মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব: খাস জমি বন্দোবস্তে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব: খাস জমি বন্দোবস্তে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া, খাজনা ও নামজারি সংক্রান্ত কাজে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) শফিকুল ইসলাম। তার এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির খাজনা পরিশোধ থেকে শুরু করে নামজারি, জমাভাগ, পর্চা (খসড়া) উত্তোলনসহ প্রায় প্রতিটি কাজেই নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। কেউ জমির খাজনা দিতে গেলে যেখানে সরকারি খরচ কয়েকশ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা, সেখানে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ঈদুল ফিতরের আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দাপুনিয়া ভূমি অফিসে দালালদের মাধ্যমে কাজ না করলে কোনো ফাইলই অগ্রসর হয় না। দালালদের সঙ্গে পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী ফাইলে বিশেষ ‘সাংকেতিক চিহ্ন’ না থাকলে নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল বা দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ইউনিয়নের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে টাকার বিনিময়ে সচ্ছল ও প্রভাবশালীদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা পেতে হলে তার সঙ্গে ‘চুক্তি’ অনুযায়ী অর্থ প্রদান করতে হয়। অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা, অযথা দেরি করা কিংবা আবেদন বাতিল করার মতো নানা হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া বাড়তি টাকা আদায়ের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবকিছু জেনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে শফিকুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার ময়লাকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় ঘুষ গ্রহণ এবং টাকার বিনিময়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

ইউনিয়নের এক সাবেক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ময়লাকান্দা ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন শফিকুল ইসলামের কাছে সেবা নিতে গেলে তার চাহিদামতো টাকা না দিলে কোনো কাজই হতো না। ময়লাকান্দা বাজারের কিছু সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই বন্দোবস্ত পাননি, এমনকি নেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রক্ষার চেষ্টা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৩ এম
শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রক্ষার চেষ্টা

টানা বৃষ্টিতে পানির স্রোতে রাস্তার নিচের বালু ও মাটি সরে গিয়ে ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া-কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে এবার নিজেদের উদ্যোগেই সড়কটি রক্ষায় নেমেছেন স্থানীয় তিলিখাই রওজাতুল কুরআন আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের বুক চিরে নির্মিত এই সড়কের দুই পাশের সিসি ব্লকের নিচ দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় বালু ও মাটি সরে যাচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি সিসি ব্লক দেবে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না করা হলে সড়কটির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালু ও মাটি ভরাট করছেন। পাশাপাশি পানির স্রোতের তীব্রতা কমাতে রাস্তার পাশে কচুরিপানা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীরা এ কাজে অংশ নিচ্ছে।

তিলিখাই রওজাতুল কুরআন আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আব্দুল মুমিন বলেন, “বৃষ্টির পানি সিসি ব্লকের নিচ দিয়ে প্রবেশ করে বালু ও মাটি সরিয়ে নিচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে হাওরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা যতটুকু সম্ভব সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘাগড়া-কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই সড়ক। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।

এ অবস্থায় সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

ময়মনসিংহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম
ময়মনসিংহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের

ময়মনসিংহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগের আয়োজনে এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা নিজেদের সভ্য ও শিক্ষিত মনে করলেও নাগরিক আচরণের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। আচরণগত পরিবর্তন না এলে শুধু সভা-সেমিনার করে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতার জন্য শুধু প্রশাসনকে দায়ী করলে হবে না; নাগরিকদের অসচেতন কর্মকাণ্ডও এর জন্য সমানভাবে দায়ী। ফুটপাত দখল, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনে অনীহা এসব সমস্যার সমাধান না হলে জলাবদ্ধতা নিরসন কঠিন হবে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় হর্নের ব্যবহার অবশ্যই কমাতে হবে। তবে মানুষ যদি ফুটপাত ব্যবহার করে এবং সড়ক দখল ও ময়লামুক্ত রাখা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই হর্নের ব্যবহারও কমে আসবে। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্যের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ করতে হবে। সরকার ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুখ।

স্বাগত বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সব পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ পিএম
ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশ ও নিয়মিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নগরীর প্রভাবশালী ইয়াবা ও হেরোইন কারবারিদের কাছ থেকে প্রশাসনের নামে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক এসআই মাসুদ ও এক সদস্য সালমানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সদর পরিদর্শক আমিনুন কবির বদলির পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অভিযোগকারীদের দাবি, নগরীর শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান বা গ্রেপ্তার দেখা যায় না।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ নগরীতে অন্তত ২০ জন প্রভাবশালী মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারবারি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে মাদক সরবরাহ করে থাকে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কেওয়াটখালী, পাটগুদাম, পুরোহিতপাড়া, সানকিপাড়া, রহমতপুর, আকুয়া, চুখাইতলা ও ওয়ারলেস গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন কথিত মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নগরীতে প্রায় ৩০০ ছোট-বড় মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে খুচরা কারবারিদের আটক করা হলেও শীর্ষ পর্যায়ের কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নগরীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু মাদক ব্যবসায়ী দম্ভের সঙ্গে দাবি করে যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকায় তারা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।