরপাড় এলাকার মিজানের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট মামলার নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, রাহাতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ২০২৬ সালের ২৭ মার্চের একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৩ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। একই থানায় ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট দায়ের করা একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৮, ৩৮০ ও ৪৫৭ ধারায় এবং ২০২৩ সালের ২৬ জুনের আরেক মামলায় ৩৯৩ ও ৩৯৮ ধারায় মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৪১৩ ও ৩৪ ধারায় এবং একই বছরের ১৯ অক্টোবর দায়ের করা অপর একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩০৭, ১১৪, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৬, ৩০২ ও ৫০৬ ধারায় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ১১ মে দায়ের করা আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।

মামলাগুলোর ধারার দিকে তাকালে দেখা যায়, রাহাতের বিরুদ্ধে চুরি, রাতে ঘরে প্রবেশ, ছিনতাইয়ের চেষ্টা, সংঘবদ্ধ হামলা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, একাধিক মামলায় আসামি হিসেবে নাম থাকায় রাহাত ইসলাম শান্তকে গ্রেপ্তারে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালী থানাধীন ১ নম্বর ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাহাত ইসলাম শান্তকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার রাহাতের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে রাহাতকে ১২ মামলার আসামি বলা হলেও, তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার বর্তমান আইনগত অবস্থান, মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি এবং কোন মামলায় তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ছিলেন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা: জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আবেদা জাহান লাভলীকে ঘিরে নানা অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা: জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আবেদা জাহান লাভলীকে ঘিরে নানা অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে মামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত আব্দুল হক নুরুর স্ত্রী আবেদা জাহান লাভলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মিঠামইন তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়া গোপদিঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক বাচ্চুসহ আরও কয়েকজনের নামও বিভিন্ন পোস্টে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবেদা জাহান লাভলীর ছত্রচ্ছায়ায় ওই বিদ্যালয়ে কয়েকদিন অবস্থান করেছিলেন। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পোস্ট, শেয়ার ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। আবার কিছু পোস্টে আবেদা জাহান লাভলী ও নুরুল হক বাচ্চুর নাম উল্লেখ করে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “জাহাঙ্গীর হত্যা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ও অভিযোগ প্রচার হচ্ছে, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বা গুজবের ওপর নির্ভর না করে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহের রমেশেন রোড পতিতাপল্লীতে চোলাই মদের ব্যবসার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম
ময়মনসিংহের রমেশেন রোড পতিতাপল্লীতে চোলাই মদের ব্যবসার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

ময়মনসিংহ নগরীর রমেশেন রোড এলাকার পতিতাপল্লীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চোলাই মদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জেসমিন নামে এক নারী ও সিরাজ নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি নির্দিষ্ট ঘরে প্রকাশ্যে এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মদের এই কারবারকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদকাসক্তি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মাতাল ও বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তারা জানান।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অষ্টগ্রামে দলিল জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, তদন্তের দাবি

হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
অষ্টগ্রামে দলিল জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, তদন্তের দাবি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি, অবৈধভাবে খারিজ সম্পন্ন এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. জসিম মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, অষ্টগ্রাম ভূমি অফিসের নায়েব, সার্ভেয়ার এবং আবেদনকারী মো. জাবেদসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের যোগসাজশে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তার ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাকে ও তার পরিবারকে একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়েও হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জসিম মিয়া জানান, প্রায় দুই বছর আগে তিনি তার চাচা মরহুম ঝারু মিয়ার ওয়ারিশদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা মূল্যে এক একর জমি কেনার চুক্তি করেন। এ সময় বায়না হিসেবে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ৮ লাখ টাকা দলিল সম্পাদনের সময় দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিক্রেতারা দলিল সম্পাদন না করে নানা টালবাহানা করতে থাকেন।

তার অভিযোগ, জমি বিক্রির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও বিক্রেতা পক্ষ গত বছরের ১ জুলাই তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। পরে তাকে এবং তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে একটি ধর্ষণ মামলায় আসামি করা হয়, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জসিম মিয়া আরও অভিযোগ করেন, তার ক্রয়কৃত জমির বিষয়ে আবেদনকারী মো. জাবেদ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভূমি অফিসের নায়েব ও সার্ভেয়ারের সহযোগিতায় ভুয়া খারিজ সম্পন্ন করেছেন।

তার দাবি, ওই খারিজ আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা খাজনার রশিদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং মূল দলিল সবই জাল। এরপরও রহস্যজনকভাবে ভূমি অফিস এসব কাগজপত্র গ্রহণ করে খারিজ অনুমোদন দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জসিম মিয়া বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি কিনেছি। অথচ আজ সরকারি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এবং একটি প্রভাবশালী চক্রের ষড়যন্ত্রে মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি। জাল কাগজপত্র তৈরি করে আমার জমি বেদখলের চেষ্টা চলছে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ভূমি জালিয়াতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে পরিত্রাণের দাবি জানান।