রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২

ঘুষ ছাড়া কাজ ক‌রেন না ময়মনসিংহ সদর সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
ঘুষ ছাড়া কাজ ক‌রেন না ময়মনসিংহ সদর সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান

ময়মনসিংহ সদ‌র উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ার মোঃ হুমায়ুন কবির খান ঘুষ ছাড়া কোনও কাজ ক‌রেন না। এমনকি মোটা অঙ্কের ‍ঘুষ নিয়ে একজনের জমির দাগ, পরিমাণ ও মৌজা নম্বর পরিবর্তন করে আরেকজনের নামে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন জমির মালিকরা। কেউ কেউ জমিও হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঘুষ নিয়ে এক মৌজার জমি অন্য মৌজায় দিয়ে নতুন দাগ তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তবে চাহিদামতো ঘুষ পেলে সঠিক মৌজার জমির ওপর প্রতিবেদন দিচ্ছেন সার্ভেয়ার।

ভোগান্তির শিকার কয়েকজন জমির মালিক জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ সদর বিভাগীয় জেলার প্রধান নগরী হওয়ায় এ নগরীতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের চাহিদা রয়েছে। আর জমি কেনাবেচার আগে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজার বিষয়ে সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হয়। ওই প্রতিবেদন না থাকলে জমি কেনাবেচা করা যায় না। এ অবস্থায় জমির মালিকরা ওই প্রতিবেদনের জন্য সদর উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সে এলে আগেই মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান। এই ঘুষের ব্যবসা চালানোর জন্য তার রয়েছে বিশাল দালাল বাহিনী। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস প্রতিবেদনের জন্য তাদের ঘোরানো হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ঝামেলাযুক্ত জমিগুলোর ক্ষেত্রে একজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঘুষ নিয়ে ওই জমি আরেকজনের উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিক জমিটি হারাচ্ছেন।

খোঁজ নি‌য়ে জানা‌ গে‌ছে, ময়মনসিংহ সদরে আসার আগে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ছিলেন হুমায়ুন কবির খান। সেখানে তার ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে সেবা গ্রহীতারা। সদর ভূমি অফিসে যোগদান করেও অল্পদিনে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করতে আসা জমির মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। ঘুষ ছাড়া ভূমির কোনও কাগজপত্র দিচ্ছেন না। এমনকি খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজা ঠিক থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। আবার যার কাছ থে‌কে বে‌শি টাকা পা‌চ্ছেন, তার পক্ষে জমির প্রতিবেদন দিচ্ছেন। ঘুষ না পেলে ঘটে বিপত্তি। অনুসন্ধান করে এমন অসংখ্য অভিযোগ জানা গেছে তার বিরুদ্ধে।

মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে প্রতিবেদন নিয়েছেন এমন কয়েকজন ভুক্তভোগী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ারের সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া এখানের কোনও জমি বেচাকেনা করা যায় না। এই সুযোগ নিচ্ছেন সার্ভেয়ার। খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজা ঠিক থাকা সত্ত্বেও জমির পরিমাণ বুঝে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ চান। টাকা না দিলে বছরেও প্রতিবেদন দেন না সার্ভেয়ার। শেষমেশ বাধ্য হয়ে সবাই ঘুষ দিচ্ছেন। আবার কেউ এসব নিয়ে কথা বললে কিংবা প্রতিবাদ জানালে তাকে হয়রা‌নির শিকার হতে হয়। জমিও হারাতে হয়। এসব নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবগত করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান ।

নিজের জমি বিক্রি করার জন্য সার্ভেয়ারের কাছে সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় জমি হারিয়ে একাধিক জমি মালিক বলেন, তাদের খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজায় কোনও ভুল ছিল না। কেনা জমিটির সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও আরেকজন‌কে জায়গার প্রতিবেদন দিয়ে দখল দিয়েছেন সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান।

একইভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন জেলা সদরের একাধিক বাসিন্দা । তারা বলেন, ‘তাদের জায়গার শুনা‌নিতে তাদেরকে ছাড়াই ক্রেতা‌কে প্রতিবেদন দেওয়ায় জ‌মিটি হারাতে হ‌য়ে‌ছে। এমন দুর্নীতিবাজ সা‌র্ভেয়ার জীবনেও দেখিনি বলেও অনেকে মন্তব্য করেন ।

চুরখাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান এর চাহিদামতো ঘুষ না দিলে বলা হয়, জমির কাগজপ‌ত্রে নানা সমস্যা। এসব ঠিক করতে টাকা লাগবে। টাকা দিলে সব ঠিক। না হয় মাসের পর মাস হয়রা‌নি ক‌রেন। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে উপজেলার সব গ্রাহককে হয়রানি করে ঘুষ নিচ্ছেন হুমায়ুন কবির খান।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান-আমার একটা জমির ফাইল প্রায় ৮ মাস ধ‌রে সার্ভেয়ার হুমায়ুনের কা‌ছে প‌ড়ে আছে । তিনি বলেন, ‘এখনও রিপোর্ট দেয় নাই। এর আগের এসিল্যান্ড বলার পরও নানা কথা বলে ঘুরাচ্ছেন সার্ভেয়ার। শেষে আমার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা চেয়েছেন। দি‌তে পা‌রি‌ নাই। তাই আজও রিপোর্ট দেয়নি। জমির কাগজপত্র সব ঠিক থাকার পরও রি‌পোর্ট দেয় না। টাকা ছাড়া দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি এত টাকা পাবো কোথায়? এত টাকা আমার কাছে থাকলে কী আর জমি বিক্রি করতে চাইতাম।’

অবশ্য সাধারণ মানুষের এসব ভোগান্তিকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না সদ‌র উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবির খান ।

জমির প্রতিবেদন নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান মুঠোফোনে বলেন তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগের অস্বীকার করেন, সত্য নয় বলে জানান।

সুত্র জানা যায় সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান এর আগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা ভূমি অফিসে পরে সেখান থেকে ফুলবাড়িয়ায় বদলী হন। দায়িত্ব প্রাপ্ত এই দুই উপজেলায় তার দায়িত্ব পালনে অনিয়ম দুর্নীতির সমালোচনা থাকায় বেশীদিন টিকে থাকতে পারেননি। সর্বশেষ তিনি ফুলবাড়িয়ায় অনিয়ম দুর্নীতি করে সমালোচিত হয়ে সেখানকার সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের তুপে পড়ে সদর উপজেলায় যোগদান করেন। তার দেশের বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায়।

এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৬ জানুয়ারি এশিয়ান টেলিভিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়।নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান।

হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে রূপায়ণ গ্রুপ আবাসন ও শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।এছাড়াও তিনি দেশের জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর এবং দেশ রেডিও-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গণমাধ্যম ও শিল্পখাতে তার বহুমাত্রিক ভূমিকা তাকে একজন সফল সংগঠক ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।

মিডিয়া খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর নির্বাচিত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।তার নেতৃত্বে এশিয়ান টেলিভিশন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং বস্তুনিষ্ঠ, মানসম্মত ও দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠান উপহার দেবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের

ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা: ওয়াকিটকি-হাতকড়াসহ ৫ ভুয়া ডিবি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেটসহ পাঁচজন ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার সতেরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (২৭), ধরিলামধ্যপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান রনি (২৪), ছলিমপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫), একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) এবং ফুলবাড়িয়া পৌরসভার আ. মতিনের ছেলে সরোয়ার আলম (২১)।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত-১০) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত চার যুবক কামাল ও হারুন নামের দুই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন ও আশরাফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ রাতেই ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভুয়া ডিবি পুলিশের পাঁচটি পরিচয়পত্র, দুটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট, দশটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ, সাতটি মোবাইল ফোন, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি মনিটর ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকায় একটি মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভুয়া অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় এই চক্র। সর্বশেষ বুধবার রাতে একই কৌশলে কামাল ও হারুনকে টার্গেট করে তারা।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি একটি আন্তঃজেলা প্রতারক দল। তারা ডিবি পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, “চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

ময়মনসিংহে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
ময়মনসিংহে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী গ্রেফতার

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় বিদেশি পিস্তল, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার উথুরা ও হাটুরিয়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে, একটি বিদেশি পিস্তল (মেইড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড তাজা অ্যামুনিশন, একটি পিস্তল সদৃশ লাইটার এবং ২০টি দেশীয় অস্ত্র।

গ্রেফতাররা হলেন- গফরগাঁও ইউনিয়নের উথুরী গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (৩৫), তার ভাই মো. সাব্বির (২৩) এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন (৩৬)। কামরুল ও সাব্বির দুজনই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় উথুরী গ্রামের একটি বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র মজুত রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে কামরুল ইসলাম ও তার ভাই সাব্বিরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ওই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয় এবং দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে গ্রেফতারি পরোয়াভুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনকেও আটক করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুললাহ্ আল মামুন বলেন, “গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”