রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ১৪৩২
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ১৪৩২

জামানত হারিয়ে গণসংহতি আন্দোলন থেকে পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম
জামানত হারিয়ে গণসংহতি আন্দোলন থেকে পদত্যাগ

গণসংহতি আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রাজিব দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন দলীয় দায়িত্ব পালনের পর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং এখন থেকে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের কোনো পদে নেই।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন রাজিব। তিনি ৪৬৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান।

এই আসনে বিজয়ী হন আবু ওয়াহাব আকন্দ, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৪ আসনে মোট ভোটার ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি, আর প্রদত্ত ভোট ছিল প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার।

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনীর হাতে উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ এম
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনীর হাতে উদ্ধার

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এক পুলিশ সদস্যকে আটক করার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের মধ্য রাজৈ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রবাসীর স্ত্রী ও ওই পুলিশ সদস্যকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে গ্রামবাসী তাকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করে।

আটক পুলিশ সদস্যের নাম এএসআই আজহার উদ্দীন রাকিব (৩২)। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় কর্মরত বলে জানা গেছে। তার বাড়ি ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের মধ্য রাজৈ এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর চাচাত ভাই।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ময়মনসিংহে সাবেক এমপির গাড়িতে হামলা, চালক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহে সাবেক এমপির গাড়িতে হামলা, চালক আহত

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর–তারাকান্দা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল বাশার আকন্দ–এর গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তাঁর চালককে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে বালিয়া মোড় এলাকায় একটি তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আবুল বাশার আকন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে তাঁর গাড়িবহরের ওপর একদল লোক হামলা চালায়। হামলাকারীরা গাড়ির চারপাশের কাচ ভাঙচুর করে। এতে গাড়িচালক মো. আরমান আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাবেক এমপিকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় হালুয়াঘাট–ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একটি অংশ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে আবুল বাশার আকন্দ দলীয় প্রার্থী ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা না রাখায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ফুলপুর–তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। নির্বাচিত হন ১১–দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ, যিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট।

আবুল বাশার আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, তাঁর গাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে তাঁর চালক আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, হামলায় জড়িত কয়েকজন বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন বলেন, তিনি হামলায় জড়িত নন; বরং পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ময়মনসিংহে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ৩ আসনে স্বতন্ত্র ও ১১ দলীয় জোটের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম
ময়মনসিংহে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ৩ আসনে স্বতন্ত্র ও ১১ দলীয় জোটের জয়

ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিজয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরা ২টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ময়মনসিংহের সবগুলো আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

আসনভিত্তিক ফলাফল

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)

স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৬ হাজার ৩৩৯। এই আসনে মোট ১৪৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয় এবং বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭৩টি।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)

১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট। এই আসনে ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেইন ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৯৯৫ ভোট।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর)

বিএনপি প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল আহসান এমরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৮০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)

বিএনপি মনোনীত জাকির হোসেন বাবলু ১ লাখ ২৮ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান আকন্দ পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২২৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)

১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ২৯১ ভোট।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)

বিএনপি প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ৯৯ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৫১ ভোট।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)

বিএনপির লুৎফল্লাহেল মাজেদ ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১৫ ভোট।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)

বিএনপি প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৬ হাজার ১৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিডিপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১ হাজার ২৯১ ভোট।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)

বিএনপি মনোনীত আখতারুজ্জামান বাচ্চু ৭৫ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৯৯৯ ভোট।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)

বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১১ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদ আলম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১৬ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।