শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইউপিডিএফ (মূল) এর ডাকা ধর্মঘটে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে প্রত্যাবর্তন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৪৬ পিএম
সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইউপিডিএফ (মূল) এর ডাকা ধর্মঘটে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে প্রত্যাবর্তন

মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সাজেকে আটকে পড়া ১৪০০ জন পর্যটককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক হতে খাগড়াছড়িতে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করানো হয়।

 

উল্লেখ্য, শান্তি চুক্তির প্রাথমিক ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অস্ত্র সমর্পণ না করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে দুষ্কৃতিকারীরা প্রতিনিয়ত অপতৎপরতা চলমান রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউপিডিএফ (মূল) কর্তৃক ডাকা ৭২ ঘন্টার অবরোধে সাজেকে ১৪০০ জন পর্যটক আটকা পড়েন এবং অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন।

 

সড়ক অবরোধের লক্ষ্যে দুষ্কৃতিকারীরা খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ ফেলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং কালভার্টের পাটাতন উপড়ে ফেলার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত করে।

 

সেনা সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে উল্লেখিত প্রতিবন্ধকতাসমূহ সরিয়ে রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলে।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩২ এম
ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

ময়মনসিংহ নগরীর বাঘমারা এলাকায় মমেক এর একটি ছাত্রাবাসে ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ ঘটনায় অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো হোস্টেল এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হামিদুর নামের এক শিক্ষার্থী ২০২ নম্বর কক্ষে মোয়াজ নামে আরেক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এর জের ধরে সন্ধ্যার দিকে হোস্টেল ক্যান্টিনে চা পান করতে গেলে হামিদুরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মোয়াজ লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত হামিদুরকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে রাতে পুলিশ মোয়াজকে গ্রেফতার করতে গেলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হামিদুরের পক্ষের নাফিউল নামের আরেক শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মোয়াজকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মোয়াজ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই নাফিউলকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার পর পুরো হোস্টেল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

শামীম খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ এম
ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

থানায় মামলা হয়েছে ঠিক এক বছর আগে। দায়েরকৃত এজাহারে সুনির্দিষ্ট ১১ জন আসামির নামসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামার উল্লেখ আছে। আছে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ। অথচ রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ ১২ মাসেও একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা পুলিশ। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আসামীদের গভীর সখ্যতা আর অনৈতিক লেনদেনের কারণে থমকে আছে বিচারের চাকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশালের বিয়ার্তা উত্তরের চরে জহির এগ্রো ফার্ম-এ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। বাদী খাদিজা খাতুনের ছেলে মোঃ খাইরুল বাশার হামীমের এই খামারে ঢুকে চারটি দোচালা ঘর ভাঙচুর, প্রায় ২০০ ফলজ ও ওষুধি গাছ নিধন এবং পুকুর থেকে মাছ লুটে নেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, খামারে থাকা প্রায় ৫০টি ছাগল (যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। বাধা দিতে গেলে খামারের মালিক হামীম, ম্যানেজার মাকসুদুল এবং লেবার মনির হোসেনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রাণভয়ে তারা পালিয়ে গেলে ৪নং আসামির হুকুমে ১নং ও ৫নং আসামি পেট্রোল ঢেলে স্টুডিও রুমে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মূল্যবান ভিডিও ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইপিএস, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশাল থানায় ১৮(০৪)২৫ নং মামলাটি রুজু করেন ওসি মনসুর আহমেদ ও তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল।

কিন্তু আজ পর্যন্ত তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, ত্রিশাল থানার বর্তমান ওসি মনসুর আহমেদ ও ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেলের সাথে আসামিদের চরম ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

বাদী খাদিজা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ সব জেনেও নীরব। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, ওসি তদন্ত আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের আড়াল করছেন। পর্যাপ্ত সাক্ষী ও প্রমাণ থাকার পরও এক বছরে একজনকেও গ্রেফতার না করা কি স্বাভাবিক? আমরা কি তবে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব? আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে দায় এড়াচ্ছে। এর ফলে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলা তুলে নিতে আসামিরা নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অতি দ্রুত এই মামলাটি পিবিআই বা উচ্চতর কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং পুলিশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই বিষয়ে জানতে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনের রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় কিংবা অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

ময়মনসিংহে ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম
ময়মনসিংহে ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত

ময়মনসিংহে গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাসুরের ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মোছা: সুমি ওরফে সুমা (৩০)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত সুমি ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহর স্ত্রী। ঘটনার সময় অলিউল্লাহ ঘরের পাশের একটি গাছের ডাল কাটছিলেন। এ সময় তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী নাছিমা (৪০) ডাল কাটতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধে রূপ নেয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় নাছিমার স্বামী মো. খলিল (৩৫) ঘর থেকে ছুরি এনে সুমার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত খলিল ও তার স্ত্রী নাছিমাকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।