সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ৩ আসনে স্বতন্ত্র ও ১১ দলীয় জোটের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম
ময়মনসিংহে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ৩ আসনে স্বতন্ত্র ও ১১ দলীয় জোটের জয়

ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিজয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরা ২টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ময়মনসিংহের সবগুলো আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

আসনভিত্তিক ফলাফল

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)

স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৬ হাজার ৩৩৯। এই আসনে মোট ১৪৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয় এবং বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭৩টি।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)

১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট। এই আসনে ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেইন ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৯৯৫ ভোট।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর)

বিএনপি প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল আহসান এমরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৮০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)

বিএনপি মনোনীত জাকির হোসেন বাবলু ১ লাখ ২৮ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান আকন্দ পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২২৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)

১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ২৯১ ভোট।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)

বিএনপি প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ৯৯ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৫১ ভোট।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)

বিএনপির লুৎফল্লাহেল মাজেদ ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১৫ ভোট।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)

বিএনপি প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৬ হাজার ১৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিডিপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১ হাজার ২৯১ ভোট।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)

বিএনপি মনোনীত আখতারুজ্জামান বাচ্চু ৭৫ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৯৯৯ ভোট।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)

বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১১ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদ আলম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১৬ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

বিজিবির সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ভাবখালীর কৃতি সন্তান লুৎফর রহমান (জীবন)

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:২৫ এম
বিজিবির সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ভাবখালীর কৃতি সন্তান লুৎফর রহমান (জীবন)

দীর্ঘ এক বছরের কঠোর ও নিবিড় সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক (এডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মো. লুৎফর রহমান (জীবন)।

গত ১১ জুন তিনি বিজিবির প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পরিচালক (Assistant Director-AD) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁর এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পরিবার, জন্মভূমি ভাবখালী এবং সমগ্র ময়মনসিংহবাসীর জন্যও গৌরবের বিষয়।

পদোন্নতি উপলক্ষে তিনি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে বাবা-মা, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তাঁদের দোয়া, ভালোবাসা, ত্যাগ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।”

প্রতিক্রিয়ায় লুৎফর রহমান (জীবন) বলেন, “দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার মহান দায়িত্ব আমি সততা, নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকব। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে সর্বোচ্চভাবে নিয়োজিত রাখতে সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”

তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং ভাবখালী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, তাঁর এ অর্জন পুরো এলাকার জন্যই গর্বের বিষয় এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

মো. লুৎফর রহমান (জীবন) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আজিজুল ইসলাম ও মোছা. লুৎফুন নাহারের সন্তান। ছাত্রজীবনে তিনি ৯৩ নম্বর ভাবখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে এইচএসসি পাস করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় তিনি ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ২০০৭ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে সৈনিক পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনে সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে ধাপে ধাপে নিজেকে যোগ্য করে তোলেন। অবশেষে এক বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তিনি বিজিবির সহকারী পরিচালক (এডি) পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর এই গৌরবময় উত্তরণ অধ্যবসায়, দেশপ্রেম, আত্মনিবেদন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এ সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশসেবার মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করবে এবং প্রমাণ করবে যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।

লুৎফর রহমান (জীবনের) এই অর্জনে এলাকাবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর সুস্বাস্থ্য, কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং দেশসেবায় আরও গৌরবময় অবদানের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

ময়মনসিংহে তিনদিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
ময়মনসিংহে তিনদিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

‘প্রশিক্ষণ সবার জন্যই প্রযোজ্য। এটি জ্ঞান ও দক্ষতাকে নিয়মিত হালনাগাদ করে পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ও ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবের যৌথ আয়োজনে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর কাচারি রোডস্থ ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিস, ময়মনসিংহের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দিন আহমদ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রু/দা) ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা মাসুদ মিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ক্যারিয়ার ও প্রশিক্ষণ) কাজী শামীমাজ আলম এবং উপপরিচালক (মহিলা ও সমন্বয়) গাজী শরিফা ইয়াছমিন।

দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খানের সভাপতিত্বে এবং দৈনিক জনতার খবর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. জাহাঙ্গীর আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক বদরুল আমীন, এটিএম মহবুব-উল-আলম, অ্যাডভোকেট লিটন দাস, মোশারফ হোসেন সরকার, মফিজ উদ্দিন, রোকসানা আক্তার ও তাসলিমা রত্না প্রমুখ।

কর্মশালায় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা, হলুদ সাংবাদিকতার ক্ষতিকর প্রভাব এবং আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি আগামী ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক সুবর্ণ বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আরিফ রেওগীর এবং দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জহুর লাল দের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মশালায় সংবাদ প্রতিবেদন রচনা, ভাষা ও শব্দচয়ন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি, নৈতিক সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা সাংবাদিকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

এম. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
শ্যামপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রাজধানীর শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বই বিতরণ-সংক্রান্ত বরাদ্দে অনিয়ম এবং তদন্ত কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ এনে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শ্যামপুরের দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কার্যক্রমে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ আয়োজনেও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিন ব্যক্তির পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের সুপারিশ করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে কেবল একজনের অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া বছরের পর বছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তারা বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামপুর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শাপলা খানম। তিনি বলেন, “আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সরকারি কোনো নির্দেশনা অমান্য করার প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।