সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ময়মনসিংহে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৯ ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আতাউল কিবরিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহের চব্বিশে জুলাই শহিদ সাগর এর বাবা মোঃ আসাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডল প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। এছাড়াও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের প্রবীণ ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনায় মুক্তিযোদ্ধা বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা বেতারে তৎকালীন মেজর জিয়ার ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা শুনে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। চট্টগ্রামের হালিশহরে ইপিআরে কর্মরত অবস্থায় ২৫ মার্চ রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণ জনগণ এবং ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা শহিদ জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে এ মাতৃভূমিকে মুক্ত করেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যে বৈষম্যহীন ও ন্যায় ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, সরকার যেন তার পরিপূর্ণ বাস্তবতায়ন করেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এ জাতির সূর্য সন্তান। তাদের এ ঋণ কখনোই ভুলবার নয়। মুক্তিযোদ্ধারা যে আদর্শ বুকে ধারণ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, দেশকে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হলে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ এ যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তারা কোনো লাভের আশায় যান নি, গিয়েছিলেন স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বৈষম্য দূর করাট জন্য তারা অনিশ্চিত জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি নয়, বুকে ধারণ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই ময়লাযুক্ত পলিথিন সাততলার উপর থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় নয়। যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ নগরী গড়ে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালে ছাত্র জনতা, কৃষক শ্রমিক, সাধারণ জনগণ অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও অবদান কখনোই ভুলবার নয়। এই দেশ, এই স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকা আপনাদের আত্মত্যাগের ফসল। এ স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগ তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

প্রধান অতিথি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ সারিতে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি দেশ পরিচালনা করছেন, ইতোমধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আমরা তার এ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সহযোগিতা করি। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

সভাপতি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা বয়সের ভারে নুঁজ হলেও মনের দিক থেকে চিরতরুণ, বজ্রকন্ঠ। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সম্পদ। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কেবল স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নয়, দায়িত্ব নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বির্নিমানে কাজ করে যেতে হবে। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ময়মনসিংহে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সিএনজি ও মাহেন্দ্র চালকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সিএনজি ও মাহেন্দ্র চালকদের মানববন্ধন

ময়মনসিংহে সিএনজি ও মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে এবং চালক-শ্রমিকদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্ত ইনসান গংদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান পরিবহন শ্রমিকরা।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে “ময়মনসিংহ সিএনজি ও মাহেন্দ্র ড্রাইভার ও কর্মচারীবৃন্দ”-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকরা অভিযোগ করেন, স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ড্রাইভার রানা ও লাইনম্যান কালনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার জন্য ইনসান ও তার সহযোগীদের দায়ী করেন তারা।

বিক্ষোভে চালকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ডে অবৈধভাবে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলেই হামলা ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে।

এ সময় বক্তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. স্ট্যান্ডে অবৈধ ও অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধ করা,

২. চালক রানা ও লাইনম্যান কালনের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার,

৩. দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা,

৪. পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া

সি পার্লের সাগরবিলাসে ডুবছে রাষ্ট্রীয় অর্থ!

চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:২০ পিএম
চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

কক্সবাজারের ইনানি সৈকতে সাগরের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট’। বাইরের চাকচিক্য আর রমরমা ব্যবসার আড়ালে এবার সামনে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। মানুষের আমানতের টাকা নিয়ে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ফাঁদে ফেলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের মূল হোতা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু। তিনি সি পার্ল রিসোর্টের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৭ সালে আইসিবিকে ৩২৫ কোটি টাকার বন্ডে বিনিয়োগে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ৮ বছর মেয়াদি ওই বিনিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ১০ শতাংশ সুদে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ষান্মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সি পার্ল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় ৩২৫ কোটি টাকার মূল বিনিয়োগ সুদে-আসলে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৯৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৬ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এখনো পাওনা আইসিবির।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু কিস্তি খেলাপিই নয়, বন্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তও লঙ্ঘন করেছে সি পার্ল কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী ২০ শতাংশ শেয়ার রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। ঋণের বিপরীতে সম্পদের ওপর প্রথম চার্জ সৃষ্টি বা বন্ধকীকরণও সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে আইসিবির বিনিয়োগ কার্যত অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি বিলম্বে কিস্তি পরিশোধের অতিরিক্ত সুদের শর্তও নানা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, বছরজুড়ে পর্যটকে ভরা ও রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করা একটি রিসোর্ট কেন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছে না? আইসিবির একাধিক সূত্র বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবির এক কর্মকর্তা জানান, সি পার্ল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আটকে থাকায় আইসিবি নিজেও আর্থিক চাপে পড়েছে।

সি পার্লের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স লিমিটেড’-এর কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় কয়েকশ সন্ত্রাসী নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে কারখানা দখল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দখলবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছে কীভাবে শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ অনুমোদন পেল? রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে দেশের আর্থিক খাত কতটা জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সি পার্লের এই বন্ড কেলেঙ্কারি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের একটি সুপরিকল্পিত চিত্র, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রভাব এবং আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই স্বজনদের ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পরিবার ও পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

জানা গেছে, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত ও বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। তাদের মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। অপরদিকে শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়। সেগুলোর সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্র ও ঘটনাস্থলের আলামত গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।