বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে সাইফুল ও তার সহযোগীরা। চাঁদার দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়ে তারা নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি আহত হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১:৩৮ এম
ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) কাজ করার সময় ভবনের অষ্টম তলার মাচাং ভেঙে নিচে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কলেজ রোড এলাকার ১০ তলা নির্মাণাধীন এনায়েত চৌধুরী ভবনে নির্মাণকাজ চলাকালে অষ্টম তলায় কর্মরত দুই শ্রমিক হঠাৎ মাচাং ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত শ্রমিকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে সেফটি বেল্ট পাওয়া গেলেও শ্রমিকরা তা ব্যবহার করেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং নির্মাণকাজে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শ্রমিকদের স্বজনদের খোঁজে কাজ করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মিঠামইনের হাওরে নৌ-ডাকাতি: আন্তজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, নৌকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম
মিঠামইনের হাওরে নৌ-ডাকাতি: আন্তজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, নৌকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের হাওরে যাত্রীবাহী নৌকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং রামদা-বল্লমসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার সাভার, কামরাঙ্গীরচর এবং মিঠামইন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মিঠামইন উপজেলার কাটখাল কাজীপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. জুলহাস উদ্দিন (৪৪), বজকপুর গ্রামের মো. হারেছ মিয়ার ছেলে ইছানুল হক ওরফে এহসানুল হক ফকির (২৬) এবং বড়কান্দা মধুপুর গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৭ জুন মিঠামইন নৌঘাট থেকে ২০-২২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা করিমগঞ্জের বালিখলা নৌঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসানপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌকাটি প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নৌকাটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। এ সময় ১০-১২ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসে যাত্রীবাহী নৌকার গতি রোধ করে।

ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৫ জুন নৌকার মাঝি জামাল মিয়া বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলা দায়েরের পর মিঠামইন থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপে ১৫ জুন দুপুরে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে ইছানুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর থেকে মো. জুলহাস উদ্দিনকে আটক করা হয়।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ওই রাতেই মিঠামইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দলের আরেক সদস্য রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে ডাকাতদের গোপন আস্তানা থেকে লুণ্ঠিত পাঁচটি মোবাইল ফোন (এর মধ্যে একটি বাটন ফোন), ডাকাতিতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌকা, রামদা, লোহার রড এবং ছোট-বড় ২০টি বল্লম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান প্রচারের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ, টিঅ্যান্ডটি কলেজের অধ্যক্ষকে শোকজ

এম. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:১০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান প্রচারের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ, টিঅ্যান্ডটি কলেজের অধ্যক্ষকে শোকজ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলেজটির গভর্নিং বডি। ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে অধ্যক্ষকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত ৭ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি এবং ১২ হাজার শিক্ষকের আইসিটি-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অথচ অনুষ্ঠানটি বড় পর্দা বা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি প্রদর্শনের নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনুষ্ঠানটি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

গভর্নিং বডির সভাপতির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান প্রদর্শনের ব্যবস্থা না করা এবং শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি অবহেলার শামিল। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে বিষয়টি অবহিত না করা অধ্যক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার পরিচায়ক বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি, যা প্রশাসনিক শিষ্টাচার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আগামী ১৬ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে যে, কেন এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়নি এবং কেন সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়নি।

এ ঘটনায় শিক্ষা অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অধ্যক্ষের এমন দায়িত্বহীনতা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে টিঅ্যান্ডটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে যে উদ্যোগের সূচনা করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও কেন আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের সেই অনুষ্ঠান সরাসরি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলো, তা বোধগম্য নয়। কেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকদের এ আয়োজনে সম্পৃক্ত করা হলো না, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। একজন অধ্যক্ষের কাছে যে দায়বদ্ধতা ও দূরদর্শিতা প্রত্যাশিত, এখানে তার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। টিঅ্যান্ডটি কলেজ একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা স্বেচ্ছাচারিতা বরদাশত করা হবে না।”