বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কবি নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১২:২০ এম
কবি নজরুল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বসাহিত্যের দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর জীবনবোধ ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব।’

শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং জাতীয়তাবাদের প্রতীক।’

তিনি বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকার মিরপুরের আলোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যু আমাদের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ। এ ধরনের শিশু বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। শিশুটির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।’

একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের জাতীয় জীবনে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘নজরুল স্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কবি নজরুল বিষয়ে গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজনকে ‘নজরুল পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান এবং স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবিপৌত্রী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী এবং ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং নজরুল মেলা পরিদর্শন করেন।

এর আগে দুপুরে ত্রিশাল উপজেলায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে খালটি খনন করেছিলেন। প্রায় ৪৭ বছর পর পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি খালপাড়ে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।

খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো অন্যায়কারীর বিচার করতে হলে সরকারকে নিয়ম ও আইন মেনে চলতে হয়। কিন্তু কিছু মানুষ রাস্তাঘাট বন্ধ, যান চলাচলে বাধা ও উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে আইনের শাসন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও দেশে কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু যারা আজ উচ্চকণ্ঠ, তাদের অনেককেই তখন মাঠে দেখা যায়নি।’

অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে খেটে খাওয়া মানুষ।’

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম ও স্কুলব্যাগ বিতরণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক ও ব্যাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজ চলছে। ইনশা আল্লাহ, জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর কাছে নতুন পোশাক ও স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়া হবে।’

ধরার খাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কৃষক এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। সমগ্র ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রয়োজন রয়েছে।’

পরে বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ দক্ষিণ ও উত্তর জেলা বিএনপি এবং মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ পিএম
ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশ ও নিয়মিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নগরীর প্রভাবশালী ইয়াবা ও হেরোইন কারবারিদের কাছ থেকে প্রশাসনের নামে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক এসআই মাসুদ ও এক সদস্য সালমানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সদর পরিদর্শক আমিনুন কবির বদলির পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অভিযোগকারীদের দাবি, নগরীর শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান বা গ্রেপ্তার দেখা যায় না।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ নগরীতে অন্তত ২০ জন প্রভাবশালী মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারবারি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে মাদক সরবরাহ করে থাকে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কেওয়াটখালী, পাটগুদাম, পুরোহিতপাড়া, সানকিপাড়া, রহমতপুর, আকুয়া, চুখাইতলা ও ওয়ারলেস গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন কথিত মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নগরীতে প্রায় ৩০০ ছোট-বড় মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে খুচরা কারবারিদের আটক করা হলেও শীর্ষ পর্যায়ের কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নগরীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু মাদক ব্যবসায়ী দম্ভের সঙ্গে দাবি করে যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকায় তারা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহে জলাবদ্ধতার মর্মান্তিক বলি, ঘরে জমে থাকা পানিতে ডুবে ৮ মাসের শিশু আরিয়ানের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে জলাবদ্ধতার মর্মান্তিক বলি, ঘরে জমে থাকা পানিতে ডুবে ৮ মাসের শিশু আরিয়ানের মৃত্যু

ময়মনসিংহ নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় ঘরের ভেতর জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে আরিয়ান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শিশুটির পরিবারের ঘরের ভেতরে পানি জমে যায়। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে একপর্যায়ে সেই পানিতে ডুবে যায় আরিয়ান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ময়মনসিংহ নগরীতে বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন এবং নালা-নর্দমার অকার্যকারিতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি এবার একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল।

নগরবাসীর দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

মিঠামইনে টানা বৃষ্টিতে সড়ক যেন ‘ব্রিজ’, ধসের ঝুঁকিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম
মিঠামইনে টানা বৃষ্টিতে সড়ক যেন ‘ব্রিজ’, ধসের ঝুঁকিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা

টানা অতি বৃষ্টি ও অসাধু মৎস্যচাষীদের অবৈধভাবে বসানো পাইপের কারণে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন কার্যত ‘ব্রিজে’ পরিণত হয়েছে। সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে পুরো সড়কটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকার গোস্বামী আখড়ার পাশের সড়কটির বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক। এক পাশে নদী, অন্য পাশে মাছের পুকুর। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের জমে থাকা পানি সড়কের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মাটি ধুয়ে নিয়ে গেছে। এতে গোস্বামী আখড়া থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নিচে বড় ধরনের ফাঁকা সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর মাছের পুকুরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের নিচ দিয়ে অবৈধভাবে পাইপ বসানো হয়েছিল। ওই পাইপ দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সড়কের নিচের বালু ও মাটি সরে গিয়ে ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধসে যাওয়া অংশের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মোকাররম হোসেন খোকা বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, আমাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এই পথ দিয়েই আমরা বাজারে যাই, কৃষিপণ্য পরিবহন করি। রাস্তা ভেঙে গেলে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে সড়কের ক্ষতি করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, এই সড়কটি এলাকার বহু পরিবারের জীবিকা ও যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন।

তিনি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার, অবৈধ পাইপ অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।