শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২ ১৪৩২
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২ ১৪৩২

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে পদপ্রত্যাশা ঘিরে আলোচনা

কারা নির্যাতনের স্মৃতি বুকে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় মঈনুল হাসান খান রাকাত

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪১ এম
কারা নির্যাতনের স্মৃতি বুকে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় মঈনুল হাসান খান রাকাত

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথে সক্রিয় ও কারা নির্যাতনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছাত্রনেতা মঈনুল হাসান খান রাকাত আলোচনায় থাকা অন্যতম নাম।

সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা রাকাত বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব কারণে তাকে ‘পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

রাকাতের দাবি, ২০২১ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে চার দিন গুম অবস্থায় রাখে এবং ওই সময় অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা হয়। তিনি বলেন, ওই সময় তাকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ করেও তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেননি।

চার দিন পর তাকে প্রকাশ্যে আনা হলে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান বলে জানান তিনি।

মামলা ও কারানির্যাতনের বর্ণনায় রাকাত বলেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি প্রায় ১৬৯ দিন কারাগারে ছিলেন। কারাগারে নির্যাতনের কারণে প্রায় ২১ দিন বিছানা থেকে উঠতে পারেননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, “রিমান্ডের নাম শুনলেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে। কিন্তু সেই নির্যাতনের বাস্তব অভিজ্ঞতা আমি নিজের শরীরে বহন করছি। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পা ও মেরুদণ্ডের সমস্যার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।”

কারাবন্দি থাকার সময় দলের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হোক এমন আশঙ্কায় তিনি জামিন ও কারাগারের ভেতরের খরচসহ সব কিছু পরিবারের মাধ্যমেই পরিচালনা করেছেন বলে জানান। তার দাবি, দলের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা নেননি।

রাকাত বলেন, “দলকে ভালোবেসে রাজপথে নেমেছি। কোনো কিছু পাওয়ার জন্য নয়, বরং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন যেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাশে থেকে সংগঠনের জন্য কাজ করতে পারি সবার কাছে সেই দোয়া।”

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূলের একটি অংশ রাকাতের মতো রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের সাহারগঞ্জ, আম্বিকাগঞ্জ বাজার ও আশেপাশের এলাকা জুড়ে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা, যার ফলে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় প্রায় ২০টির মত প্যাথলজি ও ফার্মেসি রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার থাকলেও বাকী দিনগুলোতে রেজিস্টার ছাড়াই ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টগুলোতে প্রায়শই ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা রোগীদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, যা এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

সারা বাংলাদেশে যখন রেজিস্টার বিহীন ডাক্তারদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তখন পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে ভূয়া ডাক্তারদের রমরমা ব্যবসা। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞানতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন সমাজ সেবক জানান, শহর থেকে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার আসলেও বাকি দিনগুলোতে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন অনুমোদনহীন, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কাগজপত্র ও পরিবেশের অনুমতি না থাকার কারণে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কল দিলে একজন মুটোফোনের কল রিসিভ করলে তার কাছে অনুমোদন ও সাস্থ্যসেবা সর্ম্পকে জানতে চায়লে তিনি এক কথায বলেন বেশীর প্রতিষ্ঠানের সঠিক অনুমোদন নেই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: ফয়সাল মুঠো ফোনে জানান,

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আন্তরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ বিষয়ে এক মতামত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ী দোষী ব্যাক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রধান করতে যে কোন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

তিনি আরো বলেন, অনুমতিবিহীন কোন কোন প্রতিষ্ঠান আছে এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি নেওয়া কোথায় কী করতে হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতি/ছাড়পত্র ব্যতিত কোন প্যথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হল চালু করা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত। এ ধরণের ক্লিনিক যত্রতত্র চালু থাকলে অপচিকিৎসার কারণে রোগীর জীবনহানীর আশংকা থাকে।

ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চলে বিদ্যমান অনুমোদনহীন প্যাথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হলগুলো নিয়মের আওতায় আনা জরুরি।। যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে চরাঞ্চলে ক্লিনিকগুলো পরিচালনা হলে অপচিকিৎসার হাত থেকে সাধারণ রোগী আশকাংমুক্ত থাকবে বলে মনে করি। এছাড়া,

চরাঞ্চলে স্থাপিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করা হোক। তাহলে এলাকার সাধারণ মানুষে রাষ্ট্রের চিকিৎসাসেবার সুফল পাবে।

সচেতন মহল মনে করেন, এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতি উন্নত করতে জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে, রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া, চরাঞ্চলের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার পাশাপাশি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করাও জরুরি।

ময়মনসিংহে ‘ভুয়া পুলিশ’ আতঙ্ক: মাসকান্দা গংসার মোড়ে প্রতারণার ফাঁদে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
ময়মনসিংহে ‘ভুয়া পুলিশ’ আতঙ্ক: মাসকান্দা গংসার মোড়ে প্রতারণার ফাঁদে সাধারণ মানুষ

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা গংসার মোড় এলাকায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতারক চক্র নিজেদের ডিবি বা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ ও পুলিশের মতো পোশাক ব্যবহার করে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে তারা মাদকবিরোধী অভিযান বা গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়।

এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হলেও অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এর আগে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া এলাকায় একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন ভুয়া ডিবি পুলিশকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পুলিশি সরঞ্জাম, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং যোগাযোগের বিভিন্ন যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল, যা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি সক্রিয় প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে-

অপরিচিত কেউ পুলিশ পরিচয় দিলে তার বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করুন

সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিকটস্থ থানায় দ্রুত যোগাযোগ করুন

কোনো অবস্থাতেই ভয় পেয়ে টাকা লেনদেন করবেন না

সচেতন মহলের মতে, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয়রা বলছেন, ময়মনসিংহে এ ধরনের প্রতারণা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের শিশুহত্যা: ১০ ঘণ্টায় পিতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৩ বছরের শিশুহত্যা: ১০ ঘণ্টায় পিতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর তিন বছর বয়সী শিশু লাবিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশুটির পিতা সোহাগসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লাবিব হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিশুটির পিতা সোহাগকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ত্রিশাল থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।